বাংলাদেশে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জীবন অনেকটা তীর্থযাত্রী কাকের মতো। তাদের প্রতিটি পদক্ষেপে, প্রতিটি প্রাপ্তিতে, এমনকি মৌলিক অধিকার আদায়েও অপেক্ষার প্রহর গুনতে হয়। এ জীবনের কষ্ট, অনিশ্চয়তা আর হতাশা কেবল তারাই গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পারেন, যারা এই পেশায় নিয়োজিত আছেন।
চাকরির শুরু থেকে অবসান পর্যন্ত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রতিটি ধাপই অপেক্ষার আর্তি দিয়ে ঘেরা। চাকরিতে প্রবেশের আগেই তাদের জন্য অপেক্ষা শুরু হয়। এনটিআরসিএ (বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ) একজন প্রার্থীর কাছ থেকে একের পর এক পরীক্ষা নেয়, তার যোগ্যতা যাচাই করে। কিন্তু তবুও চাকরি পাওয়া যাবে কিনা, কোন প্রতিষ্ঠানে পাওয়া যাবে, বা কবে সেই নিয়োগ হবে—কোনোটিরই নিশ্চয়তা তারা দিতে পারে না।
আগষ্টের বেতন
এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের আগষ্টের বেতন আজ ৪ তারিখে হওয়ার কথা ছিল বা হওয়ার কথা তবে অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বা আমার জানামতে আজ বেতন পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। বেতন পেতে পেতে আগামী রবিবার বা সোমবারও লেগে যেতে পারে।
চাকরি পেলেও সমস্যা শেষ হয় না। এমপিওভুক্ত হওয়ার জন্য নতুন করে অপেক্ষা করতে হয় দীর্ঘ সময়। আর এমপিওভুক্ত হলেও মাস শেষে ঠিক সময়ে বেতন পাওয়া যাবে কিনা, সেই প্রশ্ন থেকেই যায়। অনিশ্চয়তার এই দোলাচলে শিক্ষকরা যেন প্রতিনিয়ত মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে জীবন কাটান।
সবচেয়ে বেদনাদায়ক দিক হলো—চাকরিজীবন শেষে তাদের নিজেদের জমাকৃত অর্থও সময়মতো ফেরত মেলে না। বছরের পর বছর ধরে অবসরভাতা বা গ্রাচুইটির টাকা পেতে গিয়ে তারা দফায় দফায় সরকারি দপ্তরের দ্বারস্থ হন। অনেক ক্ষেত্রেই এই অর্থ প্রাপ্তির অপেক্ষায় মানবেতর জীবন যাপন করতে হয়।
অধিকাংশ শিক্ষক বাধ্য হয়ে সামান্য আয়ে পরিবার চালান, কখনো অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটান। অথচ তারাই আগামী প্রজন্ম গড়ে তোলার কারিগর। কিন্তু রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার জটিলতা আর অনিশ্চয়তায় তাদের জীবন হয়ে ওঠে প্রতীক্ষার দীর্ঘ যন্ত্রণা, যা এক কথায় একটি প্রাতিষ্ঠানিক অবহেলার প্রতিচ্ছবি।
প্রতিটি পেশা তার একটা নির্দিষ্ট কিছু সিষ্টেমে পরিচালিত হয় হয় না শুধু এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের এ পেশা। এখানে কোনদিন মাসের শেষ আর কোন দিন মাসের শুরু তা বোঝা বড়ই দুষ্কর। এ পেশার কর্মজীবিদের কাছে যে বেতন পায় সেদিন মাসের শুরু আর যেদিন শেষ হয় সেদিন অপেক্ষার শুরু। এই হল এমপিওভুক্তদের জীবন।
পূর্বের অ্যানালগ সিষ্টেমের দোহাই দিয়ে মাসের বেতন ১০/১৫ তারিখে দেওয়া হত কিন্তু এখন ইএফটির প্রচলন হওয়ার পরও এ পেশায় মাসের শুরুতে বা মাসের একটি নির্দিষ্ট তারিখে বেতন পাওয়া গেল না যা অত্যন্ত দৃষ্টিকুটু ও হতাশারও বটে। ইএফটি চালু হওয়ার পর মাউশি নামক আজাব সৃষ্টিকারী প্রতিষ্ঠান জানাল যে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের ইএফটি সরকারীদের মত নয়। মাউশি এখন আমাদের ইএফটির সংজ্ঞা শেখায়।
এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের আগষ্টের বেতন আজ ৪ তারিখে হওয়ার কথা ছিল বা হওয়ার কথা তবে অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বা আমার জানামতে আজ বেতন পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। বেতন পেতে পেতে আগামী রবিবার বা সোমবারও লেগে যেতে পারে।
পরিশেষে যে কথাটি বলব তা হল আপনি যদি কাউকে অপছন্দ করেন তাহলে তার কোন কাজই আপনার পছন্দ হবে না বা ভাল লাগবে না। আসলেই কি আমরা এদেশ ও জাতির একটি বোঝাস্বরূপ পেশাজীবি। সত্যি কথা বলেন তো আমাদের অপরাধ কি? আমাদের অপরাধ আমরা এদেশের ৯৭% ছেলেমেয়েদের শিক্ষাদান করি এটি। যে তোমরা কেন এত ছেলেমেয়েদের শিক্ষাদান কর। তোমার যদি এত ছেলেমেয়েদের শিক্ষাদান না করতে তাহলে তারা অশিক্ষিত হয়ে আমাদের গোলামির জিঞ্জিরে বাঁধা পড়ে থাকত। তাহলে আমরা তাদের উপর হুকুম চালাতে পারতাম।
Leave a Reply