জাতীয় পে-কমিশনের সদস্যরা নবম পে-স্কেলের সুপারিশ জমা দিতে বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে যান। বিকেল ৫টায় তারা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে বসেন। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ও পে-কমিশন সূত্র জানায়, বৈঠকে কমিশনের পক্ষ থেকে পে-স্কেলের সুপারিশসংক্রান্ত সব বিষয় বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। বিকেল ৫টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে কমিশনের সদস্যদের বের হতে দেখা যায়নি, যা থেকে বোঝা যায় বৈঠকটি তখনো চলমান ছিল।
নবম জাতীয় পে-স্কেলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যাতায়াত ভাতা সংক্রান্ত একটি পরিবর্তনের সুপারিশ করা হচ্ছে। বর্তমানে ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা যাতায়াত ভাতা পেয়ে থাকেন। নতুন পে-স্কেলে এই সুবিধা ১০ম গ্রেড পর্যন্ত সম্প্রসারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে যাতায়াত ভাতার পরিমাণ আগের মতোই রাখার সুপারিশ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
সূত্র অনুযায়ী, নবম পে-স্কেলে শুধু কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নয়, পেনশনভোগীদের পেনশনও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। যেসব পেনশনভোগী মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পান, তাদের পেনশন দ্বিগুণ বা ১০০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। মাসে ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে পেনশন ৭৫ শতাংশ বাড়বে এবং যাদের পেনশন ৪০ হাজার টাকার বেশি, তাদের জন্য ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।
এছাড়া বয়সভিত্তিক চিকিৎসা ভাতার ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের প্রস্তাব এসেছে। ৭৫ বছরের বেশি বয়সী পেনশনভোগীদের জন্য চিকিৎসা ভাতা বাড়িয়ে ১০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে, যেখানে বর্তমানে এ ভাতা ৮ হাজার টাকা। অন্যদিকে ৫৫ বছরের কম বয়সী পেনশনভোগীদের জন্য ৫ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে সরকার বেতন ও ভাতা খাতে অতিরিক্ত ২২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়িয়েছে। জানুয়ারি থেকে নতুন বেতন কাঠামো আংশিকভাবে বাস্তবায়নের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে বেতন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়নে ৭০ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে।
প্রস্তাবিত কাঠামোয় নিম্নগ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা তুলনামূলকভাবে বেশি বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে আংশিকভাবে এবং আগামী জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল পুরোপুরি কার্যকর হতে পারে। এ লক্ষ্যেই প্রাথমিকভাবে ২২ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো প্রণয়নের লক্ষ্যে গত বছরের ২৭ জুলাই জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করা হয়। কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সাবেক অর্থসচিব ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান।
Leave a Reply