1. admin@kp-nat.com : admin : Ayub Ali
  2. ayub.bhs@gmail.com : Ayub ali : Ayub ali
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৬:২৯ অপরাহ্ন
Title :
৯ম শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি নিয়ে যা জানাল শিক্ষা মন্ত্রণালয় নিজ দল থেকে বহিস্কৃত হলেন জামায়াতে ইসলামের আলোচিত সমালোচিত সেই এমপি এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের জুলাই মাসের বেতনের প্রস্তাব কোনদিন যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জানাল মাউশি বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে বিদ্যালয়ের বাহিরে যেতে পারবেন না শিক্ষক এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ কোনদিন জানাল আন্তঃশিক্ষা বোর্ড এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জুলাইয়ের বেতন নিয়ে যা জানাল মন্ত্রণালয় MPO মাদ্রাসা শিক্ষকদের বদলি নিয়ে তৈরি হয়েছে যে কারণে অনিশ্চয়তা এমপিও শিক্ষকদের বদলি আবেদনের অনুমতি চেয়ে চিঠি কবে, জানালেন মাউশি বেসরকারী এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের নিয়োগের ক্ষমতা আবারও ম্যানেজিং কমিটির হাতে এনটিআরসিএ-র নবম নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হবে যে সকল বিষয়ে

বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের আড়াই হাজার প্রভাষকের পদোন্নতি আটকে দিয়েছে মন্ত্রণালয়

  • Update Time : শনিবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২৯৮ Time View
বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের আড়াই হাজার প্রভাষকের পদোন্নতি আটকে দিয়েছে মন্ত্রণালয়

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিতর্কিত বিধি ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের প্রায় আড়াই হাজার প্রভাষকের সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে আছে। ৩২তম থেকে ৩৭তম বিসিএস ব্যাচ পর্যন্ত পদোন্নতির সব যোগ্যতা পূরণ করেও কর্মকর্তারা এক যুগেরও বেশি সময় ধরে প্রভাষক পদেই কর্মরত আছেন। দফায় দফায় ডিপার্টমেন্টাল প্রমোশন কমিটির (ডিপিসি) বৈঠক হলেও পদোন্নতির আদেশ জারি না হওয়ায় ক্ষুব্ধ কর্মকর্তারা আগামী ১৬ নভেম্বর থেকে ‘নো প্রমোশন, নো ওয়ার্ক’ আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

প্রভাষকদের অভিযোগ, চলতি বছরের জুন ও নভেম্বর মাসে ডিপিসির একাধিক বৈঠকে পদোন্নতির সিদ্ধান্ত হলেও ‘মামলা জটিলতার’ অজুহাতে তা আটকে রাখছে মন্ত্রণালয়। কিন্তু আদালত পদোন্নতি স্থগিতের কোনো আদেশ দেয়নি। ফলে দীর্ঘসূত্রতার শিকার হয়ে শিক্ষা ক্যাডারে হাজারো কর্মকর্তা হতাশা ও ক্ষোভে ফুঁসছেন।

৩২তম ও ৩৩তম বিসিএস ব্যাচের প্রায় চার শতাধিক কর্মকর্তা চাকরিতে যোগদানের ১২ বছর পরেও প্রথম পদোন্নতি পাননি। ৩৪তম ব্যাচ ১০ বছর, ৩৫তম ব্যাচ ৯ বছর, ৩৬তম ব্যাচ ৮ বছর এবং ৩৭তম ব্যাচ ৭ বছর অতিক্রম করলেও পদোন্নতির আলো দেখছেন না কেউই। গ্রেডেশনভুক্ত কর্মকর্তার সংখ্যা হিসেবে ৩২তম ব্যাচে ৫৪ জন, ৩৩তম ব্যাচে ৩৬১ জন, ৩৪তম ব্যাচে ৬৩১ জন, ৩৫তম ব্যাচে ৭৪০ জন, ৩৬তম ব্যাচে ৪৬০ জন এবং ৩৭তম ব্যাচে ১৫৩ জন রয়েছেন।

