বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত ইনডেক্সধারী সব শিক্ষককে বদলি নীতিমালার আওতায় আনতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে নীতিমালায় সংশোধন এনেছে। তবে সংশোধিত নীতিমালা প্রস্তুত থাকলেও এখনো পরিপত্র জারি করা হয়নি, যা নিয়ে শিক্ষক সমাজে গভীর অনিশ্চয়তা ও হতাশা তৈরি হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নীতিমালার খসড়া পুরোপুরি প্রস্তুত থাকলেও বদলি ব্যবস্থাপনার জন্য প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার তৈরির কাজ শেষ হয়নি। কর্মকর্তাদের মতে, সফটওয়্যার ছাড়া নীতিমালা বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়; ফলে এখনই পরিপত্র জারি করলে কার্যক্রম শুরু করা যাবে না এবং তা প্রশাসনিক জটিলতা বাড়াবে। এ কারণে মন্ত্রণালয় সফটওয়্যার প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত পরিপত্র জারি স্থগিত রাখার পক্ষে রয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, নির্বাচনী তপসিল ঘোষণার পর সাধারণত নিয়োগ-বদলির মতো প্রশাসনিক প্রক্রিয়া স্থগিত থাকে। ফলে তপসিল ঘোষণার পর পরিপত্র জারি করা যাবে কি না, সেটিও অনিশ্চিত। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, তপসিল ঘোষণার আগে পরিপত্র প্রকাশ করতে না পারলে তা জানুয়ারি মাস পর্যন্ত পেছাতে পারে; আর তপসিল ঘোষণার পরে জারি করতে গেলে আইনগত সীমাবদ্ধতার মুখে পড়তে হতে পারে। সব মিলিয়ে চলতি বছরই নীতিমালা কার্যকর হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
এনটিআরসিএর সুপারিশে নিয়োগপ্রাপ্ত ইনডেক্সধারী শিক্ষকদের ক্ষেত্রে শুরু থেকেই বদলির সুবিধা ছিল না। তারা কেবল সরকারি গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের সুযোগ পেতেন। প্রথম তিনটি গণবিজ্ঞপ্তিতে এ সুযোগ থাকলেও চতুর্থ গণবিজ্ঞপ্তি থেকে মন্ত্রণালয় হঠাৎ করেই তাদের আবেদন করার পথ বন্ধ করে দেয়, ফলে হাজার হাজার শিক্ষক বন্দি অবস্থায় নিজ নিজ কর্মস্থলে আটকে পড়েন। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকরা এ বিষয়ে আন্দোলন করে আসছেন। আন্দোলনের চাপ ও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় মন্ত্রণালয় বদলি নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নেয়। কিন্তু নীতিমালা প্রস্তুত হলেও তা বাস্তবায়নের পথে নানা বাধা তৈরি হয়। শিক্ষকদের একাংশ নীতিমালার কিছু বিষয়ে রিট দায়ের করেন, সফটওয়্যার প্রস্তুতি বারবার বিলম্বিত হয় এবং মাঠপর্যায়ের মতামত ও প্রশাসনিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে নীতিমালায় একাধিকবার সংশোধন আনতে হয়। এসব কারণে বদলি কার্যক্রম আজও শুরু হতে পারেনি।
এ অবস্থায় শিক্ষক সমাজে তীব্র হতাশা বিরাজ করছে। অনেক শিক্ষক পরিবার থেকে দূরে আছেন, কেউ কর্মস্থলের পরিবেশগত সমস্যা বা স্বাস্থ্যগত সীমাবদ্ধতার কারণে বদলি চান, আবার কেউ সীমান্তবর্তী বা দুর্গম এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চাকরি করায় পরিবর্তন প্রয়োজন মনে করছেন। তাদের অভিযোগ—গণবিজ্ঞপ্তির পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বদলিই ছিল একমাত্র আশার জায়গা, কিন্তু সেটিও অনিশ্চয়তায় ঝুলে আছে। তারা মনে করছেন, নীতিমালা প্রস্তুত, পরিপত্র দিতে বাধা নেই—তবুও সফটওয়্যার বা প্রশাসনিক প্রক্রিয়া দেখিয়ে দেরি করা হচ্ছে। অনেক শিক্ষক আশঙ্কা করছেন, যদি এই বছরও পরিপত্র প্রকাশ না হয়, তাহলে আগামী বছর নতুন প্রশাসনিক পরিবর্তনের কারণে পুরো বিষয়টি আরও দীর্ঘসূত্রতায় পড়ে যেতে পারে। সব মিলিয়ে, ইনডেক্সধারী শিক্ষকদের অপেক্ষা এখনো শেষ হচ্ছে না, বরং নতুন করে অনিশ্চয়তা ও সময়ক্ষেপণের চক্রে আটকে যাচ্ছে বদলি ব্যবস্থার বাস্তবায়ন।
Leave a Reply