1. admin@kp-nat.com : admin : Ayub Ali
  2. ayub.bhs@gmail.com : Ayub ali : Ayub ali
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৩ অপরাহ্ন
Title :
নিজ দল থেকে বহিস্কৃত হলেন জামায়াতে ইসলামের আলোচিত সমালোচিত সেই এমপি এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের জুলাই মাসের বেতনের প্রস্তাব কোনদিন যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জানাল মাউশি বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে বিদ্যালয়ের বাহিরে যেতে পারবেন না শিক্ষক এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ কোনদিন জানাল আন্তঃশিক্ষা বোর্ড এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জুলাইয়ের বেতন নিয়ে যা জানাল মন্ত্রণালয় MPO মাদ্রাসা শিক্ষকদের বদলি নিয়ে তৈরি হয়েছে যে কারণে অনিশ্চয়তা এমপিও শিক্ষকদের বদলি আবেদনের অনুমতি চেয়ে চিঠি কবে, জানালেন মাউশি বেসরকারী এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের নিয়োগের ক্ষমতা আবারও ম্যানেজিং কমিটির হাতে এনটিআরসিএ-র নবম নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হবে যে সকল বিষয়ে পে স্কেল যে কারণে স্থগিতের পরামর্শ আইএমএফের

এবারেও যদি আমরা সফল না হই তাহলে কিন্তু সত্যিই আমরা পিছিয়ে পড়ব-ডেডলাইন ১৩ আগষ্ট

  • Update Time : মঙ্গলবার, ১২ আগস্ট, ২০২৫
  • ২৬৬ Time View
এবারেও যদি আমরা সফল না হই তাহলে কিন্তু সত্যিই আমরা পিছিয়ে পড়ব-ডেডলাইন ১৩ আগষ্ট

এবারেও যদি আমরা সফল না হই তাহলে কিন্তু সত্যিই আমরা পিছিয়ে পড়ব – ডেডলাইন ১৩ আগস্ট

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার অগ্রযাত্রায় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের অবদান অপরিসীম। স্বাধীনতার পর গ্রামীণ ও প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষকে শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এরা ছিলেন মূল ভরসা। সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা সীমিত হওয়ায় অসংখ্য বেসরকারি বিদ্যালয় ও কলেজ গড়ে ওঠে, যা মূলত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে চালু থাকে। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী—শিক্ষা বিস্তারের এই মহান দায়িত্ব পালনের পরও তাদের প্রাপ্য সম্মান ও অধিকার নিশ্চিত করা হয়নি।

এমপিওভুক্তির সূচনা হয়েছিল ১৯৮০-এর দশকে, যার মাধ্যমে সরকার শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনের একটি অংশ বহন করতে শুরু করে। সেই সময় এটি ছিল শিক্ষকদের জন্য বড় স্বস্তির বিষয়, কিন্তু এটি পূর্ণাঙ্গ সমাধান ছিল না। সরকারি শিক্ষকদের মত সমান বেতন, পেনশন, চিকিৎসা ভাতা, উৎসব ভাতা কিংবা বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের মতো সুবিধা তারা পাননি। ১৯৯০-এর দশকে ও পরবর্তী সময়ে বহুবার আন্দোলন, স্মারকলিপি প্রদান, অনশন, এমনকি প্রাণ হারানোর মতো মর্মান্তিক ঘটনা ঘটলেও তাদের দাবি পূরণের পদক্ষেপ বারবার রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও বাজেট সীমাবদ্ধতার অজুহাতে থমকে গেছে।

বঞ্চনার এই ইতিহাস আরও গভীরে গেলে দেখা যায়—প্রতিবার নতুন পে-স্কেল ঘোষণার সময় সরকারি শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি অন্যান্য সুবিধা বাড়ালেও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের শুধু বেতন স্কেলেরই বৃদ্ধি ঘটে তাও নানা ধরনের গড়িমসির পর কিন্তু অন্যান্য দাবি গুলো বরাবরের মত উপেক্ষিত থাকে। শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা নষ্ট হয় যখন তাদের মাসের পর মাস বেতন বকেয়া পড়ে থাকে, এবং ন্যূনতম জীবনযাপনের নিশ্চয়তাও থাকে না। অনেক সময় অবসর গ্রহণের পরও তারা আর্থিক অনিশ্চয়তায় জীবন কাটাতে বাধ্য হন, কারণ তাদের জন্য পেনশন বা প্রভিডেন্ট ফান্ডের ব্যবস্থা নেই। এর বিপরীতে একই পেশায় নিয়োজিত সরকারি শিক্ষকরা আর্থিক ও সামাজিকভাবে অনেক বেশি সুরক্ষা ভোগ করেন। এই বৈষম্য কেবল অর্থনৈতিক নয়—এটি একটি পেশাগত অবমূল্যায়ন, যা শিক্ষা খাতে গভীর হতাশা তৈরি করেছে।

