”আমার স্বপ্নগুলো কেন এমন স্বপ্ন হয়
এ মনটা কেন বারে বারে ভেঙ্গে যায়
আমার কবিতাগুলো প্রতিদিন ছন্দ হারায়
তোমার স্মৃতিগুলো প্রতিরাতে আমাকে কাঁদায়!”
কলেজ জীবনের শেষের দিকে অনেক সময় এই গান শুনতাম যখন হতাশা ভর করত। তো কর্মজীবনে এসে এই গানটি অনেকদিন শুনিনি। তো আজ হঠাৎ করে এই গানটি মনে পড়ল যে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জীবন কেন জানি সকল সময় এই গানটির মত হয়ে যায়। যখনই আমরা কোন স্বপ্ন দেখি তখনই কোন না কোন কারণে কেউ না কেউ ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আমাদের স্বপ্নগুলো ভেঙ্গে দেওয়ার জন্য উঠে পড়ে লাগে। আর এক সময় স্মৃতির অন্ধকারে হারিয়ে যায় আমাদের স্বপ্নগুলো।
এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের জীবনে কখনও কোন কিছুই সোজা সরল রাস্তায় আসেনি হয়তবা ভবিষ্যতেও আসবে না। গত বিদায়ী শিক্ষা উপদেষ্টা তার বিদায়ী ভাষণে বলে গিয়েছিলেন যে এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের সকল ভাতা বৃদ্ধি করা হবে আগামী বাজেট হতে। সেই কথামতো উৎসব ভাতা ২৫% বৃদ্ধি করা হয় এবং বলা হয় এই বাজেটে এর চেয়ে বেশি আর করা সম্ভব নয়। তারপর নতুন বাজেট হলে অন্যান্য ভাতা বৃদ্ধি করা হবে কিন্তু বিধিবাম তারপর দিন মাস কেটে যায় কিন্তু ভাতা বৃদ্ধি তো দুরের কথা প্রতিদিন গত হয় আর নতুন নতুন ষড়যন্ত্রের ডালপালা মেলে যায় নতুন করে। এদেশের আমলারা এত বেশি ষড়যন্ত্র প্রবণ তা পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা লিখলেও তা ফুরাবে না। বিদায়ী উপদেষ্টা বলেছিলেন দিনে দিনে এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের সকল বৈষম্যের নিরসন করা হবে। আর আমলারা চাইছেন কি করে নতুন নতুন বৈষম্যের সৃষ্টি হবে।
চলতি বাজেটে শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া ভাতা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতির ধারাবাহিকতায় আমলারা শিক্ষক-কর্মচারী কিংবা শিক্ষক সংগঠনের কোনো নেতার সঙ্গে আলোচনা না করেই নিজেদের ইচ্ছেমতো বাড়িভাড়া ভাতা মাত্র ১,০০০ টাকা বাড়িয়ে ২,০০০ টাকা করেছেন। একইভাবে চিকিৎসা ভাতা ৫০০ টাকা বাড়িয়ে ১,০০০ টাকা এবং কর্মচারীদের উৎসব ভাতা ৭৫ শতাংশ করার প্রস্তাব সম্বলিত একটি ডিও লেটার অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এর উদ্দেশ্য ছিল যেন কেউ বলতে না পারে যে শিক্ষক-কর্মচারীদের ভাতা একেবারেই বৃদ্ধি করা হয়নি।
কিন্তু ১৩ তারিখের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে যখন বাধ্য হয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন, তখন আমলারা দাবি করেন—তাদের আন্দোলনের কারণেই এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আলোচনার সময় শ্রান্তি ও বিনোদন ভাতা প্রসঙ্গে প্রশ্ন উঠলে তারা কৌশলীভাবে বলেন, ‘আপনারা তো আসলে বেতন পান না, পান অনুদান বা ভাতা। তাহলে ভাতার আবার আলাদা ভাতা হয় কীভাবে?’
