বেসরকারি স্কুল ও কলেজে কর্মরত ইনডেক্সধারী শিক্ষকদের বদলি নীতিমালায় গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন এনেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে, নিজ জেলায় কর্মরত শিক্ষকরা আর বদলির সুযোগ পাবেন না। অর্থাৎ যারা বর্তমানে নিজ জেলায় কর্মরত, তারা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে যেতে চাইলে বদলি সুবিধা ভোগ করতে পারবেন না। মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের একটি সূত্র জানায়, এই সংশোধিত নীতিমালায় প্রতিষ্ঠান প্রধান ও অধ্যক্ষদের বদলির সুযোগ রাখা হয়নি। তবে সহকারী অধ্যাপক পদে কর্মরত শিক্ষকরা বদলির আওতায় আসবেন, যা পূর্ববর্তী কাঠামোর তুলনায় একটি নতুন সংযোজন।
সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতি বছর সর্বোচ্চ দুইজন শিক্ষক বদলির সুযোগ পাবেন। বদলি বিবেচনায় তিনটি মানদণ্ডকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে—প্রথমত নারী শিক্ষককে বিশেষ অগ্রাধিকার, দ্বিতীয়ত কর্মস্থলের দূরত্ব (অর্থাৎ যাদের কর্মস্থল বেশি দূরে), এবং তৃতীয়ত জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সূত্র আরও জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে আগামী মার্চ মাস থেকে এই বদলি কার্যক্রম বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সংশোধিত বদলি নীতিমালা খুব শিগগিরই জারি করা হবে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে ফাইল প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং আগামী ২০ জানুয়ারির মধ্যে নীতিমালা প্রকাশের লক্ষ্য ধরা হয়েছে। নীতিমালা জারি হওয়ার পর প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার প্রস্তুত সম্পন্ন হলেই বদলি কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হবে।
প্রসঙ্গত, এনটিআরসিএর সুপারিশে নিয়োগ পাওয়া ইনডেক্সধারী শিক্ষকদের আগে নিয়মিত বদলির কোনো সুযোগ ছিল না। তারা কেবল প্রকাশিত গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের আবেদন করতে পারতেন। প্রথম থেকে তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তি পর্যন্ত এ সুযোগ থাকলেও চতুর্থ গণবিজ্ঞপ্তি থেকে তাদের আবেদন করার পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে শিক্ষকদের ধারাবাহিক আন্দোলন ও দাবির প্রেক্ষিতে বদলি ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সেজন্য একটি নীতিমালাও প্রণয়ন করা হয়। তবে রিট মামলা, সফটওয়্যার প্রস্তুত না হওয়া এবং নীতিমালা সংশোধনের মতো বিভিন্ন জটিলতায় এখনো বদলি কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা যায়নি। ফলে দীর্ঘদিন অপেক্ষায় থাকা বহু শিক্ষক এ পরিস্থিতিতে হতাশা প্রকাশ করেছেন।
imranhossainatbs@gmail.com