1. admin@kp-nat.com : admin : Ayub Ali
  2. ayub.bhs@gmail.com : Ayub ali : Ayub ali
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:০০ পূর্বাহ্ন
Title :
৯ম শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি নিয়ে যা জানাল শিক্ষা মন্ত্রণালয় নিজ দল থেকে বহিস্কৃত হলেন জামায়াতে ইসলামের আলোচিত সমালোচিত সেই এমপি এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের জুলাই মাসের বেতনের প্রস্তাব কোনদিন যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জানাল মাউশি বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে বিদ্যালয়ের বাহিরে যেতে পারবেন না শিক্ষক এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ কোনদিন জানাল আন্তঃশিক্ষা বোর্ড এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জুলাইয়ের বেতন নিয়ে যা জানাল মন্ত্রণালয় MPO মাদ্রাসা শিক্ষকদের বদলি নিয়ে তৈরি হয়েছে যে কারণে অনিশ্চয়তা এমপিও শিক্ষকদের বদলি আবেদনের অনুমতি চেয়ে চিঠি কবে, জানালেন মাউশি বেসরকারী এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের নিয়োগের ক্ষমতা আবারও ম্যানেজিং কমিটির হাতে এনটিআরসিএ-র নবম নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হবে যে সকল বিষয়ে

এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা নিয়ে পুরনো চক্রান্তের নতুন রূপায়ণের ইঙ্গিত

  • Update Time : শনিবার, ২ আগস্ট, ২০২৫
  • ১৪৭৫ Time View
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা নিয়ে পুরনো চক্রান্তের নতুন রূপায়ণের ইঙ্গিত

চিকিৎসা ও বাড়িভাড়া ভাতার নামমাত্র বৃদ্ধির চেষ্টা, নিষ্ঠুর বাস্তবতা ও আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা

এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের ভাগ্যাকাশে বিগত জুলাই মাস হতে বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা বাড়ার কথা ছিল বিদায়ী শিক্ষা উপদেষ্টা যিনি বর্তমানে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বরত তার কথা অনুসারে। কিন্তু বাস্তবতা হলো এই যে, সেই কথা তো বাস্তবায়ন হয়নি তারচেয়ে বড় কথা সেই ঘোষণার পর হতেই এদেশের আমলাতন্ত্র উঠে পড়ে লেগেছে সেই ঘোষণার পর হতেই যে, কিভাবে এই পরিকল্পনা ভেস্তে দেওয়া যায়। সরকারের একশ্রেণীর আমলারা তখন হতেই এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের কিভাবে বঞ্চিত করা যায় তার জন্য উঠে পড়ে লেগে আছে। তাদের চাওয়া হলো যে কোন ভাবে এই সিদ্ধান্ত ভেস্তে দেওয়া আর যদি কোন ভাবে এই বিষয়ে কোন পজিটিভ চিন্তাভাবনা করাই লাগে তাহলে নামকাস্তে তা যেন বাস্তবায়ন হয়। ঐ সময়েই আমলারা তৎকালীন শিক্ষা উপদেষ্টার নিকট প্রস্তাব পেশ করেছিল যে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা যদি বৃদ্ধি করতেই হয় তাহলে সেটা ১০০০ ও ৫০০ টাকা এর বেশি করা যাবে না। বিষয়টি তৎকালীন সময়ে মিডিয়ায় জানাজানি হয়ে গেলে ব্যাপক হইচই পড়ে যায়। পড়ে আর এ বিষয়ে তেমন কোন কিছু আর আপডেট পাওয়া যায় নি।

সেই সময় পরবর্তীতে মিডিয়াতে বলা হয় যে এই বিষয়ে অর্থ্যাৎ এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের ভাতা বৃদ্ধির বিষয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের মধ্যকার সাম্প্রতিক সভাগুলোতে সরকারি কর্মকর্তা বা আমলাদের পক্ষ থেকে বাড়িভাড়া বা চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধির বিষয়ে কোনো প্রস্তাবও তোলা হয়নি। কোনো অফিসিয়াল নথিপত্র বা কার্যবিবরণীতে এ ধরনের ইঙ্গিতও নেই। অর্থাৎ, সরকারি মহলে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা পর্যন্ত শুরু হয়নি। কিন্তু ঐ সময়েই আমলাদের কিছু দালাল ও চামচামি করা কিছু সংগঠন তখন হতে আজ অবধি ঠিক ঐ এজেন্ডা বাস্তবায়নের ঘৃণ ষড়যন্ত্র করে চলেছে।

