MPO শিক্ষক-কর্মচারীদের অক্টোবর মাসের বেতন-ভাতা প্রদানের জন্য সরকারি আদেশ (জিও) আনুষ্ঠানিকভাবে গতকাল জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই আদেশের আওতায় সারাদেশে মোট ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৬৮৯ জন শিক্ষক ও কর্মচারী তাদের প্রাপ্য বেতন-ভাতা পাবেন। এর মধ্যে স্কুল পর্যায়ে রয়েছেন ২ লাখ ৮৯ হাজার ২০৪ জন এবং কলেজ পর্যায়ে রয়েছেন ৮৬ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষক-কর্মচারী। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সূত্রে জানা গেছে, সরকারি অনুমোদনের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) জিও জারি করা হয়েছে।
জানা গেছে, এর আগে গত রোববার মাউশির এমপিও সেল থেকে অক্টোবর মাসের বেতন-ভাতার প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়ার পরই চূড়ান্তভাবে জিও প্রকাশিত হল। বর্তমানে দেশে ১৯ হাজার ৮২৫টি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে ১৭ হাজার ২০৩টি স্কুল ও ২ হাজার ৬২২টি কলেজ অন্তর্ভুক্ত। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) পদ্ধতিতে প্রদান করা হবে।
এখন প্রশ্ন হলো আজ কি অক্টোবর মাসের বেতন শিক্ষক কর্মচারীগণ পেতে পারে কিনা? বাস্তব সত্য যে বিষয় তা হলো নির্ভরযোগ্য সুত্র মাধ্যম যতটুকু নিশ্চিত হওয়া গেছে তা হলো আজ এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের অক্টোবর ২০২৫ মাসের বেতন আজ পাওয়ার বা ব্যাংক একাউন্টে পোষ্টিং হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীন। তবে আগামীকাল বেতন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সবকিছু নির্ভর করছে মাউশি ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের বেতন প্রদানের সাথে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের তৎপরতার উপর।
অক্টোবর মাসের প্রথম ধাপের বেতন-ভাতা বাবদ ইএমআইএস সেলের হিসাব অনুযায়ী মোট ১ হাজার ৫৪ কোটি ৯৮ লাখ ৫৪ হাজার ১৭০ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এই অর্থের মধ্যে রয়েছে মূল বেতন, বাড়িভাড়া ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, এবং বিশেষ সুবিধা বাবদ নির্ধারিত অর্থ। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন অনুযায়ী, এই টাকা সরাসরি শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যাংক হিসাবেই ইএফটি (EFT) মাধ্যমে পাঠানো হবে, যাতে বেতন প্রদানে কোনো বিলম্ব বা অনিয়ম না ঘটে।
তথ্যমতে, মাউশি কর্তৃক জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অক্টোবর মাসের এমপিও বিল ২৭ অক্টোবরের মধ্যে অনলাইনে ইএমআইএস সেলে সাবমিট করতে হবে। বিল দাখিলের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের ওপর বর্তায়। ইএফটি-র মাধ্যমে বেতন-ভাতা পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের প্রধানের দেওয়া তথ্য ও উপাত্তকেই চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
এই উদ্যোগের ফলে সারাদেশের লাখো বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী সময়মতো বেতন-ভাতা পেতে যাচ্ছেন, যা দীর্ঘদিন ধরে তাদের অন্যতম প্রত্যাশা ছিল। শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভবিষ্যতে বেতন বিল প্রক্রিয়া আরও স্বয়ংক্রিয় ও স্বচ্ছ করার পরিকল্পনাও হাতে নেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো অনিয়ম, বিলম্ব বা তথ্যগত ভুলের সুযোগ না থাকে। একইসঙ্গে মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সতর্ক করে দিয়েছে, বেতন বিল সাবমিট করার সময় যেন সঠিক ও যাচাইকৃত তথ্য প্রদান করা হয়; অন্যথায় দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপর বর্তাবে।
সর্বোপরি, অক্টোবর মাসের এই জিও জারি হওয়ায় সারাদেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে স্বস্তি ও সন্তোষের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। তারা আশা করছেন, ভবিষ্যতে নিয়মিতভাবে এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই তাদের বেতন-ভাতা প্রদানের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে, যাতে আর কোনো আর্থিক অনিশ্চয়তা বা প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি না হয়।
Leave a Reply