শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার জানিয়েছেন যে দেশের শিক্ষকতার পেশাগত উন্নয়ন, মর্যাদা বৃদ্ধি এবং শিক্ষা ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সংকট নিরসনে সরকার নতুন ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, বহু বছর ধরে জাল সনদ ব্যবহারের প্রবণতা, নোটবই-নির্ভর শিক্ষা, অতিরিক্ত প্রাইভেট টিউশনসহ বিভিন্ন অনিয়ম শিক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল করে তুলেছে। এসব সমস্যা চিহ্নিত করে তাদের সমাধানের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে, যাতে শিক্ষকতা পেশাকে সৎ, মানসম্মত ও জবাবদিহিমূলক পথে ফিরিয়ে আনা যায়।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) ফরিদপুর অঞ্চলের শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষা-অংশীজনদের নিয়ে আয়োজিত এক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ফরিদপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ ও পার্শ্ববর্তী এলাকার শতাধিক শিক্ষক এই সংলাপে অংশ নেন। সংলাপে বিভিন্ন স্তরের অংশগ্রহণকারীরা শিক্ষা ব্যবস্থার নানা সমস্যা তুলে ধরেন এবং সমাধানের বিষয়ে প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।
ড. আবরার তার বক্তব্যে পাবলিক ও প্রাইভেট শিক্ষার মানের বৈষম্য কমাতে সরকারের সুদৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে রাজনৈতিক প্রভাব প্রবেশ করায় শৃঙ্খলা ও মান বজায় রাখতে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশকে দলীয় রাজনীতির বাইরে রাখতে হবে। যারা রাজনীতি করতে চান তাদের রাজনীতির মঞ্চেই থাকা উচিত; কিন্তু শিক্ষাঙ্গনকে অবশ্যই নিরপেক্ষ ও পবিত্র রাখতে হবে। শিক্ষা ও রাজনীতির অযাচিত সংমিশ্রণের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা ভবিষ্যতে আর হতে দেওয়া যাবে না।
এ সময় তিনি অতীতে শিক্ষক কল্যাণ তহবিল ও অবসর সুবিধা পরিচালনায় মারাত্মক অব্যবস্থাপনার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ডায়ালিসিস, ক্যান্সারসহ গুরুতর রোগে ভোগা বহু শিক্ষক বছরের পর বছর তাদের প্রাপ্য অর্থ না পেয়ে মানবিক সংকটে পড়েছেন, যা অত্যন্ত অমানবিক ও দুঃখজনক। বর্তমান সরকার এই সমস্যাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ, হিসাবপত্রের হালনাগাদ এবং সরকারি বরাদ্দ বৃদ্ধি—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, খুব শিগগিরই বকেয়া অর্থ বিতরণ শুরু হবে এবং শিক্ষকরা তাদের অধিকার ফিরে পাবেন।
কিন্তু এখানে প্রশ্ন হলো এই শিগগিরই সময়টা কোনদিন থেকে শুরু হবে সেটাই জানা যাচ্ছে না। সেটাই বাংলাদেশের অন্যতম আশ্চর্য বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে।
সংলাপে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক বি.এম. আব্দুল হান্নান। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান মোল্যা। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন এলাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং স্থানীয় বিশিষ্ট নাগরিকেরা, যারা সম্মিলিতভাবে শিক্ষা খাতের উন্নয়নে বিভিন্ন মতামত তুলে ধরেন।
Leave a Reply