বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার সরকারি অংশ কী পরিস্থিতিতে স্থগিত, কর্তন বা বাতিল করা যাবে—এ বিষয়ে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। রবিবার (০৭ ডিসেম্বর) প্রকাশিত সংশোধিত এমপিও নীতিমালায় এই বিধানগুলো সংযোজন করা হয়েছে। সংশোধিত নীতিমালার ১৮.১ ধারায় এসব নির্দেশনা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, কোনো প্রতিষ্ঠান যদি এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে নীতিমালার ৫ নম্বর অনুচ্ছেদে বর্ণিত আবশ্যকীয় শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয় বা এমপিওভুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে, তাহলে সেই প্রতিষ্ঠানের এমপিও সাময়িক স্থগিত কিংবা বাতিল করা যাবে। এর পাশাপাশি সরকার বা নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী সঠিকভাবে হিসাব সংরক্ষণ, আয়-ব্যয়ের নিরীক্ষা সম্পন্ন না হলে কিংবা ব্যয়ের ক্ষেত্রে বিদ্যমান পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (PPR) অনুসরণ না করলে প্রতিষ্ঠান প্রধানের বেতন-ভাতা বন্ধ বা বাতিল করা হবে। একই সঙ্গে পরিচালনা কমিটির সভাপতির পদ শূন্য ঘোষণা করার বিধানও যুক্ত করা হয়েছে।
এছাড়া, মিথ্যা তথ্য প্রদান, অবৈধভাবে শিক্ষক নিয়োগ, ভূয়া শাখা প্রদর্শন বা মিথ্যা শিক্ষার্থী দেখানো, পাবলিক পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন, পরীক্ষা পরিচালনায় বোর্ড বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অমান্য করা, নৈতিক স্খলনসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর/বোর্ড বা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আপিল কমিটির সিদ্ধান্ত অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, কর্মচারী এবং প্রতিষ্ঠান প্রধানের সরকারি অংশের বেতন-ভাতা স্থগিত বা বাতিল করার বিধান রাখা হয়েছে।
নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, কোনো প্রতিষ্ঠান এনটিআরসিএ-তে শিক্ষক বা প্রদর্শকের চাহিদা দিলে অবশ্যই সেই পদটি এমপিও নিশ্চিত থাকতে হবে এবং এনটিআরসিএ সুপারিশকৃত শিক্ষককে নিয়োগ দিতে হবে। প্যাটার্ন বহির্ভূত বা অতিরিক্ত চাহিদা দিলে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষক বা প্রদর্শকের বেতন-ভাতা শতভাগ প্রতিষ্ঠানকে বহন করতে হবে। এই নির্দেশনা লঙ্ঘিত হলে প্রতিষ্ঠান প্রধানের বেতন-ভাতা বাতিল এবং পরিচালনা কমিটির সভাপতির পদ শূন্য ঘোষণা করা হবে।
এমপিওভুক্তির উদ্দেশ্যে ভূয়া শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, জাল নিবন্ধন সনদ বা নিয়োগসংক্রান্ত জাল নথি ব্যবহার করলে প্রতিষ্ঠান প্রধানসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীর সরকারি অংশের বেতন-ভাতা বাতিল করা হবে। পাশাপাশি ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে অনিয়ম, সরকারি অংশের বেতন-ভাতা উত্তোলনে অনিয়ম অথবা অনুচ্ছেদ ১৮.১–এ বর্ণিত অন্যান্য অনিয়ম প্রমাণিত হলে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর বা শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, কর্মচারী বা প্রতিষ্ঠান প্রধানের বেতন-ভাতা সাময়িক স্থগিত করতে পারবে। পদক্ষেপ নেওয়ার পর অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির নামসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে। তবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক বা প্রতিষ্ঠান চাইলে এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আপিল করতে পারবে।
পূণাঙ্গ নীতিমালা দেখতে এখানে ক্লিক করুন
Leave a Reply