বেসরকারি স্কুল–কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও অধ্যক্ষ নিয়োগে নতুন শর্ত যুক্ত করতে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন শর্ত অনুযায়ী, কোনো প্রার্থীর শিক্ষাজীবনের যেকোনো পরীক্ষায় তৃতীয় বিভাগ থাকলে তিনি আর প্রতিষ্ঠান প্রধান বা অধ্যক্ষ পদের জন্য আবেদন করতে পারবেন না। আগে তৃতীয় বিভাগ থাকলেও আবেদন করা যেত, কিন্তু সংশোধিত এমপিও নীতিমালায় এই নিয়ম কঠোর করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নীতিমালাটি যেকোনো সময় প্রকাশ করা হতে পারে।
একজন মন্ত্রণালয় কর্মকর্তা বলেন, নতুন নীতিমালায় যোগ্যতার মানদণ্ড কঠোরভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে নেতৃত্বের দায়িত্বে যোগ্য ও মেধাবী ব্যক্তিরাই আসতে পারেন। এর ফলে ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে নিয়োগের সময় যে স্বজনপ্রীতি বা রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ পাওয়া যেত, তা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক বা অধ্যক্ষ নিয়োগের জন্য এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার বিধিমালা সংশোধনের কাজ চলছে। এই বিধিমালা এখন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীনের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। সচিব এখনও এতে স্বাক্ষর না করায় বিষয়টি চূড়ান্ত হয়নি।
নতুন গেজেট অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠান প্রধান, সহকারী প্রধান, অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ নিয়োগ হবে একটি বাছাই পরীক্ষার মাধ্যমে। তবে পরীক্ষাটি কত নম্বরে হবে বা মৌখিক পরীক্ষায় কত নম্বর থাকবে—এগুলো এখনো নির্ধারিত হয়নি। এনটিআরসিএর নির্বাহী বোর্ড এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, কমিটি ১০০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তাব দিলেও তা গেজেটে উল্লেখ করা হয়নি।
আগে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রধান নিয়োগ দেওয়া হতো সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে। তবে এই পদ্ধতিতে আর্থিক লেনদেন, রাজনৈতিক প্রভাব, অনিয়ম এবং স্বজনপ্রীতির অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছিল। অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তির ইচ্ছামতো প্রধান নিয়োগ দেওয়ার ঘটনাও ঘটতো। এসব সমস্যার কারণে এবং দক্ষ নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে প্রধান নিয়োগের প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেয়।
গত ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবসে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক চৌধুরী রফিকুল আবরার বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক বা অধ্যক্ষই প্রতিষ্ঠানটির মান, নীতি ও ভবিষ্যৎ গঠন করেন। তাই যোগ্য ও মেধাবী নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে হবে। তার পরের দিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সমমানের সব পদে নিয়োগ দেওয়া হবে এনটিআরসিএর মাধ্যমেই—এটি এখন সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত।
সামগ্রিকভাবে বলা যায়, নতুন নীতিমালা ও বিধিমালা প্রণয়ন করে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, মানসম্মত এবং মেধাভিত্তিক করতে চায় সরকার।
Leave a Reply