এ বক্তব্য স্পষ্টতই ষড়যন্ত্রমূলক। কারণ, শিক্ষক-কর্মচারীরা তো উৎসব ভাতা, বৈশাখী ভাতা নিয়মিত পান—সেগুলোর বৈধতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন ওঠে না। তাহলে শুধু শ্রান্তি ও বিনোদন ভাতার ক্ষেত্রেই প্রশ্ন কেন? একমাত্র কারণ, এটি না দেওয়ার জন্যই এমন কৃত্রিম তত্ত্ব দাঁড় করানো হয়েছে।
তারপর দেখুন তাদের কাছে সকল হিসাব থাকা সত্ত্বেও আমাদের নিকট থেকে হিসাব চাওয়া হয়েছে আর এটা করার একমাত্র কারণ হলো শুধু মাত্র সময়ক্ষেপন করা। আমরা তো হিসাব সংগ্রহ সেই বিভিন্ন অধিদপ্তরের নিকট হতেই সংগ্রহ করেছি। তাহলে কেন আমাদের নিকট থেকে সেই হিসাব নিয়ে আবার সেই অধিদপ্তর গুলোর নিকট আবার সেই হিসাব যাচাই করার জন্য পাঠানো তাহলে এখন বুঝতে পারছেন এটা কেন করা হয়েছে।
এরপর যখন বিষয়টি হিসাব যাচাইয়ের জন্য আবার মাউশিতে পাঠানো হলো, তখন শুরু হলো নতুন করে আরেক দফা ষড়যন্ত্র। সেখানে খোঁজ নিতে গিয়ে প্রথম যে বিস্ময়ের ধাক্কা পাওয়া গেল তা হলো—কর্মচারীদের মতো শিক্ষকদেরও উৎসব ভাতা ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে এমন খবরে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা আনন্দে আত্মহারা হওয়ার কথা, তাই না? হ্যাঁ, অবশ্যই তাই। কিন্তু সমস্যা হলো, এটি যদি সত্যিকার অর্থে শিক্ষকদের কল্যাণের কথা ভেবে করা হতো, তাহলে সেই আনন্দ অর্থবহ হতো। বাস্তবে বিষয়টি শিক্ষকদের স্বার্থের জন্য নয়, বরং একটি সুপরিকল্পিত চক্রান্তের অংশ হিসেবেই করা হয়েছে।
চক্রান্তটা কী জানেন? সেটি হলো—এই উৎসব ভাতা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে বলা হবে বাজেটে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। আর সেই অজুহাত দেখিয়ে বলা হবে, সরকারের এবং মাউশির শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য আন্তরিক ইচ্ছা থাকলেও বাজেট ঘাটতির কারণে অন্য কোনো ভাতা বৃদ্ধি করা সম্ভব হচ্ছে না। অর্থাৎ, উৎসব ভাতার বৃদ্ধিকে হাতিয়ার বানিয়েই বাকি ভাতা বৃদ্ধির দাবিকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
এ দেশের আমলারা প্রায়ই বলেন—এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের আবার বাড়িভাড়া ভাতা লাগবে কেন? তাদের মধ্যে কতজন-ই বা নিজ বাড়ির বাইরে থেকে চাকরি করেন? বিষয়টি শুনতে সহজ মনে হলেও প্রশ্ন হলো—এ যুক্তি কি কেবল এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, নাকি অন্য ক্ষেত্রেও একইভাবে যাচাই করা হয়? যদি অন্যদের ক্ষেত্রে এ ধরনের যাচাইয়ের প্রয়োজন হয় না, তাহলে শুধুমাত্র এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেলায় কেন এই প্রশ্ন তোলা হচ্ছে?
আসলে এভাবে উল্লেখ করার মূলে রয়েছে একটি সুস্পষ্ট মনোভাব—আমলারা কোনোভাবেই এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া ভাতা বৃদ্ধিকে মেনে নিতে পারছেন না। এটি তাদের অনীহা ও বিরূপ দৃষ্টিভঙ্গিরই বহিঃপ্রকাশ।
মাউশি থেকে আরও যে তথ্য পাওয়া গেছে তা হলো—শিক্ষা মন্ত্রণালয় বাড়িভাড়া ভাতা বৃদ্ধির জন্য তিনটি আলাদা অপশন দিয়েছে। সেগুলো হলো:
১) বাড়িভাড়া ২০% বৃদ্ধি এবং সর্বনিম্ন ৩,০০০ টাকা নির্ধারণ।
২) বাড়িভাড়া ১৫% বৃদ্ধি এবং সর্বনিম্ন ২,০০০ টাকা নির্ধারণ।
৩) বাড়িভাড়া ১০% বৃদ্ধি এবং সর্বনিম্ন ২,০০০ টাকা নির্ধারণ।
এই তিনটি হিসাব টেবিল আকারে তৈরি করে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এখানে বিষয়টি স্পষ্ট—শিক্ষা মন্ত্রণালয় কেবল হিসাব যাচাই ও প্রকৃতপক্ষে কত টাকা প্রয়োজন তার হিসাবই মাউশির কাছ থেকে চেয়েছে। কিন্তু ‘কি দেওয়া হবে, কবে দেওয়া হবে এবং কত দেওয়া হবে’—সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত মাউশিকে জানানো হয়নি।
তাহলে প্রশ্ন আসে, মাউশির কর্মকর্তারা কেন আগ বাড়িয়ে বলছেন যে এ বছর দেওয়া হবে বা আগামী বছর দেওয়া হবে? আসলেই কি তাদের এ ধরনের মন্তব্য করা উচিত? নাকি তারা ঈর্ষাপরায়ণ মনোভাব থেকে বিষয়টিকে বিভ্রান্তিকরভাবে উপস্থাপন করছেন?