আজ আগষ্টের ২ তারিখ আজ আবার নতুন করে ফেসবুকে একটি বিষয় নিয়ে খুব বেশি পোষ্ট করা হচ্ছে কিছু দালাল মার্কা সংগঠনের পক্ষ হতে যে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা যথাক্রমে ১০০০ ও ৫০০ টাকা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। এ বিষয় নিয়ে অচিরেই অর্থ মন্ত্রণালয়ের নিকট বরাদ্দ চাওয়া হবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো এতদিন এই বিষয় নিয়ে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হলো না, এতদিন এই বিষয়ে তেমন কোন ফেসবুকে পোষ্ট করা হলো না আজ যখন শিক্ষক কর্মচারীরা একটি মহাসমাবেশের প্র্রস্তুতি নিচ্ছে তাদের দাবী দাওয়াগুলো আদায়ের জন্য ঠিক সেই সময়ে এই প্রচারণা কি উদ্দেশ্য তা কি ব্যাখ্যা করে বলার প্রয়োজন রয়েছে।

এখানে বেশ কিছু বিষয় কাজ করছে—এক, দীর্ঘদিন ধরে এসব ভাতা অপরিবর্তিত থাকায় কর্মজীবীদের মনে এমনিতে তীব্র চাপ ও হতাশা জমেছে; দুই, ফেসবুক বা ইউটিউবভিত্তিক কিছু ‘সেন্সেশন খোঁজার’ পেজ বা ব্যক্তি বারবার ‘গুরুত্বপূর্ণ আপডেট’ শিরোনামে অসত্য ও দালালি মার্কা তথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। এদের কোনো মহৎ উদ্দেশ্য নেই এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের জন্য ভালো কিছু করার। এদের মূখ্য উদ্দেশ্য হলো শিক্ষকদের হতাশায় ফেলে তারা নিজেরাই নানাভাবে হাইলাইটস হতে চায়। যার কারণে এরা কখনই চিন্তা করে না যে, একটি গোষ্ঠির লাভ বা ক্ষতির বিষয়। এরা বিগত দিনের করেছে ফ্যাসিষ্টের দালালি এখনও করছে অন্যদের।

এই দালাল মার্কা সংগঠকেরা শিক্ষকদের নিয়মিত বিষয়গুলো নিয়েও ক্রেডিট নেওয়ার চেষ্টা করে জুলাই ২০২৫ এর বেতনে শুধুমাত্র ৫% প্রবৃদ্ধি (বার্ষিক ইনক্রই মেন্ট) যুক্ত হবে, যা নিয়মিত একটি চক্র। সরকারীদের ন্যায় বিশেষ বেতন বেতন বৃদ্ধির সুবিধা নিয়ে নিজেদের জাহির করতেও দ্বিধা করেনি।

এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের চিকিৎসা বা বাড়িভাড়া ভাতার ক্ষেত্রে ২০০৫ সালের পর আর কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি। এ দুটি ভাতা যে হারে প্রযোজ্য, তা বর্তমানে জীবনযাত্রার ব্যয়ের তুলনায় চরম অপ্রতুল। ঢাকার মতো শহরে একজন কর্মচারীর মাসিক বাড়িভাড়া ১৫-২০ হাজার টাকা হলেও সরকারি অনুমোদিত ভাতা এখনও মাত্র ১,০০০ টাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। চিকিৎসা ভাতার অবস্থাও আরও করুণ—বহু প্রতিষ্ঠানে এখনো এটি ৫০০টাকাতেই আটকে আছে। এখন যদি এ বিষয়গুলো যদি ১০০০ ও ৫০০টাকার মধ্যে নির্ধারিত করা হয় তাহলে এর চেয়ে হতাশার আর কিছু হতে পারে না।

