নবম জাতীয় পে-স্কেলে বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব স্তরের শিক্ষকদের জন্য আলাদা বেতন কাঠামো বা স্বতন্ত্র বেতন স্কেলের দাবি দীর্ঘদিনের। শুরুতে এ দাবি নিয়ে পে-কমিশন ইতিবাচক মনোভাব দেখালেও সুপারিশ চূড়ান্ত করার একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে শিক্ষকদের জন্য এসেছে বড় ধরনের হতাশার খবর। কমিশন স্পষ্ট করে জানিয়েছে, স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো নিয়ে তারা কোনো সুপারিশ দেবে না।
রবিবার (১১ জানুয়ারি) পে-কমিশনের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, শিক্ষকদের স্বতন্ত্র বেতন কাঠামোর দাবি যৌক্তিক হলেও এটি পে-কমিশনের এখতিয়ারভুক্ত বিষয় নয়। পে-কমিশনের কাজ মূলত বিদ্যমান বেতন গ্রেড ও কাঠামো পর্যালোচনা করে সে বিষয়ে সুপারিশ প্রদান করা। শিক্ষকদের জন্য আলাদা বেতন স্কেল প্রণয়নের বিষয়টি সার্ভিস কমিশনের আওতাধীন, ফলে এ বিষয়ে পে-কমিশনের করণীয় কিছু নেই।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পে-কমিশনের এক সদস্য বলেন, শিক্ষকদের স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো বিষয়ে কমিশন কোনো সুপারিশ করবে না। এ বিষয়ে সুপারিশ করার এখতিয়ার পে-কমিশনের নেই বলেই তারা এ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন।
এদিকে পে-কমিশন যদি স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো নিয়ে কোনো সুপারিশ না করে, তাহলে নির্বাচিত সরকারের কাছে এ দাবি উত্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব)-এর সভাপতি ও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম। তিনি বলেন, পে-কমিশনের কাছে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে স্বতন্ত্র বেতন স্কেলের দাবি জানানো হয়েছিল এবং কমিশনের চেয়ারম্যান বিষয়টি ইতিবাচকভাবেই দেখেছিলেন। এখন যদি এ বিষয়ে কোনো সুপারিশ না করা হয়, তাহলে তা অত্যন্ত দুঃখজনক হবে।
অন্যদিকে নবম পে-স্কেলের সুপারিশ চূড়ান্ত করতে আগামী ২১ জানুয়ারি পূর্ণ কমিশনের সভা আহ্বান করেছে পে-কমিশন। এর আগে আরও একটি সভা হওয়ার কথা রয়েছে। এসব সভায় আলোচনা শেষে কমিশন তাদের চূড়ান্ত সুপারিশ প্রস্তুত করে সরকারের কাছে জমা দেবে বলে জানা গেছে।
Leave a Reply