বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বাড়ি ভাড়া ২০ শতাংশে উন্নীত করার জন্য কত টাকা প্রয়োজন হবে—সে সংক্রান্ত আর্থিক ব্যয় বিবরণী সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে তিন অধিদপ্তরে (মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা, মাদ্রাসা, এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর) চিঠি পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে মন্ত্রণালয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, ইতোমধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধির ব্যয় বিবরণী চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। শিগগিরই পর্যায়ক্রমে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরেও একই ধরনের চিঠি পাঠানো হবে। তিন অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও আর্থিক হিসাব পর্যালোচনা করে মন্ত্রণালয় তা অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে। পরবর্তীতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধির পরিপত্র জারি করা হবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, “বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে আমরা ইতিবাচক। তবে শুধু শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদিচ্ছা যথেষ্ট নয়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন অপরিহার্য। এজন্য আমরা এখন অধিদপ্তরগুলো থেকে ব্যয় বিবরণী সংগ্রহ করছি। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।”
তিনি আরও বলেন, “প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে কতদিন সময় লাগবে তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। তবে স্পষ্ট করে বলছি—চলতি বছর থেকেই শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়ি ভাড়া শতাংশ আকারে বাড়বে না। আমরা চেষ্টা করছি দ্রুততম সময়ে প্রস্তাব পাঠাতে।”
উল্লেখ্য, গত ১৩ আগস্ট জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয়করণের দাবিতে মহাসমাবেশ করে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোট। সমাবেশ চলাকালে শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে বসেন শিক্ষক নেতারা। বৈঠকে বাড়ি ভাড়া ২০ শতাংশ করার বিষয়ে মন্ত্রণালয় নীতিগতভাবে সম্মতি জানায়। পরবর্তীতে জোটের নেতারা একটি প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে জমা দেন। সেই প্রস্তাবের ধারাবাহিকতায় এবার ব্যয় বিবরণী সংগ্রহ করতে তিন অধিদপ্তরে চিঠি পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
Leave a Reply