এই সকল বিষয়ের সমাধানের উত্তর একটাই উত্তর—আন্দোলন। বাংলাদেশের সামাজিক-প্রশাসনিক কাঠামো এমন যে, দাবিদাওয়া যদি সংগঠিত আন্দোলনের মাধ্যমে না তোলা হয়, তবে তা কাগজে-কলমে স্থান পায় না। অতীত ইতিহাস দেখলে দেখা যাবে, শিক্ষক-কর্মচারীদের টাইমস্কেল, উচ্চতর গ্রেড, জাতীয়করণ, এমপিওভুক্তি—এসব কিছু অর্জিত হয়েছে দীর্ঘ আন্দোলনের ফলেই। এখন যেহেতু সরকার কিংবা মন্ত্রণালয় পর্যায়ে এসব ভাতা বৃদ্ধির কোনো প্রস্তাব বিবেচনায় নেই, সেহেতু একমাত্র পথ হচ্ছে—সুপরিকল্পিত, ঐক্যবদ্ধ এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলন।

১৩ আগস্টের সম্ভাব্য আন্দোলনের ডাক: কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

ইতোমধ্যেই অনেক শিক্ষক-কর্মচারী সংগঠন আগস্টের ১৩ তারিখ থেকে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে। এই ঘোষণাটি সোশ্যাল মিডিয়াতে বেশ সাড়া জাগিয়েছে এখন এই বিষয়টি কেবল সোশ্যাল মিডিয়ায় সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবে মাঠে গড়ে তোলা যায়, তবে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে। তবে এজন্য প্রয়োজন—

  • সারাদেশব্যাপী সম্মিলিত প্রস্তুতি ও সচেতনতা বৃদ্ধি
  • সঠিক নেতৃত্ব, গণতান্ত্রিক আচরণ ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা
  • জাতীয় সংবাদমাধ্যমে দাবিকে জাতীয় গুরুত্বে উন্নীত করা
  • একটি যৌক্তিক দাবিপত্র তৈরি করে তা সরকারের কাছে দাখিল করা
  • চাকরিজীবীদের মাঝে গুজবের বিপরীতে বাস্তব তথ্য পৌঁছে দেওয়া
  • সঠিক ও ন্যায্য দাবি গুলো পেশ করা এমন দাবি পেশ করা যাবে না যাতে সেটি হাস্যকর শোনায়।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও বর্তমান বাজারমূল্যের তুলনায় বাড়িভাড়া এবং চিকিৎসা ভাতা এখন হাস্যকর পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। এসব ভাতা বাড়ানোর যৌক্তিকতা প্রশ্নাতীত। তবে এটিকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে এখন আর আশা বা গুজবে সময় নষ্ট করার সুযোগ নেই। আন্দোলন ছাড়া এসব দাবি আদায়ের ইতিহাস নেই, এবং ভবিষ্যতেও আদায় সম্ভব হবে না।

তাই এই মুহূর্তে প্রয়োজন একজন যোগ্য নেতৃত্বের অধীনে সাংগঠনিক ঐক্য, আন্তঃপেশাজীবী সংহতি এবং জনমত গঠনের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল আন্দোলন গড়ে তোলা। ইনশাআল্লাহ, যদি আমরা সত্যিকারের দাবি, বাস্তব পরিকল্পনা ও সম্মিলিত প্রয়াস নিয়ে এগিয়ে যাই, তাহলে এই আন্দোলনই হবে আমাদের দাবিগুলোর বাস্তবায়নের প্রথম ধাপ। হাল ছাড়া যাবে না, কারণ লেগে থাকলে কিছু না কিছু অবশ্যই পাওয়া যায়। তাই আমাদের সকলের উচিত যে যার অবস্থান হতে আগামী ১৩ তারিখের সমাবেশ যেকোন মুল্যে সফল করার দিকে এগিয়ে যেতে হবে। কারও বিভ্রান্তিকর নির্দেশনায় বিভ্রান্ত না হয়ে। নিজের বিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে চলুন—এই বিশ্বাসই আমাদের চালিকাশক্তি হোক।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আমার খবর
© All rights reserved © 2025 Kisukhoner Pathshala
Customized By BlogTheme