বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের আগস্ট মাসের বেতনের বিল আগামী ২৩ আগস্টের মধ্যে সাবমিট করতে হবে। এই ধরনের একটি নির্দেশনা গত ২১ আগষ্ট মাউশি থেকে জানানো হয়। সেই আদেশে জানানো হয় যে, সকল প্রতিষ্ঠান প্রধানদের কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার পর বেতন-ভাতার হিসেব সম্পন্ন করে সেটি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) প্রশাসন শাখায় পাঠাবে ইএমআইএস সেল। আগামী ২৬ অথবা ২৭ আগস্ট এ প্রস্তাব পাঠানো হতে পারে। কিন্তু সমস্যা বাঁধে অন্য জায়গায় সে জায়গায়টি হল মাউশির বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে ১৬২টি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাদের প্রতিষ্ঠানের আগষ্টের বেতন বিল ইএফটির ড্যাশবোর্ডে সাবমিট করতে পারেনি। আর সেই কারণেই বাঁধে মুল বিপত্তি। পরবর্তীতে মাউশির ইএমআইএস সেল থেকে জানানো হয় যে, যদি আগামী দুই একদিনের মধ্যে ঐ সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বেতন বিল সাবমিট করতে না পারে তাহলে আগষ্ট মাসের বেতন সময়মতো শিক্ষক কর্মচারীদের কাছে পৌছানো দুরহ হয়ে পারবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশির এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম সেলের প্রোগ্রামার-৫ (এমপিও) মো. জহির উদ্দিন বলেন, আগস্ট মাস থেকে স্কুল-কলেজে কতজন শিক্ষক-কর্মচারী বেতন-ভাতা পাবেন সেই তথ্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানদের পাঠাতে হবে। এই তথ্য পাওয়ার পর আমাদের কিছু কাজ করতে হবে। তবে প্রতিষ্ঠানগুলো যদি সময়মতো তাদের বেতনের বিল সাবমিট না করে তাহলে আমরা কিভাবে পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করব। কিভাবে আমরা ২৭ আগস্টের মধ্যে আমরা বেতন বিল প্রস্তুত করে প্রশাসন শাখায় পাঠাব।
জানা গেছে, আগস্ট মাসে স্কুল-কলেজের প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীর বেতনের সারসংক্ষেপ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হতে পারে। এর মধ্যে স্কুলের ২ লাখ ৯১ হাজার ৫১৮ জন ও কলেজের ৮৭ হাজার ৩৮৯ জন শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাজেট শাখা থেকে আগস্টের বেতনের অনুমোদন পাওয়ার পর এটি অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট শাখা পাঠানো হবে। কিন্তু তার আগের কার্যক্রমই এখনও শুরু করা যায়নি। আগামীকালের মধ্যে যদি বেতনের প্রস্তাব যদি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাজেট শাখায় না পাঠানো যায় তাহলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীরা কিন্তু আগষ্টের বেতন পেতে পেতে সেপ্টেম্বর মাসের ১০ তারিখ লেগে যেতে পারে।
এর পূর্বে ইএফটিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীগণ যেভাবে ইএফটির আওতাভুক্ত হয়ে বেতন পেয়েছেন তার মধ্যে রয়েছে-
উল্লেখ্য, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ইএফটি (ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার) ব্যবস্থায় বেতন-ভাতা পেয়ে থাকলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রায়ত্ত চারটি ব্যাংকের মাধ্যমে ‘অ্যানালগ’ পদ্ধতিতে অর্থ উত্তোলন করতেন, যা তাদের জন্য ভোগান্তির কারণ ছিল। এখন ধীরে ধীরে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও ইএফটি সুবিধার আওতায় আসছেন। তবে এখনও ইএফটি বলতে যে ধরনের সুবিধা বোঝায় তা কিন্তু মাউশি, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সদ্বিচ্ছার অভাবে তা এখনও এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের কাছে সোনার হরিণের ন্যায়।
উল্লেখ্য, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ইএফটি (ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার) ব্যবস্থায় বেতন-ভাতা পেয়ে থাকলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রায়ত্ত চারটি ব্যাংকের মাধ্যমে ‘অ্যানালগ’ পদ্ধতিতে অর্থ উত্তোলন করতেন, যা তাদের জন্য ভোগান্তির কারণ ছিল। এখন ধীরে ধীরে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও ইএফটি সুবিধার আওতায় আসছেন। তবে এখানেও রয়েছে হতাশার বিষয় কেননা মাউশি থেকে পরিস্কার ভাবে জানানো হয়েছে যে, সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ইএফটিও ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের এক নয়। সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ইএফটির জন্য প্রতি মাসে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিতে হয় না। কিন্তু এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের জন্য বাস্তবায়িত ইএফটিতে প্রতিমাসে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন হয় বিধায় অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন হয়। আর একারণেই এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীগণ ইএফটির পরিপূর্ণ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এখন ভবিষ্যতে এই সমস্যা কতটুকু দুর করতে পারবে মাউশি তা দেখার বিষয়। তবে গত মাসে জুলাই মাসের বেতন শিক্ষক কর্মচারীরা কিন্তু সঠিক সময়ে পেয়েছিল। কিন্তু এ মাসে কি অবস্থা হয় তা বলা দুরহ।
যারা বিল সাবমিমট দেন নাই-তাদের হয়তো বেতনÑভাততার প্রয়োজন নাই। অতএব তাদেরগুলো বাদ দিয়ে যারা যাবমিট দিয়েছেন তাদের বেতন দিলে সমস্যাটা কোথায়?