২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অন্তত দুই থেকে তিন মাস পেছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। সাধারণত এই পরীক্ষা ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু হয়ে মার্চের মধ্যে শেষ হয়ে যায়। তবে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কারণে অনেক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে। যেহেতু নির্বাচনের সময় এসব কেন্দ্রে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব নয়, তাই বোর্ড পরীক্ষা পেছানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে পরীক্ষার সম্ভাব্য সময় এপ্রিল মাসের শেষ দিক থেকে মে মাসের শুরু পর্যন্ত হতে পারে। পরীক্ষার চূড়ান্ত রুটিন এবং তারিখ বোর্ড মিটিংয়ের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে, যা চলতি বা আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, নানা কারণে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা পেছানো হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০২১ সালে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি এবং সেসাল ১৪ নভেম্বর থেকে পরীক্ষা শুরু হয়। ২০২২ সালের পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ সালে ৩০ এপ্রিল, এবং ২০২৪ সালে আবার স্বাভাবিক সময়ে, অর্থাৎ ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে। এই ধারাবাহিকতা বোঝায় যে, দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
২০২৬ সালের এই পেছানো পরীক্ষার কারণ মূলত জাতীয় নির্বাচন। তবে বোর্ড চেষ্টা করবে যাতে শিক্ষার্থীরা যথাযথভাবে প্রস্তুতি নিতে পারে এবং পরীক্ষার মান বজায় থাকে। অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার, আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক, জানিয়েছেন যে, বোর্ড মিটিংয়ে পরীক্ষার রুটিন, তারিখসহ সব বিষয় চূড়ান্ত করা হবে। তাই শিক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষার তারিখ এবং প্রস্তুতির পরিকল্পনা বোঝার জন্য বোর্ডের ঘোষণার অপেক্ষা করতে হবে।
সারসংক্ষেপে বলা যায়, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অন্তত তিন মাস পেছাবে, যার মূল কারণ জাতীয় নির্বাচন এবং ভোটকেন্দ্র হিসেবে বিদ্যালয় ব্যবহারের বিষয়। অতীতের অভিজ্ঞতা এবং বোর্ডের সিদ্ধান্তের আলোকে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি এবং পরিকল্পনা সামঞ্জস্য করতে হবে।
Leave a Reply