জাতীয়করণের দাবিতে চলমান আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সম্পন্ন করেছেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি. আর. আবরার। বুধবার দুপুর দেড়টার কিছু আগে শুরু হওয়া এ বৈঠক চলে প্রায় পৌনে ৩টা পর্যন্ত। বৈঠকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব (মাধ্যমিক-২) সাইয়েদ এ. জেড. মোরশেদ আলী উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে সংশ্লিষ্টরা সাংবাদিকদের ব্রিফ করার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন।
সভা-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে প্রধানত দুইটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে—প্রথমত, সর্বজনীন বদলি নীতি এবং দ্বিতীয়ত, বাড়ি ভাড়া ভাতা বৃদ্ধি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাড়ি ভাড়া ভাতা কীভাবে বৃদ্ধি করা যায় সে বিষয়ে শিক্ষকদের কাছ থেকে লিখিত প্রস্তাবনা চাওয়া হয়েছে, যা শিক্ষকরা আলোচনার মাধ্যমে তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে জমা দেবেন। অপরদিকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, বাড়ি ভাড়া ভাতাসহ অন্যান্য আর্থিক সুবিধার উন্নয়নের বিষয়গুলো সমাধানে তারা উদ্যোগ নেবে। সভার একটি সূত্র জানিয়েছে, শিক্ষকদের দাবিগুলো নীতিগতভাবে মেনে নেওয়া হয়েছে এবং তা ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
জাতীয়করণের দাবিতে শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেওয়া ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দলে ছিলেন—ঢাকা মহিলা কলেজের মো. মাইনুদ্দিন, ময়মনসিংহের কাতলাসেন কাদেরিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরের হায়দর নগর কলাকান্দি আছমাতুন্নেসা উচ্চ বিদ্যালয়ের সরকারি শিক্ষক মো. আবু তালেব সোহাগ, বরিশালের আনোয়ারা ফাজিল মাদ্রাসার শান্ত ইসলাম, শামসুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের আবুল বাশার, বাগাদি গনী উচ্চ বিদ্যালয়ের জাহাঙ্গীর হোসেন, পাবনার সুজানগরের খলিলপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও বিটিএফ সভাপতি হাবিবুল্লাহ রাজু, নরসিংদীর সরদার আসমত আলী মহিলা কলেজের জহিরুল ইসলাম, গেন্ডারিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম এবং কুমিল্লার দেবিদ্বার ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলাউদ্দিন।
এর আগে বুধবার সকাল ৯টা থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে শিক্ষকদের এক বৃহৎ সমাবেশ শুরু হয়। সমাবেশের এক পর্যায়ে আন্দোলনরত শিক্ষক নেতাদের মধ্যে থেকে ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল আলোচনার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রবেশ করেন।
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে টানা ২০ দিন অবস্থান ও অনশন কর্মসূচি পালন করে শিক্ষকরা সরকারের কাছ থেকে ৫ শতাংশ বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ও ২০ শতাংশ বৈশাখী ভাতার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করেছিলেন। সে সময় শিক্ষা জাতীয়করণের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তা পরবর্তীতে বাস্তবায়িত হয়নি। সরকার পরিবর্তনের পর অন্তবর্তী সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে বৈষম্য নিরসন ও সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয় এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে উৎসব ভাতা ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি করার ঘোষণা দেওয়া হয়। পাশাপাশি পরবর্তী বাজেটে বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা ও শ্রান্তি বিনোদন ভাতা কার্যকরেরও ঘোষণা দেন তিনি।
তবে শিক্ষক নেতাদের অভিযোগ, শিক্ষা উপদেষ্টার সুস্পষ্ট ঘোষণা সত্ত্বেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু হয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা, শতভাগ উৎসব ভাতা ও শ্রান্তি বিনোদন ভাতার বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত দাবিগুলো আদায়ে আবারও রাজপথে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা।
Leave a Reply