মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুলগুলোতে ‘ভৌতবিজ্ঞান’ বিষয়ভিত্তিক একীভূত শিক্ষক পদ বাতিল করে দুটি পৃথক পদ—সহকারী শিক্ষক (পদার্থবিজ্ঞান) ও সহকারী শিক্ষক (রসায়ন)—সৃষ্টির সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি প্রকাশিত সংশোধিত এমপিও নীতিমালা–২০২৫ ঘেঁটে এ তথ্য জানা গেছে। নীতিমালার নতুন সংযোজন অনুযায়ী বিজ্ঞানকে দুই শাখায় ভাগ করা হচ্ছে, যার ফলে পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়ন—উভয় বিষয়ে আলাদা শিক্ষক নিয়োগের সুযোগ বাড়বে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এতে বিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষক ঘাটতি কিছুটা কমবে এবং বিশেষায়িত শিক্ষকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে।
তবে শিক্ষক মহলের একটি অংশ এই সিদ্ধান্তে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন। অনেক মাধ্যমিক শিক্ষক দৈনিক শিক্ষাডটকমকে জানান, বিজ্ঞান বিষয়ে দুটি পদ সৃষ্টি অবশ্যই প্রয়োজনীয় হলেও বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ের জন্যও পৃথক পদ বাড়ানো দরকার ছিল, কারণ মাধ্যমিক স্তরে এই দুই বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট রয়েছে। তাদের মতে, বাংলা ও ইংরেজি—দুটিতেই আলাদা করে অন্তত দুটি করে শিক্ষক পদের ব্যবস্থা প্রয়োজন ছিল।
জারি করা নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে, নতুন নীতিমালা কার্যকর হওয়ার পর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক (ভৌতবিজ্ঞান) পদে যারা বর্তমানে কর্মরত আছেন—যদি তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক বা সমমানের পদার্থবিজ্ঞান বা রসায়নে হয়ে থাকে—তাহলে তাদেরকে নতুন কাঠামো অনুযায়ী সহকারী শিক্ষক (পদার্থবিজ্ঞান) অথবা সহকারী শিক্ষক (রসায়ন) পদে সমন্বয় করা হবে। সমন্বয়ের পর যদি কোনো একটি পদ খালি থাকে, তবে সেই শূন্যপদটির জন্য এনটিআরসিএ-তে নিয়োগ চাহিদা পাঠাতে হবে।
নতুন নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, নীতিমালা জারির আগে উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যারা অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারী পদে কর্মরত ছিলেন, তাদের পদবী পরিবর্তন করে ‘হিসাব সহকারী’ করা হবে। এর ফলে পদবী আরও স্পষ্ট হবে এবং দায়িত্বের ক্ষেত্রও নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
Leave a Reply