বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (স্কুল ও কলেজ) এর জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫ প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। রবিবার (৭ ডিসেম্বর) মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এই নীতিমালায় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর একাডেমিক ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা উন্নয়ন, শিক্ষকতার মানোন্নয়ন এবং অনৈতিক কোচিং বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হয়েছে।
নীতিমালার ২৪ নম্বর ধারা শিক্ষকতার পেশাগত উৎকর্ষ নিয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দেয়। এর ৩ নম্বর উপধারাতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য ও নোটবুক ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এই উপধারা কার্যকর হলে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বাণিজ্যিক কোচিং কার্যক্রমে দীর্ঘদিনের অবাধ প্রভাব কমে আসবে। অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে আসছেন যে, কোচিং বাণিজ্য পরিচালনাকারী শিক্ষকরা তাদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছেন; যা অনেক পরিবারকে বিপাকে ফেলছে। ২০১২ সালে কোচিং বাণিজ্য বন্ধে নীতিমালা জারি করা হলেও, পূর্ববর্তী সরকার এটি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে পারেনি। এবার এমপিও নীতিমালায় সরাসরি উপধারা সংযুক্ত হওয়ায় কোচিং বাণিজ্যের লাগাম টানার ক্ষেত্রে এটি আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
একই ধারার অন্যান্য উপধারাও শিক্ষকতার মান ও শৃঙ্খলা জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। প্রথম উপধারাতে বলা হয়েছে, শিক্ষকতা পেশায় নির্ধারিত পাঠ্যক্রম, শিক্ষণ-পদ্ধতি, নিয়মানুবর্তিতা ও শুদ্ধাচার কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। এটি শিক্ষকতার পেশাগত নৈতিকতা রক্ষা এবং শ্রেণিকক্ষে মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা। দ্বিতীয় উপধারাতে বলা হয়েছে, প্রতিটি শিক্ষককে তাদের নিজ নিজ বিষয়ে উচ্চমানের দক্ষতা অর্জন করতে হবে এবং পাশাপাশি সৃজনশীল কর্মকাণ্ডেও পারদর্শী হতে হবে—যাতে শিক্ষার্থীরা আধুনিক ও সৃজনশীল শিক্ষার সুযোগ পান।
এছাড়া চতুর্থ উপধারাতে জোর দেওয়া হয়েছে প্রতিষ্ঠানিক প্রশাসনিক ও একাডেমিক শৃঙ্খলা রক্ষায় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা যথাযথভাবে প্রতিপালনের ওপর। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংস্কৃতি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই নির্দেশনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। সর্বশেষে, পঞ্চম উপধারা অনুযায়ী, প্রতিটি ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডিকে প্রতিবছর প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ‘শ্রেষ্ঠ শিক্ষক’ নির্বাচন করে পুরস্কারের ব্যবস্থা করতে হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষকরা উৎকর্ষ সাধনে আরও উৎসাহিত হবার সুযোগ পাবেন।
Leave a Reply