দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ নিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এতদিন পর্যন্ত এসব পদে নিয়োগের দায়িত্ব ছিল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির হাতে। কিন্তু প্রায়ই দেখা যেত, যোগ্যতার চেয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থ বা সুপারিশের ভিত্তিতে প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া হতো। এতে প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় নানা জটিলতা ও দুর্বলতা তৈরি হতো। এসব সমস্যার সমাধান এবং যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য এবার সরকার নিয়োগের দায়িত্ব বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এতদিন শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণ নিবন্ধন পরীক্ষার ভিত্তিতেই প্রার্থী নির্বাচন করা হতো। তবে প্রতিষ্ঠান প্রধান পদে দায়িত্ব পালনের জন্য শুধু একাডেমিক যোগ্যতা যথেষ্ট নয়। এখানে নেতৃত্বগুণ, প্রশাসনিক দক্ষতা, ব্যবস্থাপনার জ্ঞান ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই এসব যোগ্যতা যাচাই করার জন্য আলাদা পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। এই পরীক্ষায় লিখিত ও মৌখিক—দুই ধাপই অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ধারণা করা হচ্ছে, নিবন্ধনের প্রচলিত পরীক্ষার কাঠামো বজায় রেখে অতিরিক্ত বিষয় যোগ করা হতে পারে।
এ বিষয়ে আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খন্দোকার এহসানুল কবির বলেন, “বর্তমানে যেভাবে এনটিআরসিএ-এর মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়, ঠিক সেই পদ্ধতিতেই সহকারী প্রধান শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক, উপাধ্যক্ষ ও অধ্যক্ষ নিয়োগ করা হবে। আগে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটি নিজেদের স্বার্থে অযোগ্য প্রার্থীকেও নিয়োগ দিত। কিন্তু এবার এনটিআরসিএ’র সুপারিশের মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীকেই নিয়োগ দেওয়া হবে।”
অন্যদিকে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক উপসচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হচ্ছে। এই কমিটির আহ্বায়ক থাকবেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক-২) মিজানুর রহমান। কমিটিতে এনটিআরসিএ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
তিনি আরও জানান, এই কমিটি একটি নীতিমালা প্রণয়ন করবে। সেই নীতিমালা অনুমোদন পাওয়ার পর সরকারিভাবে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে এবং তখন থেকে প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগের নতুন পদ্ধতি কার্যকর হবে। এর মাধ্যমে আশা করা হচ্ছে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সঠিক নেতৃত্ব নিশ্চিত হবে এবং শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন ঘটবে।
Leave a Reply