নবম জাতীয় পে-স্কেল চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) শেষ সভায় বসছে সরকার গঠিত পে কমিশন। দুপুর ১২টায় সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পুরোনো ভবনের সম্মেলন কক্ষে পূর্ণ কমিশনের এই সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভা শেষে বিকেল ৫টায় কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি প্রধান উপদেষ্টার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হবে।
কমিশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান সদস্যদের নিয়ে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই প্রতিবেদন জমা দেবেন এবং এ সময় অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ উপস্থিত থাকবেন বলে মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, নতুন এই পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের গড় বেতন ১০৫ শতাংশ বাড়ানোর জোরালো সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনযাত্রার মান বিবেচনায় তাদের বেতন-ভাতা ১৪০ শতাংশ বাড়িয়ে বর্তমানের ১৮ হাজার টাকা থেকে ৪২ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হতে পারে। একই সঙ্গে ১ নম্বর গ্রেডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বেতন ৮০ শতাংশ বাড়িয়ে ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা করার সুপারিশ থাকতে পারে। পে-স্কেলটি বাস্তবায়নে সরকারের প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকার বিশাল অংকের অর্থের প্রয়োজন হলেও বর্তমানে বাজেটে এর চেয়ে অনেক কম বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
কমিশনের একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন যে, সর্বশেষ বৈঠকে গড় বেতন ১০৫ শতাংশ বৃদ্ধির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই সুপারিশে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে পেশাজীবীদের ওপর। কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী শিক্ষক, গবেষক, চিকিৎসক, বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীরা মূল বেতনের বাইরে বিশেষ ভাতা পাবেন। এক্ষেত্রে একই গ্রেডভুক্ত কর্মকর্তাদের মূল বেতন সমান হলেও কর্মক্ষেত্রের গুরুত্ব বিবেচনায় তাদের জন্য বাড়তি কিছু ভাতার সুপারিশ রাখা হয়েছে। আজকের সভায় চূড়ান্ত অনুমোদনের পরই প্রতিবেদনটি সরকারের উচ্চপর্যায়ে হস্তান্তর করা হবে।
Leave a Reply