সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চার দফা দাবিতে দুই দিনব্যাপী পূর্ণদিবস কর্মবিরতির পর শেষ পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত করা হয়েছে। অপরদিকে একই সময়ে বেতন–গ্রেড সমস্যার সমাধান না হলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে বৃহস্পতিবার থেকে ‘তালা ঝোলানো’ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে আরেকদল শিক্ষক। এতে সোমবার থেকে শুরু হওয়া মাধ্যমিক–প্রাথমিক স্তরের বার্ষিক পরীক্ষা মারাত্মক অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে।
হঠাৎ পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তোষ চরমে পৌঁছেছে। পরীক্ষার্থীরা জানান, রাতজাগা প্রস্তুতি নিয়েও পরীক্ষা দিতে না পারায় তারা মানসিক চাপের মধ্যে পড়েছেন। অনেকেরই পরীক্ষার পর ভ্রমণে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল—অনেকে বাস–ট্রেনের টিকিটও কেটে রেখেছিলেন। পরীক্ষা বন্ধ হওয়ায় অর্থ, সময় ও প্রস্তুতি—সবই ক্ষতির মুখে পড়ছে বলে অভিভাবকদের অভিযোগ।
অভিভাবকদের অনেকে বলেন, “দাবি মানানোর জন্য শিক্ষকরা আন্দোলন করতেই পারেন, কিন্তু পরীক্ষার্থীদের জিম্মি করা উচিত নয়।” ডাক্তাররা আন্দোলন করলেও জরুরি সেবা চালু রাখেন—শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও অন্তত পরীক্ষাটি চালু রেখে আন্দোলন করা যেত বলে অভিযোগ করেন তারা। এ অবস্থায় বিভিন্ন স্থানে অভিভাবক–শিক্ষার্থীরা কালেক্টরেট চত্বরে বিক্ষোভ করেন।
মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) রাতে বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, শিক্ষার্থীদের স্বার্থে কর্মবিরতি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হচ্ছে এবং বুধবার (৩ ডিসেম্বর) থেকে স্বাভাবিকভাবে বার্ষিক পরীক্ষা নেওয়া হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়—
সংগঠনটি ভবিষ্যতে তাদের ন্যায্য দাবি সমাধানে সরকারের দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ প্রত্যাশা করে।
১. সহকারী শিক্ষক পদকে বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত করে গেজেট প্রকাশ।
২. স্কুল ও পরিদর্শন শাখার শূন্য পদে নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়ন দ্রুত বাস্তবায়ন।
৩. সুপ্রিম কোর্টের রায়ের আলোকে বকেয়া টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেড অনুমোদন।
৪. ২০১৫ সালের আগের নিয়মে সহকারী শিক্ষকদের দুই–তিন ইনক্রিমেন্টসহ অগ্রিম বেতন সুবিধা পুনর্বহাল করে গেজেট প্রকাশ।
মাধ্যমিকে কর্মসূচি স্থগিত হলেও প্রাথমিক পর্যায়ে আন্দোলন আরও উত্তপ্ত হয়েছে।
‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’-এর ব্যানারে একদল শিক্ষক বার্ষিক পরীক্ষা স্থগিত রেখে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করছেন।
অন্যদিকে ‘প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে—বুধবারের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে বৃহস্পতিবার থেকে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘তালা ঝোলানো’ হবে।
ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক আনিসুর রহমান জানান—
“মর্যাদা বাড়ানোর দায়িত্ব আমাদেরই। দাবি বাস্তবায়ন না হলে দেশব্যাপী তালাবদ্ধ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা ছাড়া আর কোনো পথ থাকবে না।”
গত সপ্তাহ থেকেই বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে তারা অর্ধদিবস ও পূর্ণদিবস কর্মবিরতি চালিয়ে আসছেন।
মাধ্যমিক শিক্ষক আন্দোলন স্থগিত, পরীক্ষা পুনরায় শুরু হচ্ছে।
প্রাথমিক পর্যায়ে আন্দোলন চলমান, তালা ঝোলানোর ঘোষণা থাকায় পরীক্ষা এখনও ঝুঁকিতে।
শিক্ষার্থী–অভিভাবকদের মানসিক চাপ ও পরীক্ষার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা অব্যাহত।
Leave a Reply