এমপিওভূক্ত বেসরকারি স্কুল ও কলেজে কর্মরত প্রায় পৌনে চার লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর ডিসেম্বর মাসের বেতন চলতি সপ্তাহের মধ্যে পাওয়ার কোন সম্ভাবনা নাই। এই বেতন পরিশোধ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে আগামী বুধবারের (৭ জানুয়ারি) মধ্যে জিও বা সরকারি আদেশ জারি হওয়া জরুরি ছিল। কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয় গত বুধবারের মধ্যে জিও জারি করতে পারেনি বিধায় এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন এ সপ্তাহে আর হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গিয়েছে।
জানা গেছে, ১৯ হাজার ৮২৫টি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (স্কুল-১৭ হাজার ২০৩ ও কলেজ-২ হাজার ৬২২) মোট ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৬৮৯ জন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত। ফলে ডিসেম্বর মাসের ১ম ধাপে স্কুলের ৩ লাখ ১২২২ জন শিক্ষক-কর্মচারীর ও কলেজের ৮৮ হাজার ৩৪ জন শিক্ষক-কর্মচারীর জিও জারি হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মূল বেতন, বাড়িভাড়া ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, বিশেষ সুবিধা।
বলা হয়েছে, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের (স্কুল ও কলেজ) এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ডিসেম্বর মাসের (লট ১) বেতন ও ভাতাদির সরকারি অংশ (এক হাজার ৩৫ কোটি ২৩ লাখ চারশত সাতাশ টাকা চার পয়সা) টাকা ইএফটির মাধ্যমে প্রেরণের জন্য নির্দেশক্রমে সরকারি মঞ্জুরি জ্ঞাপন করা হলো।
এর আগে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। মন্ত্রণালয় অনুমোদনের পর জিও জারি হলো।
এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন প্রদান প্রতি মাসেই সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানরা অনলাইনের মাধ্যমে বেতনের বিল দাখিল করেন। ওই বিল প্রথমে যাচাই-বাছাই করা হয় এবং এরপর অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় অর্থ ছাড়ের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। শেষ ধাপে অর্থ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর বেতন-ভাতার টাকা ব্যাংকে পাঠানো হয়, যা পরবর্তীতে শিক্ষক-কর্মচারীদের নিজ নিজ হিসাব নম্বরে জমা হয়।
উল্লেখ্য, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা সময়মতো ও নিয়মিত প্রদান নিশ্চিত করতে সরকার ডিজিটাল বিল দাখিল ও অনুমোদন ব্যবস্থা চালু করেছে। এই ডিজিটাল পদ্ধতির ফলে বেতন-ভাতা প্রক্রিয়াকরণ এখন আরও স্বচ্ছ, দ্রুত ও জবাবদিহিমূলক হয়ে উঠেছে, যা শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রত্যাশিত আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
Leave a Reply