কালানুক্রমিক ইতিহাস (১৯৮০–২০২৫) সরকারের প্রতিক্রিয়া ও শিক্ষকদের প্রতিক্রিয়াসহ

  • ১৯৮০ – এমপিও (Monthly Pay Order) চালু হয়। উদ্দেশ্য ছিল বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনের অংশ বিশেষ বহন করা।
    সরকারের প্রতিক্রিয়া: উদ্যোগটিকে যুগান্তকারী ঘোষণা করা হয়, কিন্তু পূর্ণ সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়নি। যেখান থেকে শুরু সেখান থেকে বৈষম্য শুরু। এই হলো এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জীবন।
    শিক্ষকদের প্রতিক্রিয়া: প্রাথমিকভাবে স্বস্তি পেলেও পূর্ণ বেতন কাঠামো না থাকায় হতাশা রয়ে যায়।
  • ১৯৯০-এর দশক – এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সংখ্যা বাড়ে, কিন্তু সুবিধা সীমিতই থাকে।
    সরকারের প্রতিক্রিয়া: এমপিওর আওতা বৃদ্ধিকে ‘শিক্ষা বিস্তারে অবদান’ বলে প্রচার করে, কিন্তু অর্থ বরাদ্দ বাড়ায়নি।
    শিক্ষকদের প্রতিক্রিয়া: জাতীয়করণের দাবিতে কয়েক দফা আন্দোলন, তবে বড় ধরনের সাফল্য নেই।
  • ২০০৪ – ঢাকায় বড় আন্দোলন। শিক্ষকরা জাতীয়করণের দাবি তোলে।
    সরকারের প্রতিক্রিয়া: আন্দোলনকে ‘অযৌক্তিক’ আখ্যা দিয়ে কেবল কিছু ভাতা বৃদ্ধি করে।
    শিক্ষকদের প্রতিক্রিয়া: আন্দোলন স্থগিত করে নতুন পরিকল্পনায় ফেরার প্রস্তুতি নেয়।
  • ২০০৯ – নবম জাতীয় পে-স্কেল ঘোষণার সময় এমপিওভুক্তদের পূর্ণ সুবিধা দেওয়া হয়নি। যে সুবিধা গুলো সরকারী শিক্ষক বা অন্যান্য কর্মকর্তা কর্মচারীদের বৃদ্ধি করা হয় কিন্তু এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের বেলায় সেই সুবিধাগুলো পূর্বের জায়গায় বহাল থাকে।
    সরকারের প্রতিক্রিয়া: বাজেট সীমাবদ্ধতার অজুহাত।
    শিক্ষকদের প্রতিক্রিয়া: কর্মবিরতি, মানববন্ধন, গণমিছিল—তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ।
  • ২০১০–২০১৩ – ধারাবাহিক অনশন, কর্মসূচি ও স্মারকলিপি প্রদান।
    সরকারের প্রতিক্রিয়া: আশ্বাস দিলেও কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি।
    শিক্ষকদের প্রতিক্রিয়া: হতাশা বাড়লেও আন্দোলনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন।
  • ২০১৫ – দশম পে-স্কেলে সরকারি শিক্ষকদের বেতন ব্যাপক বাড়ে, কিন্তু এমপিওভুক্তদের সুবিধা সামান্যই।
    সরকারের প্রতিক্রিয়া: এমপিওভুক্ত বেতন বৃদ্ধিকে ‘সামর্থ্যের মধ্যে সেরা পদক্ষেপ’ বলে প্রচার করে।
    শিক্ষকদের প্রতিক্রিয়া: সারাদেশে বিক্ষোভ ও কর্মবিরতি।
  • ২০১৭ – সারাদেশে ‘পদযাত্রা’ কর্মসূচি।
    সরকারের প্রতিক্রিয়া: ইনক্রিমেন্ট বৃদ্ধি ও বৈশাখী ভাতা চালূ হয়, কিন্তু জাতীয়করণে নীরবতা।
    শিক্ষকদের প্রতিক্রিয়া: আংশিক সাফল্য পেলেও মূল দাবি পূরণ না হওয়ায় ক্ষোভ।
  • ২০১৯ – জাতীয় নির্বাচনের পর আন্দোলন।
    সরকারের প্রতিক্রিয়া: নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিলেও তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ নেয়নি।
    শিক্ষকদের প্রতিক্রিয়া: রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে আন্দোলন স্থগিত রাখেন।
  • ২০২০–২০২১ (কোভিড-১৯) – অনলাইন ক্লাস চালালেও অনেক শিক্ষক নিয়মিত বেতন পাননি।
    সরকারের প্রতিক্রিয়া: ‘অর্থনৈতিক মন্দা’ অজুহাতে বরাদ্দ কম।
    শিক্ষকদের প্রতিক্রিয়া: আর্থিক সংকটে চরম অসন্তোষ।
  • ২০২২ – জাতীয়করণের দাবিতে বৃহৎ সমাবেশ।
    সরকারের প্রতিক্রিয়া: পুনরায় বাজেট সীমাবদ্ধতার কথা বলে সময়ক্ষেপণ।
    শিক্ষকদের প্রতিক্রিয়া: ‘দীর্ঘ প্রতিশ্রুতি, শূন্য বাস্তবায়ন’ বলে ক্ষোভ প্রকাশ।
  • ২০২৩ – দীর্ঘ সময় ধরে আন্দোলন চলে পরবর্তীতে সরকারের আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত করে শিক্ষকরা ফিরে আসে।
    সরকারের প্রতিক্রিয়া: ভবিষ্যতে বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস। কিন্তু সেই আশ্বাস পরবর্তীতে ফাঁকিতে পরিণত হয়।
    শিক্ষকদের প্রতিক্রিয়া: আশঙ্কা ও সন্দেহের দোলাচল।
  • ২০২৫ (বর্তমান) – ১৩ আগস্টকে কেন্দ্র করে জাতীয়করণের দাবিতে নতুন আন্দোলন ঘোষণা।
    সরকারের প্রতিক্রিয়া: এখনো কোনো দৃঢ় প্রতিশ্রুতি নেই।
    শিক্ষকদের প্রতিক্রিয়া: এবার ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতে আর সুযোগ নাও আসতে পারে—এমন আশঙ্কা।