ভুক্তভোগীদের দাবি, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিতর্কিত ২০০০ সালের বিধিমালা প্রণয়নে আইন ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মতামত নেওয়া হয়নি। এছাড়া ২০২৪ সালে প্রভাবশালী এক মহলের ইচ্ছায় একই তারিখ ও একই স্মারকে ৫৪টি আদেশ জারি করে প্রায় ২ হাজার আত্মীকৃত শিক্ষককে ক্যাডারে যুক্ত করা হয়, যা মূল বিধিমালার বিরোধী। এসব আদেশ বাতিলের দাবিতে কর্মকর্তারা ২০২৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর মাউশির মাধ্যমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর আবেদন করলেও কোনো সাড়া মেলেনি।

মাউশি ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত মোট ১১টি আবেদনসহ মন্ত্রণালয়ে সমাধানের অনুরোধ পাঠালেও কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নেননি। ফলে প্রভাষকদের প্রথম পদোন্নতি গত ১৭ মাস ধরে সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। চলতি বছরের ৪ জুন ডিপিসি বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও এর পর প্রায় ছয় মাস পেরিয়ে গেছে—কিন্তু পদোন্নতির আদেশ জারি হয়নি।

বিসিএস শিক্ষা সমিতির সদস্য সচিব সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মাসুদ রানা বলেন, “শিক্ষা ক্যাডারের প্রভাষকদের পদোন্নতি দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছে—এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। ডিপিসি অনুষ্ঠিত হলেও দ্রুত সময়ের মধ্যে সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত। ‘নো প্রমোশন, নো ওয়ার্ক’ কর্মসূচির প্রতি আমাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।”

অন্যদিকে, প্রভাষকরা জানান, অন্যান্য ক্যাডারের কর্মকর্তারা নিয়মিত পদোন্নতি পেলেও শিক্ষা ক্যাডারে এক অভূতপূর্ব স্থবিরতা চলছে। স্বাস্থ্য ক্যাডারে সম্প্রতি পাঁচ শতাধিক কর্মকর্তাকে সুপারনিউমারি পদোন্নতি দেওয়া হলেও শিক্ষা ক্যাডারের প্রভাষক পর্যায় আটকে আছে বছরের পর বছর।

পদোন্নতি বঞ্চিতরা ৩০ অক্টোবর মাউশির সামনে মানববন্ধন, অবস্থান কর্মসূচি ও সংবাদ সম্মেলন করেন। পরবর্তীতে ৯ নভেম্বর সারা দেশের সরকারি কলেজের সামনে এবং জেলা প্রেসক্লাবগুলোতে একযোগে মানববন্ধন করেন। তারা ঘোষণা দিয়েছেন, ১৩ নভেম্বরের মধ্যে পদোন্নতির আদেশ জারি না হলে ১৬ নভেম্বর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ‘নো প্রমোশন, নো ওয়ার্ক’ কর্মসূচি পালন করবেন।

এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (কলেজ) মো. মজিবর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরে ফোন দিতে বলেন; এরপর একাধিকবার কল করলেও তিনি আর ফোন ধরেননি। মাউশির মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর বি এম আব্দুল হান্নান জানান, তিনি মিটিংয়ে রয়েছেন।

প্রভাষকরা মনে করেন—সরকার চাইলে যেকোনো মুহূর্তেই পদোন্নতির আদেশ জারি করতে পারে, বিশেষ করে ৩৫তম ব্যাচ পর্যন্ত পদোন্নতিতে সরকারের কোনো অতিরিক্ত আর্থিক ব্যয় নেই। প্রয়োজন কেবল আন্তরিকতা ও প্রশাসনিক উদ্যোগ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আমার খবর
© All rights reserved © 2025 Kisukhoner Pathshala
Customized By BlogTheme