জাতীয় বেতন কমিশন স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব পর্যায়ের শিক্ষকদের জন্য সম্মানজনক বেতন কাঠামোর সুপারিশ করতে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, প্রয়োজনে শিক্ষকদের জন্য একটি স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো প্রণয়নের কথাও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে কমিশন। এই বিষয়ে কমিশনের সদস্যদের অবস্থান ইতিবাচক বলে জানা গেছে।
সোমবার (০৮ ডিসেম্বর) জাতীয় বেতন কমিশনের একটি জানায়, কমিশনের সদস্যরা কয়েকটি গ্রুপে ভাগ হয়ে বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনের কাছ থেকে মতামত নেওয়ার সময় স্বতন্ত্র বেতন কাঠামোর বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। সংগ্রহ করা এসব মতামত ইতোমধ্যে কমিশনের চেয়ারম্যান জাকির খানের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কমিশনের এক সদস্য জানান, স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো শুধু বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের জন্য প্রয়োজন— এমনটি নয়। বরং এমপিওভুক্ত শিক্ষক, প্রাথমিক শিক্ষকসহ সমগ্র শিক্ষা সেক্টরকে একটি স্বতন্ত্র কাঠামোর আওতায় আনার বিষয়ে কমিশনের সদস্যরা ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করছেন। তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো— এ পরিকল্পনার অর্থায়ন কীভাবে নিশ্চিত হবে। এজন্য উন্মুক্ত আলোচনা প্রয়োজন হতে পারে, যেখানে সমাধানের পথ বের করা সম্ভব।
ওই সদস্য আরও উল্লেখ করেন, উন্নত অনেক দেশে শিক্ষকদের জন্য আলাদা বেতন কাঠামো রয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশে বিশেষ করে স্কুল পর্যায়ে— এবং বেসরকারি খাতে— শিক্ষকদের বেতন তুলনামূলকভাবে খুবই কম। এসব বাস্তবতা বিবেচনা করে কমিশন শিক্ষকদের জন্য আলাদা বেতন কাঠামোর সুপারিশ করতে পারে। আর যদি আলাদা কাঠামো করা সম্ভব না হয়, সে ক্ষেত্রে শিক্ষকদের জন্য সম্মানজনক বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ অবশ্যই থাকবে।
পে-কমিশনের এই গুরুত্বপূর্ণ সদস্য আরও বলেন, বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনের সঙ্গে কথা বলে তাদের মতামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং তা লিপিবদ্ধ করে কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে। কমিশন এখন বিভিন্ন সেক্টর থেকে পাওয়া মতামতগুলো যাচাই–বাছাই করে নোট আকারে সংরক্ষণ করছে। সব নোট লিপিবদ্ধকরণ শেষ হলে চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করে জমা দেওয়া হবে।
এদিকে সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন পে স্কেলের জন্য সুপারিশ জমা দিতে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত সময় বেধে দিয়েছিলেন। কিন্তু কমিশন ওই সময়সীমার মধ্যে সুপারিশ দাখিল করতে পারেনি। এর প্রতিবাদে গত শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) শহীদ মিনারে মহাসমাবেশ করেন সরকারি চাকরিজীবীরা। সেখানে থেকে ঘোষণা আসে— আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে গেজেট প্রকাশ করে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করতে হবে; না হলে ১৭ ডিসেম্বর কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
প্রতিবেদন তৈরিতে চাপ প্রয়োগ করে কিছু করা যায় না মন্তব্য করে কমিশনের এক সদস্য বলেন, চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরির কাজ চলছে এবং লেখালেখিও এগিয়ে চলছে। খুব দ্রুতই সুপারিশ জমা দেওয়া হবে। তবে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে তা জমা দেওয়া সম্ভব হবে কি না— এ প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দিতে তিনি রাজি হননি।
Leave a Reply