প্রাথমিক ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার মানোন্নয়নের পর এবার মাধ্যমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমদের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের পরামর্শক কমিটি গঠন করা হয়েছে। সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
এর আগে গত বছরের অক্টোবরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রাথমিক ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার মানোন্নয়নে অধ্যাপক মনজুর আহমদের নেতৃত্বে ৯ সদস্যের পরামর্শক কমিটি গঠন করেছিল। ওই কমিটিতে শিক্ষাবিদ, বিশেষজ্ঞ ও প্রাথমিক শিক্ষাসংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞ কর্মকর্তারা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। পরে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কমিটি সরকারের কাছে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেয়। তাতে শতাধিক সংস্কারমূলক প্রস্তাব ছিল। এর মধ্যে ছিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন গ্রেড একধাপ বৃদ্ধি, সহকারী শিক্ষকের পদ বিলুপ্ত করে নতুন পদবিন্যাস সৃষ্টি এবং প্রশিক্ষণ ও শিক্ষাক্রম সংস্কারের সুপারিশ। তবে দুঃখজনকভাবে সেই প্রস্তাবগুলোর অধিকাংশই বাস্তবায়িত হয়নি, কিছু কিছু সুপারিশ খণ্ডিতভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে।
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে এসে এবার মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, কাঠামোগত সংস্কার এবং শিখন-শেখানোর পরিবেশে আধুনিকতা আনার লক্ষ্যে নতুন এই পরামর্শক কমিটি গঠন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। গত ২১ অক্টোবর কমিটি গঠনের পর বিষয়টি সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসে। কমিটিকে তিন মাসের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে দেশের মাধ্যমিক শিক্ষার বর্তমান অবস্থা, সমস্যাবলি, সুযোগ ও সম্ভাবনা বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যৎ করণীয় বিষয়ে সুপারিশ করার কথা বলা হয়েছে।
কমিটিতে রয়েছেন শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক মুহাম্মদ মোর্শেদ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. বেলায়েত হোসেন তালুকদার, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান শাহীদা ইসলাম, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (মাধ্যমিক), অধিদপ্তরের ঢাকা অঞ্চলের উপপরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান, সাংবাদিক মো. মুসা মিয়া, শেরেবাংলা সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. শফিকুর রহমান, আরমানিটোলা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক এ কে এম মোস্তফা কামাল এবং সদস্যসচিব হিসেবে থাকবেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের যুগ্ম সচিব (সরকারি মাধ্যমিক অধিশাখা)।
শিক্ষাবিদদের মতে, এই পরামর্শক কমিটি যদি বাস্তবভিত্তিক বিশ্লেষণ করে এবং সরকারের পক্ষ থেকে তার প্রস্তাবগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বাস্তবায়ন করা হয়, তাহলে দেশের মাধ্যমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে এটি একটি বড় মাইলফলক হতে পারে। বিশেষ করে পাঠ্যক্রম আধুনিকায়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, শিক্ষার্থীর দক্ষতা মূল্যায়ন এবং বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনার জবাবদিহিতা বৃদ্ধি—এই বিষয়গুলোর ওপর জোর দেওয়া হলে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে। তবে অনেকে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, আগের মতো যদি এই কমিটির সুপারিশও কাগজে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে এটি কেবল আরেকটি আনুষ্ঠানিকতা হিসেবেই থেকে যাবে। এখন দেখার বিষয়, তিন মাস পর কমিটির প্রতিবেদনে কী ধরনের সুপারিশ উঠে আসে এবং সরকার তা কতটা আন্তরিকভাবে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়।
Leave a Reply