ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড চলতি বছরের জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা নিয়ে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। এতে অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের অনলাইনে ইএসআইএফ (eSIF) ফরম পূরণের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একইসঙ্গে বোর্ড স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, রেজিস্ট্রেশন ও অন্যান্য ফি বাবদ ২০৬ টাকার বেশি এবং বিলম্ব ফি-সহ ২৫৬ টাকার বেশি গ্রহণ করা যাবে না।
শনিবার বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক ড. মোঃ মাসুদ রানা খান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
রেজিস্ট্রেশনের যোগ্যতা
ঢাকা বোর্ড জানিয়েছে—
- ২০২৪ সালে সপ্তম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী, এবং
- ২০২৩ সালে ষষ্ঠ শ্রেণিতে বোর্ডের অধীনে রেজিস্ট্রেশনকৃত শিক্ষার্থীরা ২০২৫ সালে অষ্টম শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ পাবে।
নীতিমালা অনুযায়ী, পরীক্ষাবর্ষের ১ জানুয়ারিতে শিক্ষার্থীর বয়স ন্যূনতম ১১ বছর ও সর্বোচ্চ ১৭ বছর হতে হবে। তবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ২২ বছর পর্যন্ত শিথিল থাকবে।
অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের শর্ত
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে—
- কেবলমাত্র বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত ও স্বীকৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীরা রেজিস্ট্রেশন করতে পারবে।
- অনুমতি ছাড়া চলমান প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি রেজিস্ট্রেশন করাতে পারবে না; তাদের শিক্ষার্থীদের নিকটতম অনুমোদিত স্কুল/কলেজের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।
অনলাইন রেজিস্ট্রেশনের প্রক্রিয়া
- বোর্ডের ওয়েবসাইটে OEMS/eSIF বাটনে গিয়ে EIIN ও Password ব্যবহার করে লগইন করতে হবে।
- Dashboard থেকে শিক্ষার্থীর নাম, মোবাইল নম্বর ও মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা এন্ট্রি করে সোনালী সেবা (Sonali Seba)-এর স্লিপ প্রিন্ট করতে হবে। (এ স্লিপ কোনোভাবেই ফটোকপি করে জমা দেওয়া যাবে না।)
- ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পেমেন্ট ক্লিয়ার হলে eSIF পূরণ করা যাবে।
- পরে বাদ পড়া শিক্ষার্থীর তথ্যও এন্ট্রি করা যাবে।
রেজিস্ট্রেশন কমিটি ও যাচাই
প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের সমন্বয়ে ৩ সদস্যের একটি রেজিস্ট্রেশন কমিটি গঠন করতে হবে।
- অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হওয়ার পর ভর্তি ফরম ও জন্ম সনদের সঙ্গে মিলিয়ে শিক্ষার্থীর তথ্য যাচাই করতে হবে।
- নিশ্চিত হওয়ার পরেই ফাইনাল সাবমিট করতে হবে।
- এ কাজে কোনো শিক্ষার্থীকে দায়িত্ব দেওয়া যাবে না।
- চূড়ান্ত তালিকার প্রিন্ট আউট (হার্ডকপি) প্রতিষ্ঠান সংরক্ষণ করবে।
- কোনো ভুল হলে এর দায়ভার প্রধান শিক্ষক ও কমিটির সদস্যরা যৌথভাবে বহন করবেন।
নতুন অনুমোদনপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের জন্য
যেসব বিদ্যালয় নতুন পাঠদানের অনুমতি পেয়েছে, তারা ব্যানবেইস থেকে EIIN সনদ সংগ্রহ করবে। এরপর সোনালী ব্যাংকে ১,৫০০ টাকা জমা দিয়ে Login Password সংগ্রহ করতে হবে। তারপরই ডাটা এন্ট্রি শুরু করা যাবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন না হলে এর দায়ভার প্রতিষ্ঠান প্রধানকে নিতে হবে।
বিশেষ শর্ত
- সকল প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি হালনাগাদ থাকতে হবে। অন্যথায় অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে তা উল্লেখ করতে হবে এবং প্রমাণস্বরূপ কর্তৃপক্ষ প্রদত্ত সনদ জমা দিতে হবে।
Post Views: 354
Leave a Reply