নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে পে কমিশনের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বসছে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট। আজ বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) বেলা আড়াইটায় সচিবালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় জোটের ১২ জন শীর্ষ নেতা উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী জোটের সদস্যসচিব অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি লিখেছেন, “জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫-এর চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট নেতৃবৃন্দ বৃহস্পতিবার বিকেল আড়াইটায় সচিবালয়ে মিটিংয়ে মিলিত হবেন।”
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও জাতীয় বেতন কমিশনের সদস্যসচিব মো. ফরহাদ সিদ্দিক স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫-এর সঙ্গে সরকারি চাকরিজীবীদের বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েশন ও সংগঠনের প্রতিনিধিদের মতবিনিময় সভা বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ সচিবালয়ের পুরোনো ভবনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ইউজিসি অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদ, বাংলাদেশ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী ফেডারেশন, বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী সম্মিলিত পরিষদ, আন্তঃমন্ত্রণালয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট অংশ নেবে।
এমপিওভূক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট পে কমিশনে তাদের প্রস্তাবে যে বিষয়গুলো ফোকস করতে চলেছে তা হলো গ্রেড সংখ্যা ২০ এর পরিবর্তে ১৪টি করার কথা জানাবে। সর্বোচ্চ বেতন ১,৫৬,০০০টাকা ও সর্বনিম্ন বেতন ৩০,০০০টাকা করার সুপারিশ জানাবে। এছাড়া বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ২.৫% থেকে ১০% বৃদ্ধি, চিকিৎসা ভাতা ৩০০০টাকা, শিক্ষা ভাতা ১৫০০টাকা ১ সন্তানের জন্য। পাশাপাশি নিম্ন বর্ণিত সুবিধা সুমহ নিশ্চিতের জন্য কমিশনের নিকট সুপারিশ জানাবে।
প্রস্তাবিত অন্যান্য সুবিধাসমূহঃ
১। এমপিও ভুক্ত শিক্ষকদের প্রারম্ভিক বেতন প্রস্তাবিত ৯ম গ্রেডে দিতে হবে।
২। বাড়ি ভাড়া সরকারি চাকুরীজীবিদের ন্যায় মূল বেতনের ৪০-৭০% অনুযায়ী দিতে হবে।
৩। উৎসব ভাতা বা বোনাস মূল বেতনের সমপরিমাণ দিতে হবে।
৪। বৈশাখী ভাতা মূল বেতনের সমপরিমাণ দিতে হবে।
৫। বিএড আইন বাতিল করতে হবে।
৬। কমিটি প্রথা বিলুপ্ত করতে হবে।
৭। অবসর ফান্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা অবসরের ৬ মাসের মধ্যে দিতে হবে।
৮। শিক্ষক/কর্মচারিদের রেশন সুবিধায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
৯। শ্রান্তি বিনোদন ভাতা ও সুবিধা দিতে হবে।
১০। এমপিও ভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ করতে হবে।
পরিশেষে যে কথাটি বলব তা হল বাংলাদেশে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট এমপিওভুক্ত শিক্ষকদেরকে এক সুথায় গাঁথার ক্ষেত্রে যে অভুতপূর্ব সাফল্য দেখিয়েছে তারই ধারাবাহিকতায় আজকের এই স্বীকৃতি। এদেশে এই প্রথম কোন পে কমিশন এমপিভূক্ত শিক্ষক সংগঠনের সাথে তাদের মতামত জানার জন্য আহ্বান জানিয়েছে। আর এই অধিকার অর্জন হওয়ার পিছনে যে বিষয়টি কাজ করছে তা হলো এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট দেখিয়েছে যে তারাই একমাত্র সংগঠন যারা এদেশের অধিকাংশ এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের প্রতিনিধিত্ব করে।
এদেশের আর দশটা পেশাজীবির মতো আমরা এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীরাও যে একটা পেশাজীবি তার স্বীকৃতি কিন্তু এই আজকের পে কমিশনের সাথে মিটিংয়ের মাধ্যমে পেতে চলেছি। আমাদের আজকের এই বিজয় কোন একক সংগঠনের নয় এটি আমাদের সকল এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারী নির্বিশেষে সকলের। তাই আমরা যদি আমাদের এই ঐক্য, নিষ্ঠা ও সততা বজায় রেখে সামনের দিন গুলোতে একসাথে পথ চলতে পারি তাহলে সেই দিন বেশি দুরে নয় যেদিন আমরা আমাদের কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌছাতে পারব ইনশাআল্লাহ।
Leave a Reply