২০২৬ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তি প্রক্রিয়া যাতে স্বচ্ছ, সুষ্ঠু ও নীতিমালা অনুযায়ী সম্পন্ন হয়, সে লক্ষ্যেই সারাদেশের সরকারি ও বেসরকারি স্কুল এবং স্কুল অ্যান্ড কলেজগুলোর শূন্য আসনের তথ্য চেয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। রবিবার (১০ নভেম্বর) মাউশির মাধ্যমিক শাখার পরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
আদেশে বলা হয়েছে, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ১ম থেকে ৯ম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের শূন্য আসনসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য টেলিটকের নির্ধারিত ওয়েব লিংক gaa.teletalk.com.bd-এর মাধ্যমে জমা দিতে হবে। তথ্য প্রদানের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ নভেম্বর থেকে ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত। সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাশাপাশি মহানগর, জেলা সদর ও উপজেলা সদরের সব বেসরকারি স্কুল এবং স্কুল অ্যান্ড কলেজের ক্ষেত্রেও এই নির্দেশনা প্রযোজ্য।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ভর্তি সংক্রান্ত তথ্য প্রদানের সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঘোষিত সর্বশেষ ভর্তি নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। কোনো শ্রেণি বা শাখায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫৫ জনের বেশি দেওয়া যাবে না। বিশেষভাবে ঢাকা মহানগরের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলোকে সর্বাধিক তিনটি সংলগ্ন থানা ‘ক্যাচমেন্ট এলাকা’ হিসেবে নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে, যাতে স্থানীয় শিক্ষার্থীরা অগ্রাধিকার পায়।
এছাড়া প্রতিষ্ঠান প্রধানদের তথ্য জমা দেওয়ার সময় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর ও রাউটিং নম্বর সঠিকভাবে দিতে হবে; কোনো ধরনের এনালগ বা অসম্পূর্ণ নম্বর গ্রহণযোগ্য হবে না। ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান করলে পরবর্তী জটিলতার দায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানের ওপর বর্তাবে বলেও নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মাউশির এই পদক্ষেপের লক্ষ্য, ভর্তি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং কেন্দ্রীভূত অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে ভর্তি সংক্রান্ত অনিয়ম, অতিরিক্ত ভর্তি কিংবা ঘুষ-দুর্নীতির সুযোগ বন্ধ করা। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আগামী শিক্ষাবর্ষে ভর্তি কার্যক্রম হবে আরও নিয়ন্ত্রিত, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর।
Leave a Reply