পে স্কেলের দাবিকে কেন্দ্র করে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা সম্প্রতি এক কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত জাতীয় সমাবেশে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা শিক্ষক-কর্মচারীরা জড়ো হন। সমাবেশের প্রধান বক্তা ও শিক্ষক নেতা মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী ঘোষণা করেন যে, পে স্কেলের দাবিতে সরকার ঘোষিত বা ভবিষ্যতে ঘোষিত সব ধরনের আন্দোলনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা একযোগে অংশ নেবেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উঠে আসে যে, শিক্ষক সমাজ বর্তমান বেতন কাঠামো নিয়ে গভীর ক্ষোভ ও হতাশায় রয়েছে।
আজিজী বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে দেশের অর্থনৈতিক বৈষম্য আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সাধারণ মানুষ ও সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীদের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেলেও সরকার পে কমিশনের নাম করে শুধু সময়ক্ষেপণ করছে। তাঁর অভিযোগ—পে কমিশনের ঘোষণাই বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। ঘোষণার পরপরই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি শিক্ষক-কর্মচারীদের জীবনে বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন—“যদি সরকার বাস্তবে নতুন পে স্কেল দিতে প্রস্তুত না থাকে, তাহলে কেন পে স্কেলের ঘোষণা দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হলো? একে তো তালবাহানা ছাড়া আর কিছু বলা যায় না।”
সমাবেশে উপস্থিত শিক্ষক-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি সতর্ক বার্তা দেন যে, আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে যদি নতুন পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ না করা হয়, তাহলে দেশের সব এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যবদ্ধভাবে নতুন ধাপের আন্দোলনে নামবেন। তাঁর ভাষায়, এই আন্দোলন শুধু শিক্ষক নয়, তাদের প্রায় ছয় লক্ষাধিক পরিবারের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে পরিণত হবে। তিনি দাবি করেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে হলে শিক্ষকরা যেন মর্যাদাপূর্ণ বেতন পান—এটা সরকারেরই দায়িত্ব। তাই সময়ক্ষেপণ বা অজুহাত দেখিয়ে আর কোনোভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব নয়।
সমাবেশে অন্য বক্তারাও বর্তমান গ্রেড কাঠামো পরিবর্তন করে কম গ্রেডের, সহজবোধ্য এবং বাস্তবসম্মত নতুন পে স্কেল দ্রুত প্রবর্তনের দাবি জানান। তাঁরা বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় আগের বেতন কাঠামো এখন কার্যত অকার্যকর। তাই জনস্বার্থে এবং শিক্ষক সমাজের জীবনযাত্রার মান রক্ষায় ডিসেম্বরের মধ্যেই নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন ছাড়া বিকল্প নেই।
Leave a Reply