মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর সম্প্রতি ভুয়া সনদ ব্যবহার করে বিএড স্কেলের সুবিধা নেওয়ার অভিযোগে নতুন করে কঠোর নজরদারি শুরু করেছে। অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ স্বাক্ষরিত একটি গুরুত্বপূর্ণ চিঠির মাধ্যমে জানানো হয় যে, অধীনস্থ মাদ্রাসাগুলো থেকে নিয়মিতভাবেই শিক্ষকরা বিএড স্কেল পাওয়ার জন্য আবেদন জমা দেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে—কিছু শিক্ষক মূলত জাল বা অযাচাইকৃত বিএড ও বিএমএড সনদ দেখিয়ে উচ্চতর স্কেল নেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে শুধু সরকার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয় না, বরং প্রকৃত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকরা অবিচারের শিকার হন।
নভেম্বর ২০২৫ মাসে মোট ৪৩টি আবেদন পাওয়ার পর সেগুলো বিশ্লেষণ করে অধিদপ্তর সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত করে। কারণ, আবেদনগুলোতে জমা দেওয়া সনদগুলোর কিছু অংশে তথ্য-অসঙ্গতি, কিছুতে প্রতিষ্ঠানগত সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন এবং কিছু ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী নথির সঙ্গে মিল না থাকার মতো সমস্যা পাওয়া গেছে। এই পরিস্থিতিতে নিশ্চিত হওয়ার জন্য অধিদপ্তর সিদ্ধান্ত নিয়েছে—সব আবেদনকারীকে তাদের মূল সনদ (Original Certificate) সঙ্গে নিয়ে নির্ধারিত তারিখে সরাসরি উপস্থিত হয়ে যাচাই প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে।
চিঠিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ৮ ডিসেম্বর তারিখে সংশ্লিষ্ট ৪৩ জন শিক্ষককে স্ব-শরীরে অধিদপ্তরে হাজির হতে হবে। সেদিন মূল সনদ, রেজাল্ট শিট, প্রশিক্ষণকালীন উপস্থিতির নথি ইত্যাদি যাচাই করে দেখা হবে সনদগুলো সত্য কিনা। কোনো শিক্ষক যদি বৈধ কারণ ছাড়া হাজির না হন, তবে তার আবেদন স্থগিত বা বাতিল করা হতে পারে। এমনকি পরবর্তী তদন্তে ভুয়া সনদ ব্যবহার করার প্রমাণ মিললে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও ইঙ্গিত করা হয়েছে।
অধিদপ্তর মনে করছে, এ ধরনের নিয়মিত যাচাই প্রক্রিয়া চালু থাকলে সনদ জালিয়াতির প্রবণতা কমবে এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে, সৎ ও যোগ্য শিক্ষকরা তাদের প্রাপ্য সুবিধা দ্রুত এবং বাধাহীনভাবে পেতে সক্ষম হবেন।
তালিকা সহ বিস্তারিত পরে আসছে……………………………
Leave a Reply