বেসরকারি স্কুল ও মাদরাসার যেসব এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী পাশাপাশি সাংবাদিকতা বা আইন পেশায় যুক্ত রয়েছেন, তাদের সুনির্দিষ্ট তালিকা চেয়ে জরুরি ভিত্তিতে তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে গাইবান্ধা জেলা শিক্ষা অফিস। সম্প্রতি জারি হওয়া বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা–২০২৫–এ স্পষ্ট বলা আছে, শিক্ষকেরা কোনো ধরনের আয়বর্ধক দ্বিতীয় পেশায় যুক্ত থাকতে পারবেন না। এই বিধান কার্যকর করার লক্ষ্যে জেলা শিক্ষা অফিস এই তদন্তে নেমেছে।
গাইবান্ধা জেলা শিক্ষা অফিসার মো. আতাউর রহমান স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় জেলার সাত উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারদের বলা হয়েছে—তাদের আওতাধীন সব এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে যারা সাংবাদিকতা, অনলাইন নিউজ পোর্টাল পরিচালনা, স্থানীয় পত্রিকায় কাজ বা আইন পেশার সঙ্গে যুক্ত, তাদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য আগামী ১৪ ডিসেম্বর বিকাল ২টার মধ্যে জেলা শিক্ষা অফিসে জমা দিতে হবে। নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রত্যেক শিক্ষক-কর্মচারীর নাম, পদবি, কর্মস্থল, অতিরিক্ত পেশার ধরন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুমতির বিষয়টি বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করে তালিকা প্রস্তুত করতে হবে।
জেলা শিক্ষা অফিসার নিশ্চিত করেছেন যে—সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে কোনো শিক্ষক-কর্মচারী দ্বিতীয় কোনো লাভজনক পেশা চালিয়ে যেতে পারবেন না। এই নিয়ম ভঙ্গের বিষয়টি যাচাই করেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ, সতর্কীকরণ বা চাকরির বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
গাইবান্ধার বিভিন্ন স্কুল-মাদরাসা এবং শিক্ষক সংগঠনের সূত্রে জানা যায়, জেলার কিছু শিক্ষক বহু বছর ধরে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে নিয়মিত লেখালেখি করছেন, কেউ কেউ আইনজীবীর সহকারী হিসেবেও কাজ করেন। নিম্ন বেতন, পারিবারিক ব্যয় এবং আর্থিক চাপ—অনেককে বিকল্প আয়ের পথ খুঁজতে বাধ্য করেছে। তবে নতুন নীতিমালা এ ধরনের অনুসরণকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে।
এদিকে শিক্ষক সংগঠনগুলোর প্রতিক্রিয়া মিশ্র। একটি অংশ সরকারি নিয়ম কার্যকরের পক্ষে থাকলেও অন্য অংশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, অনেক শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে সমাজসেবামূলক এসব পেশায় যুক্ত থাকলেও শিক্ষাদানে কোনও ঘাটতি তৈরি হয়নি। এই ধরনের শিক্ষকরা যদি হঠাৎ শাস্তির মুখে পড়েন, তা হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জনবলসংকট ও অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। তাই তারা বিষয়টি নিয়ে দ্রুত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন—শিক্ষকদের যদি যোগ্যতা, সময় ব্যবস্থাপনা ও দক্ষতা থাকে, তবে সামাজিক গুরুত্বসম্পন্ন সাংবাদিকতা বা আইনি সহায়তার মতো পেশায় তাদের সম্পৃক্ততায় বাধা কেন? অন্যদিকে অনেকেই নীতিমালার পক্ষে মত দিয়ে বলছেন—একজন শিক্ষককে তার মূল দায়িত্বেই সর্বোচ্চ মনোযোগ দিতে হবে; তাই দ্বিতীয় পেশা সীমিত রাখাই যুক্তিযুক্ত।
জানা গেছে, জেলা শিক্ষা অফিস প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন তৈরি করবে। সেই প্রতিবেদন উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ—অধ্যাপনা শাখা, মাউশি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এরপর নীতিমালা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
Leave a Reply