বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ব্যবস্থাপনা (ম্যানেজিং) কমিটি গঠনের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা পরিপত্রের কার্যক্রম স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। আদালতের এই নির্দেশে আপাতত পরিপত্র অনুযায়ী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে নতুন কমিটি গঠন ও ১ ডিসেম্বরের মধ্যে সব অ্যাডহক কমিটি বিলুপ্ত করার প্রক্রিয়া বন্ধ থাকবে।
মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) বিচারপতি কাজী জিনাত হক ও বিচারপতি আইনুন নাহার সিদ্দিকার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রুলসহ এ আদেশ দেন।
উল্লেখ্য, গত ৮ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগ থেকে পরিপত্রটি জারি করা হয়। এর আগে ঢাকাসহ দেশের নয়টি শিক্ষা বোর্ড ‘গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি প্রবিধানমালা–২০২৪’–এ সংশোধনী আনে ২৮ ও ৩১ আগস্ট।
সংশোধিত প্রবিধান অনুযায়ী, বেসরকারি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হতে হলে প্রার্থীকে সরকারি, আধা সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের নবম গ্রেড বা তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হতে হবে। অবসরপ্রাপ্ত হলে অন্তত পঞ্চম গ্রেডের কর্মকর্তা হতে হবে। অর্থাৎ, সাধারণ নাগরিক বা স্থানীয় সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা আর সভাপতি হতে পারবেন না।
এই বিধানকেই ‘বৈষম্যমূলক’ আখ্যা দিয়ে এমরান হোসেনসহ চারটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি রোববার (২০ অক্টোবর) হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। রিটে প্রবিধানমালার সংশোধিত ১৩(১) ও ৬৪(৩) বিধির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়।
রিটের পক্ষে আইনজীবী ফখরুল ইসলাম জানান, দেশে ৩০ হাজারের বেশি বেসরকারি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে। এসব প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে শুধু পাবলিক সার্ভেন্টদের সুযোগ দেওয়ার বিধান সংবিধানের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী এবং সমাজে বৈষম্য সৃষ্টি করবে।
এই বিতর্কিত পরিপত্র প্রকাশের পর থেকেই শিক্ষক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। অনেকেই একে ‘বেসরকারি শিক্ষা খাতে আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা’ হিসেবে দেখেছেন। আদালতের এই স্থগিতাদেশে আপাতত সেই পরিপত্রের কার্যকারিতা বন্ধ হলো, যা বেসরকারি শিক্ষা খাতের জন্য বড় স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে।
Leave a Reply