বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে তারা নানান আর্থিক সংকটের মুখে রয়েছেন এবং নিজেদের ন্যায্য ভাতা ও সুবিধা বৃদ্ধির দাবি অব্যাহতভাবে জানিয়ে আসছেন। সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় এসেছে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া ভাতা ২০% হারে বৃদ্ধির প্রসঙ্গ। গত ১৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব চেয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সেই প্রস্তাবের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা বিস্তারিত হিসাব আগামী বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও শিক্ষক-কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে বহুদিন ধরেই এমপিওভুক্তদের ভাতা বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে বাড়িভাড়া ভাতা দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকদের আন্দোলন ও দাবির কেন্দ্রে রয়েছে। সম্প্রতি ২০% হারে বাড়িভাড়া ভাতা প্রদানের প্রস্তাব নিয়ে একটি হিসাব প্রকাশ করা হয়েছে, যা থেকে পরিষ্কারভাবে বোঝা যায় এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সরকারের কী পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ প্রয়োজন হবে।
হিসাব অনুযায়ী, তিনটি শিক্ষা অধিদপ্তরের জন্য মোট ২৭১.০২ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে প্রতি মাসে। এর মধ্যে—
বর্তমানে প্রায় ৫.৫ লক্ষ শিক্ষক ও কর্মচারীকে বাড়িভাড়া ভাতা হিসেবে মাসে ১,০০০ টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ, মোট খরচ হচ্ছে—
৫.৫ × ১০০০ = ৫৫.০০ কোটি টাকা প্রতি মাসে।
২০% হারে ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে মোট খরচ হবে ২৭১.০২ কোটি টাকা। অথচ বর্তমানে ৫৫.০০ কোটি টাকা দেওয়া হচ্ছে।
তাহলে অতিরিক্ত প্রয়োজন হবে—
২৭১.০২ – ৫৫.০০ = ২১৬.০২ কোটি টাকা প্রতি মাসে।
শুধু মাসিক হিসাবেই নয়, বার্ষিক ব্যয়ের চিত্রও বেশ বড়। ১২ মাসে অতিরিক্ত ব্যয় হবে—
২১৬.০২ × ১২ = ২৫৯২.২৪ কোটি টাকা।
এই হিসাব থেকে পরিষ্কার বোঝা যায়, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া ভাতা ২০% হারে বৃদ্ধি করতে গেলে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিতে হবে। যদিও এটি বড় অঙ্কের অর্থ, তবুও শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি পূরণ ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের জন্য এই ব্যয়কে একটি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবেই বিবেচনা করা যেতে পারে।
এখানে আরও একটি বিষয় স্পষ্ট, সরকার যদি এ ভাতা নির্দিষ্ট অঙ্কে (যেমন ১,০০০ টাকা) বৃদ্ধি করে, তবে প্রকৃতপক্ষে শিক্ষকদের প্রত্যাশিত সুবিধা তারা পাবেন না। অথচ শতাংশ হারে বৃদ্ধি করলে পদমর্যাদা ও বেতনভেদে সবার জন্য ন্যায্যতার ভিত্তিতে বাড়িভাড়া নিশ্চিত করা সম্ভব।
শিক্ষা হলো রাষ্ট্রের উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি, আর শিক্ষক হলেন তার মূল ভিত্তি। তাই শিক্ষকদের জন্য যৌক্তিক সুবিধা নিশ্চিত করা শুধু ন্যায্যতাই নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়ে তোলার একান্ত শর্ত। ২০% হারে বাড়িভাড়া ভাতা বাস্তবায়ন করতে সরকারের অতিরিক্ত ২৫৯২.২৪ কোটি টাকা প্রয়োজন হলেও, এটি হবে শিক্ষাখাতে একটি যুগান্তকারী বিনিয়োগ।
বিঃদ্রঃ হিসাবটি জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের করা আমার নিজের করা নয়। কারও ভাবার কোন কারণ নেই যে, হিসাবটি আমার করা। (সংগৃহীত)
4
Leave a Reply