বই ছাপানোর দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়মের কারণে ক্রয়সংক্রান্ত সুপারিশ বাতিল করেছে অন্তবর্তী সরকারের ক্রয় কমিটি। তবে এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে আবারও একই নিয়মে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। ইতোমধ্যে ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বইয়ের জন্য পুনঃদরপত্র আহ্বান করা হয়েছে এবং ইজিপি কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। কিন্তু এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে বই ছাপাখানায় পৌঁছাতে দেড় থেকে দুই মাস সময় লাগবে, ফলে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই পৌঁছানো নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
এনসিটিবির একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পুনরায় দরপত্র আহ্বানের কারণে বই ছাপানোর কাজ স্বাভাবিকভাবেই বিলম্বিত হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সারাদেশের ৫৮৫টি বিতরণ কেন্দ্রে বই পৌঁছে দেওয়ার কথা থাকলেও এবার তা সম্ভব হচ্ছে না। এতে নতুন বর্ষপূর্তিতে শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জানা যায়, ১৯ আগস্ট সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির ৩২তম সভায় মাধ্যমিকের ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বইয়ের দরপত্র অনুমোদন দেওয়া হয়নি। এতে ষষ্ঠ শ্রেণির ৯৭টি দরপত্রে ৪ কোটি ৩২ লাখ বইয়ের জন্য ১৮০ কোটি ৪ লাখ টাকা, সপ্তম শ্রেণির ৯৪টি দরপত্রে ৩ কোটি ৯০ লাখ বইয়ের জন্য ২০০ কোটি ২০ লাখ টাকা এবং অষ্টম শ্রেণির ৮৯টি দরপত্রে ৩ কোটি ৬৬ লাখ বইয়ের জন্য ২২৩ কোটি ১২ লাখ টাকা নির্ধারিত ছিল। মোট ২৮০টি লটে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার এই ক্রয়সংক্রান্ত সুপারিশ বাতিল করা হয়।
সূত্র মতে, আগামী বছর বিনামূল্যে বিতরণের জন্য প্রাথমিক স্তরে প্রায় ৮ কোটি ৪৯ লাখ ২৫ হাজার এবং মাধ্যমিক স্তরে প্রায় ২১ কোটি ৪০ লাখ বই প্রয়োজন হবে। প্রাথমিকের প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণির বই দ্রুত ছাপাখানায় পাঠানো হচ্ছে, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির বইও শিগগিরই ছাপাখানায় যাবে। কিন্তু ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির দরপত্র বাতিল হওয়ায় এ স্তরের বই ছাপাতে নতুন করে দীর্ঘসূত্রিতা তৈরি হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ষষ্ঠ শ্রেণির দরপত্র আহ্বান হয়েছিল ১৯ মে, সপ্তম শ্রেণির ১৫ মে এবং অষ্টম শ্রেণির ২ জুন। তবে এগুলো বাতিল হওয়ার পর নতুন করে তিন শ্রেণির জন্য পুনঃদরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী আহ্বানের ১৪ দিনের মধ্যে দরপত্র উন্মুক্ত হবে, এরপর দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যে চূড়ান্ত কার্যক্রম শেষে বই ছাপানো সম্ভব হবে। ফলে বছরের শুরুতে শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছানো নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।
এর আগে চলতি বছরও প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছাতে প্রায় তিন মাস দেরি হয়েছিল, যার কারণে সরকারকে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকে এবার আগেভাগেই প্রস্তুতি নিয়েছিল এনসিটিবি। কিন্তু পুনঃদরপত্র আহ্বান হওয়ায় আবারও একই শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে এনসিটিবির প্রধান সম্পাদক মুহাম্মদ ফাতিহুল কাদীর বলেছেন, “পুনঃদরপত্রের কারণে বই ছাপানোর কাজ কিছুটা দেরি হবে ঠিকই, তবে আমরা আশাবাদী যে শিক্ষার্থীদের হাতে যথাসময়ে বই পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।”
Leave a Reply