বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়ি ভাতা বৃদ্ধির দাবিকে ঘিরে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে। এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি প্রস্তাব জমা দিয়েছে, যেখানে শিক্ষকদের বাড়ি ভাতা বর্তমান নির্দিষ্ট অঙ্কের পরিবর্তে ২০ শতাংশ করার দাবি তোলা হয়েছে। জাতীয়করণ প্রত্যাশীজোটের পক্ষ হতে তবে এ বিষয় নিয়ে গত রাত হতে সোশ্যাল মিডিয়া সহ বিভিন্ন মেইন ষ্টীম প্রিন্ট মিডিয়ায় দিনভর আলোচনার তুঙ্গে ছিল এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের বিভিন্ন ভাতা বৃদ্ধির এই খবরটি। তবে এই বিষয়টি দিনভর আলোচনার পর মাউশি সহ বিভিন্ন সুত্রে যে বিষয়টি জানা গিয়েছে তা হলো তারা সকলেই যে বিষয়টি জানিয়েছে তা হলো এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের এই দাবীর বিষয়ে তারা একমত তবে এই প্রস্তাবটি এখনো অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়নি বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব (বেসরকারি মাধ্যমিক-৩) সাইয়েদ এ. জেড. মোরশেদ আলী সাংবাদিকদের কাছে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য বাড়ি ভাতা ২০ শতাংশ করার প্রস্তাবটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা পড়েছে, তবে সেটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এখনো হয়নি।
এর আগে বুধবার রাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক-১) মো. মজিবর রহমান দাবি করেছিলেন যে, শিক্ষকদের বাড়ি ভাতা ২০ শতাংশ করার প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এই বক্তব্যে কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি হয়। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা জানান, শিক্ষকদের নির্দিষ্ট অঙ্কের বাড়ি ভাতা—যেমন এক হাজার টাকা থেকে দুই হাজার টাকায় উন্নীত করা এবং চিকিৎসা ভাতা ৫০০ টাকা থেকে এক হাজার টাকায় উন্নীত করার একটি প্রস্তাব অনেক আগে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। সম্ভবত অতিরিক্ত সচিব সেটির কথাই বোঝাতে চেয়েছেন। তবে শিক্ষকরা যেটি দাবি করছেন—নির্দিষ্ট অঙ্ক বাদ দিয়ে মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বাড়ি ভাতা নির্ধারণ—সেটির প্রস্তাব এখনো অর্থ মন্ত্রণালয়ে যায়নি। কোনদিন যাবে এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে কেউ কিছু বলছে না। কারণ প্রস্তাবনা পাঠানোর বিষয়টি এত দ্র্রুততর সময়ের মধ্যে কখনই করা সম্ভব নয় কারণ প্রস্তাবনা পাঠানোর নিদিষ্ট কিছু প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয় সেই প্রক্রিয়াগুলো শেষ করতে আরও বেশ কিছুদিন সময়ের দরকার যদিও বিষয়টি অনেকটা তামাশার মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটা কথা পরিষ্কার করে বলছি তা হল এমপিও শিক্ষক কর্মচারীরা অতীতে বহু তামাশার শিকার হয়েছে নতুন করে আরও কোন তামাশা মেনে নিবে না।
এখানে একটা কথা উল্লেখ্য যে, এই সংবাদটি সর্ব প্রথম প্রচারিত হয় দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস নামক একটি অনলাইন প্লাটফর্মে। তারা তাদের পূর্ব অনুমান ও একটি ভুল তথ্যের মাধ্যমে বিষয়টি অবতারণা করেন। পরে তারা বিষয়টি নিয়ে তাদের অবস্থান পরিস্কার করেছে। তবে কিভাবে এ ধরনের ভুল বোঝাবুঝি হয় সে বিষয়টি পরিস্কার করে নি। দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের নিয়ে অতীতেও অনেক ভালো ও শিক্ষকদের কল্যানে গঠনমুলক নিউজ প্রচার করেছে আশা করি আগামীর দিনেও তারা তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে তবে এধরনের সেনসেটিভ নিউজ প্রচার করার আগে আরও তথ্যবহুল ও নিশ্চিত হয়ে তারপর প্রচার করবে আশা রাখি।
তবে এখানে আরও একটি বিষয় উল্লেখ যোগ্য মানলাম দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস যে কোন বিভ্রান্তিতে পড়ে একটি নিউজ প্রচার করেছে তাহলে অন্যান্য প্রিন্ট মিডিয়াগুলো সারাদিন কেন সেই বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে সেই নিউজ প্রচার করল। তাই এখানে একটা বিষয় পরিস্কার যে, এমন হতে পারে মন্ত্রণালয় বিষয়টি গোপন করার চেষ্টা করছে।
পরিশেষে আমি একজন এমপিওভুক্ত শিক্ষক হিসাবে যে কথাটি বলব তা হলো কে কি প্রচার করল, কোন মিডিয়াতে কি প্রচার হলো তাতে আমার বা আমাদের এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের তেমন কোন যায় আসে না। মিডিয়া হয়ত কোন সুত্র থেকে কোন বিষয় জানতে পেরে তা প্রচার করেছে। মিডিয়া তার দ্বায়িত্ব পালন করেছে। আমরা আমাদের অবস্থান থেকে বলছি যে কোন মুল্যে আমরা আমাদের দাবীর পক্ষে সর্বাত্নকভাবে চেষ্টা অব্যাহত রাখব। আর কোনপ্রকার চাপের কাছে আমরা এমপিওভুক্ত শিক্ষক সমাজ আমাদের মাথা নত করব না। যে কোন প্রকারে আমরা আমাদের দাবী আদায় না করে ঘরে ফিরব না। একবার যেমন আমরা রাস্তায় নেমেছি দাবী আদায় না করে ঘরে ফিরব না।
উল্লেখ্য, গত ১৩ আগস্ট এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মহাসমাবেশ করে এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোট। এই কর্মসূচিতে সারাদেশ থেকে প্রায় অর্ধলাখ শিক্ষক অংশ নেন। কর্মসূচির একপর্যায়ে শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে জোটের নেতাদের দীর্ঘ বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে শিক্ষা মন্ত্রণালয় নীতিগতভাবে শিক্ষকদের বাড়ি ভাতা ২০ শতাংশ করার প্রস্তাবে সম্মতি জানায়। একই সঙ্গে কত অর্থ প্রয়োজন হবে সেই হিসাবসহ একটি প্রস্তাব জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত বুধবার এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব জমা দেয়।
Leave a Reply