২১শ শতাব্দীতে প্রবেশের পর এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা বারবার জাতীয়করণের দাবি তুলেছেন, কারণ তারা মনে করেন শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা অপরিহার্য। ২০১০-এর দশকে আন্দোলনের তীব্রতা বাড়লেও প্রতিবারই সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস দিয়ে আন্দোলন থামিয়ে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। শিক্ষানীতি প্রণয়নের সময়ও এই দাবি বারবার উত্থাপিত হলেও সেটি চূড়ান্ত রূপ পায়নি।

বর্তমানে ১৩ আগস্টকে কেন্দ্র করে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা আবারও নতুন করে জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাদের বিশ্বাস, এবার যদি দাবি আদায় না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আন্দোলনের গতি ও প্রভাব অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়বে, কারণ দীর্ঘদিনের অপূর্ণ প্রতিশ্রুতি শিক্ষকদের মধ্যে হতাশা ও অবিশ্বাস তৈরি করেছে। একইসাথে রাজনৈতিক অঙ্গনে এ বিষয়টি গুরুত্ব হারালে তা পুনরায় আলোচনার টেবিলে আনা কঠিন হয়ে পড়বে। তবে আশাংকার জায়গা যেটা তা হল এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের এই আন্দোলনে সকল সংগঠন একাত্নতা ঘোষণা করে নাই। অনেক সংগঠন এই আন্দোলনকে অযৌক্তিক ও নানা ধরনের মন্তব্যে বিশেষায়িত করছে যেটি সত্যিই হতাশাজনক।

এই ডেডলাইনের গুরুত্ব শুধু এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য নয়, বরং বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ভবিষ্যতের সাথেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। শিক্ষকদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, কর্ম-প্রেরণা এবং পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত না হলে শিক্ষার মান বজায় রাখা কঠিন হবে। যারা আগামী প্রজন্মকে গড়ে তোলেন, তাদের যদি বারবার অবমূল্যায়ন ও অবহেলার শিকার হতে হয়, তবে তা জাতীয় উন্নয়নের জন্য হুমকি স্বরূপ।

এখন সময় এসেছে—বঞ্চনার দীর্ঘ ইতিহাসের অবসান ঘটিয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার বাস্তবায়নের। তাদের জাতীয়করণ কেবল একটি পেশাগত দাবি নয়, এটি দেশের শিক্ষা খাতের মানোন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায়বিচারের অংশ। তাই বলা যায়—এবারেও যদি আমরা সফল না হই, তাহলে কিন্তু সত্যিই আমরা পিছিয়ে পড়ব।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আমার খবর
© All rights reserved © 2025 Kisukhoner Pathshala
Customized By BlogTheme