বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্য, অবহেলা ও আর্থিক সংকটে ভুগছেন। সরকারি চাকরিজীবীরা যেখানে বিভিন্ন ভাতা, সুবিধা ও প্রণোদনা পান, সেখানে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা বেতন বাবদ যে ভাতা পান তা বাস্তবতার নীরিক্ষে অত্যন্ত দৃষ্টিকুটু কেননা তারা শুধু মুল বেতনের অংশটুকুই পান। সরকারী চাকুরীজীবিরা যেখানে মুল বেতনের সাথে অন্যান্য ভাতা পান তা প্রায় মুল বেতনের প্রায় সমপরিমাণ সেখানে এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীরা সেই ভাতাগুলো যে পরিমাণে পান তা বলতে ও লিখতে গেলে শুধু লজ্জা ছাড়া আর কিছু পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না। এই বাস্তবতার আলোকেই তারা তাদের জীবিকা নির্বাহ করেন। এর মধ্যে বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা শিক্ষকদের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়। বর্তমানে তারা মাত্র ১০০০ বাড়িভাড়া পান, যা বর্তমান নগরজীবন ও বাড়িভাড়ার বাজারদরের সঙ্গে সম্পূর্ণ বেমানান। অন্যদিকে, চিকিৎসা ভাতার পরিমাণ ৫০০ টাকা যা সরকারী চাকুরীজীবিদের তিন ভাগের এক ভাগ বাস্তবিকভাবে এটি শিক্ষকদের চিকিৎসা ব্যয়ের সামান্য অংশও পূরণ করতে পারে না।
এই প্রেক্ষাপটে গত ১৩ আগষ্ট শিক্ষকদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আশ্বাসে শিক্ষক প্রতিনিধিগণের নিকট হতে মাননীয় শিক্ষা উপদেষ্টা বাড়িভাড়া ২০% হারে ও চিকিৎসাভাতা ১০০০টাকা করে দিতে কি পরিমাণ টাকা লাগবে তার একটি হিসাব দিতে বলেন। শিক্ষক প্রতিনিধিগণ গত ২০ আগষ্ট সেই হিসাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পৌছে দিয়ে আসেন। বর্তমানের সেই বিষয়ের আপডেট নিউজ যা তা হল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বাড়িভাড়া ২০ শতাংশে উন্নীত করার প্রস্তাবটি মাউশি’তে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে যা একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসাবেই বিবেচনা করা যায়। এটি নিছক আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধির প্রস্তাব নয়, বরং শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি পূরণের পথে একটি আশাব্যঞ্জক সূচনা। কারণ, একজন শিক্ষক দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়তে যে দায়িত্ব পালন করেন, তার সঙ্গে প্রাপ্ত সুবিধার কোনো মিল নেই। অন্যদিকে, চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধি প্রস্তাবটিও শিক্ষকদের জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। আজকের দিনে চিকিৎসা খরচ এত বেড়ে গেছে যে, বিদ্যমান চিকিৎসা ভাতা শিক্ষকদের জন্য প্রায় অকার্যকর। ফলে তাদের জীবনের মানোন্নয়নে এটি অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ২০% বাড়িভাড়া ও চিকিৎসাভাতা ৫০০টাকা বৃদ্ধির প্রস্তাবনা যাচাইয়ের জন্য মাউশি’তে প্রেরণ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা। আর মাউশি থেকে উপরিউক্ত হিসাবটি যাচাই হয়ে আসলেই তা অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে বলে নিশ্চিত করেছে।
পরিশেষে যে কথাটি বলতে চাই তা হলো প্রিয় এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারী বৃন্দ ভাই বোনেরা সরকার তার কাজ করছে ভাল কথা সাথে সাথে আমরা আমাদের প্রস্তুতি নিতে থাকব। যত প্রকার ষড়যন্ত্র হোক আর যাই হোক না কেন । যদি আমরা দেখি আমাদের এই দাবী আদায়ে কোন প্রকার গড়িমসি বা ছলচাতুরী আশ্রয় নেওয়া হয়েছে তাহলে যেন আমরা আমাদের নিজেদের প্রয়োজনে একযোগে ষড়যন্ত্রের কালোহাত দুমড়ে মুচড়ে দিতে রাজপথে নামতে পাড়ি। কর্মসূচীতো আমাদের ঘোষণা করাই আছে। আমরা সকলেই নেতা আমরা সকলেই কর্মী। আমদের সকলের দাবী একটাই।
Leave a Reply