ভাতা বৃদ্ধির হিসাব নিয়ে নাকি আবারও নতুন একটি ষড়যন্ত্র বের হয়েছে আমাদের মেধাবী আমলাদের মাথা থেকে—এমন গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। সেটি হলো, যারা দূরবর্তী স্থান থেকে চাকরি করতে আসেন তাদের জন্য এক ধরনের বাড়িভাড়া ভাতা, আর যারা নিজ বাড়ি থেকেই চাকরি করেন তাদের জন্য ভিন্ন ধরনের বাড়িভাড়া ভাতা নির্ধারণের চিন্তাভাবনা চলছে। এ ধরনের প্রস্তাব তৈরি করার উদ্দেশ্য হলো এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি ছাড়া আর কিছুই না।
ইতিপূর্বে মাউশির কর্মকর্তারা ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবে বৈষম্যমুলক বদলি ব্যবস্থা চালু করতে গিয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের মধ্যে দুইটি গ্রুপ করে ফেলেছে। তারা কি বিষয়টি বুঝে না নাকি বুঝেও ইচ্ছাকৃত সমস্যাগুলো তৈরি করে। সেই তো সর্বজনীন বদলিই চালু হতে যাচ্ছে তাহলে কেন এই বিতর্ক উস্কে দেওয়া হলো। তাহলে কি ধরে নেব এই বিতর্ক তৈরি করা মাউশির একমাত্র উদ্দেশ্য হল এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মধ্যে বিভক্তির দেওয়াল তোলা।
এখানে কোনো ভণিতা না করে পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দিতে চাই—কোনো প্রকার বৈষম্যমূলক বাড়িভাড়া নীতি শিক্ষক-কর্মচারীরা মেনে নেবেন না।
শেষে যে কথাটা বলতে চাই তা হলো যে যত ধরনের, যত করমের ষড়যন্ত্র করেন না কেন কোন লাভ নাই। আমরা আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য থেকে এক ইঞ্চিও পিছপা হব না দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত। পরিস্কারভাবে বলতে চাই যে, শুধু দাবী মাশেষে স্পষ্টভাবে বলতে চাই—যত রকমের ষড়যন্ত্রই করা হোক না কেন, কোনো লাভ হবে না। আমরা আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য থেকে এক ইঞ্চিও পিছপা হব না, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব। শুধু দাবি মানলেই চলবে না, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই দাবি মেনে নিতে হবে। অন্যথায়, মেনে নিতে বাধ্য করা হবে। এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা একবার যখন রাস্তায় নেমেছেন, দাবি পূর্ণ আদায় না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরবেন না। তাই কোনো ছলচাতুরী করে লাভ হবে না। ষড়যন্ত্র করার আগে মনে রাখবেন—আগামী ১৪, ১৫ ও ১৬ তারিখের ঘোষিত কর্মসূচির কারণে শিক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়বে। আমরা চাই না আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হোক, কিন্তু যদি পরিস্থিতি আমাদের বাধ্য করে, তবে দায়ভার আমাদের নয়।
যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আরও বলতে চাই—আপনারা অনেক চেষ্টা করেছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ফাঁকি দেওয়ার জন্য। কিন্তু প্রশ্ন হলো, নিজেদের ক্ষেত্রে কখনো ভেবে দেখেন না যে টাকা কোথা থেকে আসবে, অথচ আমাদের বেলায় সেই অজুহাত দেখান কেন? কি মনে করেন—এ দেশের মানুষ কিছু বোঝে না? আসলে সবই বোঝে, শুধু সম্মান রক্ষার্থে চুপ থাকে। তবে মনে রাখবেন, সাধারণ মানুষ ক্ষেপলে কী হয় তার উদাহরণ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। আশা করি, এত দ্রুত সেই উদাহরণ ভুলে যাননি।নলেই হবে ন উল্লেখিত সময়ের মধ্যেই আমাদের দাবী মানতে হবে না মানলে মানতে বাধ্য করা হবে। আমরা এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীরা একবার যখন রাস্তায় নেমেছি দাবী পূর্ণ আদায় না করা পর্যন্ত ঘরে ফিরছি না। কোন প্রকার ছলচাতুরী করে কোন লাভ নাই। ষড়যন্ত্র করার পূর্বে মনে রাখবেন আগামী ১৪, ১৫ ও ১৬ তারিখের ঘোষিত কর্মসূচীর কথা স্থবির হয়ে পড়বে শিক্ষা ব্যবস্থা। আমরা আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জিম্মি করতে চাইনা তবে বাধ্য করবেন না আশা করি।
আমাদের যথাযথ কর্তৃপক্ষে দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছি, চেষ্টাতো অনেক করলেন যাতে এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের ফাঁকি দেওয়া যায়। আপানদের বেলায় তো আপনারা এত চিন্তা করেন না যে, টাকা কোথায় থেকে আসবে তাহলে আমাদের বেলায় কেন। কি বোঝান এদেশের মানুষ কিছু বোঝে না। সব বুঝে শুধু সম্মান রক্ষার্থে কিছু বলে না মনে রাখবেন। সাধারণ মানুষ ক্ষেপলে কি হয় তার উদাহারণ নিশ্চয়ই দেওয়া লাগবে না। আশা রাখি এত দ্রুত ভুলে যান নি।
Leave a Reply