বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হলো এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা। তাদের শ্রম, দক্ষতা ও অবদানের মাধ্যমে এদেশের শিক্ষার্থীরা সুশিক্ষা লাভ করছে। পরবর্তীতে তারাই আবার উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে তারাই আবার এদেশের নীতি নির্ধারণীর অংশ যখন হচ্ছে তখন ঠিক তারাই তাদের গ্রহণকৃত শিক্ষা ব্যবস্থা তথা এই শিক্ষা যারা পরিচালনা করেন সেই এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের ঠকানোর পাঁয়তারা করেন। তখন তারা ভুলে যান যে তারা বা তাদের মতো কেউ কেউ এই শিক্ষকদের দ্বারাই শিক্ষা গ্রহণ করে আজকের সচিব বা আমলা পর্যায়েে এসেছে। প্রতিনিয়ত কেন জানি এদেশের সচিব আমলারা এমপিওভুক্ত শিক্ষা বা এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের কেন জানিনা বাঁকা দৃষ্টিতে দেখে। আর তাদের এই বিমাতাসুলভ আচরেণের কারণেই কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে তারা আর্থিকভাবে বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছেন এদেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা। এর বড় উদাহরণ হলো উৎসব ভাতা সংক্রান্ত বর্তমান বাস্তবতা।
আমি এখানে পরিস্কার করে কিছু বিষয় আপনাদের সামনে শেয়ার করছি তা হল, গত কিছুদিন পূর্বে হঠাৎ শিক্ষক নামধারী এক সংগঠনের নেতা বিভিন্ন মাধ্যমে বলে বেড়াচ্ছেন যে, আগামীতে এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের উভয়েরই উৎসব ভাতা ৭৫% করে দেওয়ার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় হতে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো এই যে, এই খবর শোনার পর জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের একাধিক নেতৃবৃন্দ পরবর্তীতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট শাখায় যোগাযোগ করলে জানতে পারেন যে, খবরটি প্রায় অনেকটাই মিথ্যা। হ্যাঁ শিক্ষা মন্ত্রণালয় হতে অর্থ মন্ত্রণালয়ে উৎসব ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাবের ডিও পাঠানো হয়েছে তবে সেখানে লেখা রয়েছে শিক্ষক ৫০% উৎসব ভাতা পায় এবং কর্মচারীরাও ৫০% উৎসব ভাতা পায় বর্তমানে। কর্মচারীদের উৎসব ভাতা ৫০% থেকে বৃদ্ধি করে ৭৫% করার প্রস্তাব সেখানে উল্লেখ রয়েছে। সেখানে শিক্ষকদের কথা স্পষ্ট করে কিছুই বলা নেই।
বিষয়টি এখন বুঝতে পারছেন এখানে ষড়যন্ত্রটি কি ভাবে করা হয়েছে। এখন অর্থ মন্ত্রণালয় বলবে যেহেতু পরিস্কার ভাবে সেখানে শিক্ষকদের কথা বলা নাই বিধায় আমরা শিক্ষকদের উৎসব ভাতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত বিষয়টি বিবেচনায় রাখিনি। আর এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিকট জানতে চাইলে তারা বলবে আমরাতা প্রস্তবা পাঠয়েছি কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয় এটির ঠিক মত ব্যাখ্যা বুঝতে পারেনি বিধায় এই ধরনের সিদ্ধান্ত।ঠিক যে ভাবে গত ঈদের পূর্বে কর্মচারীদের সাথে যেভাবে ভাষার গ্যাড়াকলে ফেলে তাদের উৎসব ভাতা বৃদ্ধি রহিত করে আমাদের স্বনামধন্য আমলারা। যে কাজ একবারে একটি চিঠিতেই করা সম্ভব সেই কাজ তারা বুদ্ধি খাটিয়ে বারে বারে বা কয়েকবারেও করতে চায় না। আসলে পুরো বিষয়টি তাদের সাজানো এবং ছকে আকানো তারা এই দুই মন্ত্রণালয় মিলে কিভাবে চিঠি পাঠালে এর ফায়দা তোলা যায় তা ঠিক করে সেই ভাবেই চিঠি পাঠায়। আর পরে বলে অসাবধানতা জনিত ভুল।
পরিশেষে যে কথা বলব এভাবে আর কতদিন এদেশের আমলারা আমাদের তথা এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের ঠকাবে আর আমরা তা চোখ, কান ও মুখ বুঁজে সহ্য করব। তাই বলি আপনারা জেগে উঠুন, আপনাদের নিজেদের অধিকার আদায়ে সচেষ্ট হোন। নিজের অধিকার যদি কেউ অন্যায়ভাবে কুক্ষিগত করে রাখে তাহলে সেটাকে ছিনিয়ে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করুন।
সেই লক্ষ্যে জাতীয়করণ প্রত্যাশি জোটের ঘোষিত কর্মসুচীর প্রতি একাত্নতা ঘোষণাপূর্বক তা পালনে নিজে সচেষ্ট হোন এবং অন্যকে তা পালনে ঐক্যবদ্ধ করুন। জয়ী আমরাই হব ইনশাআল্লাহ।
Leave a Reply