বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য শ্রান্তি বিনোদন ভাতা চালু করা আপাতত কঠিন বলে মন্তব্য করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্যমতে, এ ভাতা চালুর ক্ষেত্রে বিষয়টির একটি সুদৃঢ় আইনগত ভিত্তি থাকা আবশ্যক এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অর্থ বরাদ্দ অনুমোদন করাও অপরিহার্য। তাই শুধুমাত্র মন্ত্রণালয়ের ইতিবাচক মনোভাব থাকলেই এই ভাতা চালু সম্ভব নয়, বরং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা নিশ্চিত হওয়াও জরুরি।
বুধবার দুপুরে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের সদস্যদের সঙ্গে এক বৈঠকে শিক্ষক নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রান্তি বিনোদন ভাতা চালুর দাবি উত্থাপন করেন। আলোচনার পর শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরার বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এ প্রসঙ্গে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, নাম প্রকাশ না করার শর্তে, জানান—শিক্ষকদের বাড়ি ভাড়া এবং চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধির বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে এবং এ নিয়ে ইতিমধ্যে শিক্ষকদের কাছ থেকে প্রস্তাবনা চাওয়া হয়েছে। প্রাপ্ত প্রস্তাবনা যাচাই-বাছাই করে ভাতা বৃদ্ধির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একইভাবে, এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মচারীদের ভাতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও সরকার অনুকূল মনোভাব পোষণ করছে। তবে শ্রান্তি বিনোদন ভাতা চালুর ক্ষেত্রে আইনগত ভিত্তি ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত না হলে অগ্রগতি সম্ভব নয়, যা আপাতত একটি বড় বাধা বলে মনে হচ্ছে।
এদিকে এর আগে, বুধবার সকাল ৯টা থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের দাবিতে শিক্ষকরা ধারাবাহিক কর্মসূচি শুরু করেন। আন্দোলনের কারণে প্রেস ক্লাব সংলগ্ন সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিক্ষোভ চলাকালীন দুপুরে শিক্ষক নেতাদের একটি ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল সচিবালয়ে প্রবেশ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে প্রবেশাধিকার পান। সেখানে টানা এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনার শেষে শিক্ষা উপদেষ্টার আশ্বাসে আন্দোলন সাময়িক স্থগিত করে শিক্ষকরা সরকারকে এক মাস সময়সীমা বেঁধে দেন, যাতে এই সময়ে তাদের দাবি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়।
Leave a Reply