বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদগুলো—অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া সংস্কার ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আরও স্বচ্ছ করার উদ্দেশ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) এক যৌথ সভা করেছে। সভায় বিস্তারিত আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয়—এ বিষয়ে একটি কর্মশালা আয়োজন করা হবে এবং সেই কর্মশালার সুপারিশের ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট নীতিমালা চূড়ান্ত করে জারি করা হবে। অর্থাৎ, নীতিগতভাবে নীতিমালা জারির বিষয়ে সম্মতি দেওয়া হলেও তার আগে কর্মশালায় মতবিনিময় ও পর্যালোচনার একটি ধাপ যুক্ত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে শুরু হয়ে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলা এ সভায় সভাপতিত্ব করেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন। সভায় মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং এনটিআরসিএর শীর্ষ পর্যায়ের দায়িত্বশীলরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন—অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক-২) মো. মিজানুর রহমান, এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম, যুগ্মসচিব (মাধ্যমিক-২) মো. হেলালুজ্জামান সরকার, উপসচিব (বেসরকারি মাধ্যমিক-৩) সাইয়েদ এ. জেড. মোরশেদ আলী, উপসচিব (বেসরকারি মাধ্যমিক-১) হুরে জান্নাত, এনটিআরসিএ পরিচালক (শিক্ষাতত্ত্ব ও শিক্ষামান) তাসনিম জেবিন বিনতে শেখ, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পিআইইউ) প্রকৌশলী মো. মাকসুদুর রহমান এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি।
সভায় উপস্থিত এক কর্মকর্তা জানান, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে নিয়োগ সংক্রান্ত যে খসড়া নীতিমালা প্রস্তুত করা হয়েছে, সেটিই মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল। তিনি আরও বলেন, খসড়া প্রস্তাবটি বাস্তবতা ও প্রয়োগযোগ্যতার দিক থেকে আরও যাচাই করতে একটি বিশেষ কর্মশালা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কর্মশালায় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মতামত ও সুপারিশ সংগ্রহ করা হবে এবং সেগুলো বিবেচনায় নিয়ে খসড়াটি চূড়ান্ত করা হতে পারে।
খসড়ায় পরিবর্তনের সম্ভাবনা আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা জানান, বর্তমান সভায় খসড়ায় সংশোধন বা পরিবর্তনের বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। বরং কর্মশালায় এ বিষয়ে মতামত উত্থাপিত হতে পারে। এ ছাড়া বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে একটি বোর্ড গঠন করা হয়েছে, এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের এখতিয়ার মূলত ওই বোর্ডের ওপরই ন্যস্ত রয়েছে।
খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, সুপারিনটেনডেন্ট ও সহকারী সুপারিনটেনডেন্টসহ প্রধান পদে নিয়োগ সুপারিশের পুরো প্রক্রিয়াটি এনটিআরসিএ পরিচালনা করবে। সর্বশেষ জারিকৃত এমপিও নীতিমালার আলোকে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে শূন্য পদের চাহিদাপত্র অনলাইনে এনটিআরসিএর কাছে প্রেরণ করতে হবে।
চাহিদাপত্র যাচাই-বাছাই শেষে সংশ্লিষ্ট পদে নিয়োগের জন্য প্রার্থীদের লিখিত ও মৌখিক উভয় ধরনের পরীক্ষার মাধ্যমে বাছাই করা হবে। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বরের কাঠামো, বিষয়বস্তু এবং সময়সূচি নির্ধারণ করবে এনটিআরসিএ। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে প্রার্থীদের কমপক্ষে ৫০ শতাংশ নম্বর অর্জন বাধ্যতামূলক থাকবে। লিখিত পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে প্রতিটি পদের শূন্যপদের তিন গুণ প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ডাকা হবে।
পরবর্তী ধাপে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার প্রাপ্ত নম্বরের সমন্বয়ে মেধাক্রম অনুসারে একটি প্যানেল তালিকা প্রস্তুত করা হবে। ওই তালিকা থেকে শূন্য পদের সমসংখ্যক প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত বলে বিবেচনা করা হবে। খসড়ায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে—পরীক্ষার ফলাফল ও কৃতকার্যতা নির্ধারণে এনটিআরসিএর সিদ্ধান্তই হবে চূড়ান্ত।
এ ছাড়া নির্বাচিত প্রার্থীদের অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে এবং যাচাই-বাছাই শেষে প্রতিটি শূন্য পদের বিপরীতে একজন করে প্রার্থীকে নিয়োগ সুপারিশ দেওয়া হবে। কোনো কারণে নির্বাচিত প্রার্থী যোগদান না করলে—প্রাতিষ্ঠানিক বা চাহিদাজনিত যে কারণই হোক—তখন প্যানেল তালিকায় মেধাক্রম অনুযায়ী পরবর্তী প্রার্থীকে নিয়োগ সুপারিশ প্রদান করা হবে। সুপারিশ জারির পর এনটিআরসিএ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করবে এবং নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডিকে এক মাসের মধ্যে নিয়োগপত্র প্রদান করতে হবে।
খসড়ায় আরও বলা হয়েছে—প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা যদি জনবল কাঠামোর নির্ধারিত মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়, তবে তিনি নিয়োগ সুপারিশের জন্য অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবেন। একইভাবে, যদি কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে আদালতে বিচারাধীন কোনো ফৌজদারি মামলা থাকে, তাহলেও তাকে অযোগ্য ঘোষণা করা হবে—এ বিষয়টি খসড়ায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সহকারী প্রধানদের পদোন্নতি দিয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ পূরণ করা হোক! নাহয় এনটিআরসিএ পদ্ধতি সময় সাপেক্ষ মনে হচ্ছে। তাহলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে।
আপনার মতামত ভাল কিন্তু সচিবরা তা হতে দিবে না।
এনটিআরসিএ,মন্ত্রণালয়ের সভার সিদ্ধান্তকে স্বাগতম জানাই।কোন পদন্নোতি নয়।কুক্ষিগত করেছে দেশটাকে। যোগ্যতার ভিত্তিতে আসুক,কোনো আপত্তি নেই। এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগ হলে যোগ্যপ্রার্থীরাই নিয়োগ পাবে