আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বহুল প্রত্যাশিত বদলি কার্যক্রম আপাতত শুরু হচ্ছে না। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ, সফটওয়্যার উন্নয়ন এবং নীতিমালা সংশোধন—এসব প্রস্তুতিমূলক কাজ অব্যাহত রয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)-এর একাধিক কর্মকর্তা দৈনিক আমাদের বার্তাকে জানান, প্রক্রিয়া বন্ধ থাকলেও কাজ থেমে নেই; বরং ধাপে ধাপে কারিগরি অগ্রগতি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
কর্মকর্তারা জানান, বদলি কার্যক্রমকে সম্পূর্ণরূপে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনতে দফায় দফায় প্রকিউরমেন্ট মিটিং অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মাঠপর্যায় থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ, শিক্ষক ডাটাবেইস হালনাগাদ, শূন্যপদ যাচাই এবং প্রতিষ্ঠানভিত্তিক চাহিদা তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। তাদের ভাষায়, “বদলির মূল সিদ্ধান্ত কার্যকর না হলেও প্রস্তুতি থেমে নেই—ভবিষ্যতে যেন একবারেই কার্যক্রম চালু করা যায়, সে লক্ষ্যেই কাজ এগোচ্ছে।”
ডিজিটাল বদলি প্ল্যাটফর্ম বাস্তবায়নের জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটক লিমিটেড-কে কারিগরি সহায়তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তারা জানান, চুক্তির বেশিরভাগ প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে, যেকোনো সময় সফটওয়্যার-সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে।
তাদের মতে, সফটওয়্যারটি চালু হলে শিক্ষক বদলির আবেদন, যাচাই-বাছাই, মেধা ও অগ্রাধিকারভিত্তিক তালিকা প্রণয়ন—সবকিছুই একই প্ল্যাটফর্মে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হবে। এতে অনিয়মের সুযোগ কমবে, একই সঙ্গে প্রক্রিয়া হবে স্বচ্ছ ও অনুসরণযোগ্য।
তবে তারা স্পষ্ট করেন—
“চুক্তি সম্পন্ন হলেও নির্বাচনী সময়ের আগে বদলি কার্যক্রম চালু করা সম্ভব নয়, কারণ সরকারি পর্যায়ের স্বাভাবিক বদলিও এ সময়ে স্থগিত থাকে।”
সরকারি কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বদলি কার্যক্রম বিলম্বিত হওয়ার কয়েকটি মূল কারণ রয়েছে—
এসব কারণে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি, যদিও প্রস্তুতিমূলক কাজ অগ্রসর হচ্ছে।
আগে এনটিআরসিএর সুপারিশে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের বদলির সুযোগ ছিল না। প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের একমাত্র পথ ছিল গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আবেদন। প্রথম তিনটি গণবিজ্ঞপ্তিতে ইনডেক্সধারী শিক্ষকরা আবেদন করতে পারলেও চতুর্থ গণবিজ্ঞপ্তি থেকে আবেদন করা বন্ধ হয়ে যায়।
এতে অসন্তুষ্ট শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে বদলি সুবিধা পুনঃ চালুর দাবি জানিয়ে আসছেন। আন্দোলন ও দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সামগ্রিক বদলি ব্যবস্থাকে সর্বজনীন সফটওয়্যারে একীভূত করার উদ্যোগ নেয়।
সূত্র জানায়, প্রণীত খসড়া নীতিমালায় কয়েকটি অগ্রাধিকার ক্ষেত্র বিবেচনার প্রস্তাব রয়েছে, যেমন—
তবে এই অগ্রাধিকারসমূহ এখনও চূড়ান্ত নয়, নীতিমালা সংশোধনের পর সরকারি গেজেটে প্রকাশ করা হবে।
কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী—
তখনই প্রথম ধাপে পাইলট ভিত্তিক বদলি কার্যক্রম শুরু হতে পারে।
তারা আশা প্রকাশ করেন, কার্যক্রম চালু হলে শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ও অনিশ্চয়তা অনেকটাই কমে আসবে।
Leave a Reply