অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক গঠিত নবম পে কমিশনকে ঘিরে প্রথম দিকে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য আশাবাদ সৃষ্টি হয়েছিল। কমিশন ঘোষণার পর অর্থ উপদেষ্টা স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে বর্তমান সরকারই নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পথে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তিনি জানান, নতুন পে কমিশন বাস্তবায়নের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে পরবর্তী নির্বাচিত সরকার। এই অবস্থান পরিবর্তনে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল তা ভেঙে যায় এবং দ্রুতই ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন মহলে।
অসন্তোষ বাড়তে থাকায় বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠন একজোট হয়ে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে। তারা সরকারের প্রতি সময়সীমা বেঁধে জানিয়ে দেয়, ৩০ নভেম্বরের মধ্যে কমিশন যদি চূড়ান্ত সুপারিশ জমা দিতে না পারে, তবে তারা বৃহত্তর আন্দোলনসহ কঠোর কর্মসূচির মাধ্যমে দাবি আদায়ে রাস্তায় নামবে। কর্মচারী নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, পে কমিশনের অগ্রগতি ধীরগতির হওয়ায় কর্মচারীদের আর্থিক অনিশ্চয়তা ও ন্যায়সঙ্গত দাবির প্রশ্নে অসন্তোষ চরমে উঠেছে।
অন্যদিকে পে কমিশন সূত্র জানাচ্ছে, সুপারিশ প্রণয়নের পুরো কাজ এখনো শেষ হয়নি। বর্তমানে কমিশন সুপারিশের একটি প্রাথমিক খসড়া তৈরির ওপর কাজ করছে। ইতোমধ্যে মোট কাজের প্রায় ৫০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে, এবং বাকি অংশের জন্য বিভিন্ন দফতরের সচিবদের মতামত সংগ্রহ গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সচিবদের মতামত গ্রহণ শেষে রিপোর্টের খসড়া পরিমার্জন করে চূড়ান্তকরণের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কমিশনের সদস্য ড. মোহাম্মদ আলী খান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস-কে বলেন,
“রিপোর্ট চূড়ান্তকরণের কার্যক্রম চলছে। সব কাজ শেষ করে ডিসেম্বরের শেষ দিকে কমিশন তাদের রিপোর্ট জমা দিতে পারবে বলে আমরা আশা করছি।”
এদিকে দাবির কর্মসূচি চূড়ান্ত করতে শনিবার রাজধানীতে বসে কয়েক ডজন কর্মচারী সংগঠন। সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এই বৈঠকে অংশ নেন বিভিন্ন গ্রুপ ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা। বৈঠকে অংশগ্রহণকারী একাধিক কর্মচারী নেতা জানান, আগামী ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ঢাকায় মহাসমাবেশ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই মহাসমাবেশ থেকেই ভবিষ্যৎ আন্দোলনের রূপরেখা ঘোষণা করা হতে পারে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানকে সভাপতি করে ২৩ সদস্যের জাতীয় বেতন কমিশন–২০২৫ গঠন করে সরকার। গঠিত কমিশনের প্রজ্ঞাপনে বলা ছিল, কমিশনের প্রথমসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার তারিখ থেকে ছয় মাসের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। সে হিসাবে, আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কমিশনের হাতে সুপারিশ জমা দেওয়ার আনুষ্ঠানিক সময়সীমা রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে কর্মচারী সংগঠনগুলোর তড়িঘড়ি সময়সীমা বেঁধে দেওয়া এবং আন্দোলনের ঘোষণায় বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে।
Leave a Reply