সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন ও অন্যান্য ভাতা ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (EFT) এর মাধ্যমে প্রদান করা হয়। এই পদ্ধতিতে, শিক্ষকদের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে সরাসরি অর্থ প্রদান করা হয়, যা একটি স্বচ্ছ এবং দ্রুত প্রক্রিয়া। পাশাপাশি এখন কিন্তু এমপিওভুক্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মচারীদের বেতনও কিন্তু ইএফটি নামক এক পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়। বিষয়টি আপনি নিজে একটু ভাল করে দেখলেই এর পার্থক্য বুঝতে পারবেন। অর্থাৎ এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের ইএফটি যে আসলেই প্রকৃত ইএফটি নয়, এটা যে ইএফটি ইএফটি খেলা। ইএফটি নিয়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের যে নাকানি চুবানি খাওয়ানো হচ্ছে তা অনেকটাই মাউশির পরিকল্পিত একটি চক্রান্ত। সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়েল ইএফটি কিভাবে পরিচালিত হয় নিচে এর বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হলো:
১. তথ্য সংগ্রহ: প্রথমে, শিক্ষকদের ব্যাংক হিসাবের তথ্য (যেমন: হিসাব নম্বর, ব্যাংকের নাম, শাখার নাম, ইত্যাদি) সংগ্রহ করা হয়। এই তথ্যগুলো সাধারণত মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (DSHE) বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে E-MIS (Education Management Information System) এর মাধ্যমে পাঠানো হয়।
২. তথ্য যাচাই: সংগৃহীত তথ্যগুলো যাচাই করা হয় যাতে কোনো ভুল না থাকে। ব্যাংক হিসাব নম্বর এবং অন্যান্য তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করা হয়।
৩. EFT সিস্টেম এন্ট্রি: যাচাইকৃত তথ্যগুলো EFT (Electronic Fund Transfer) সিস্টেমে এন্ট্রি করা হয়। এই সিস্টেমে প্রত্যেক শিক্ষকের জন্য একটি ইউনিক আইডি তৈরি করা হয়।
৪. বেতন বিল প্রস্তুতকরণ: প্রতি মাসের বেতন বিল প্রস্তুত করা হয় এবং EFT সিস্টেমে আপলোড করা হয়।
৫. অর্থ স্থানান্তর: বেতন বিল প্রস্তুত হওয়ার পর, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবগুলোতে সরকারের পক্ষ থেকে অর্থ স্থানান্তর করা হয়।
৬. শিক্ষকদের ব্যাংক হিসাবে অর্থ জমা: শিক্ষকদের ব্যাংক হিসাবে সেই অর্থ জমা হয়ে যায়।
৭. লেনদেন নিশ্চিতকরণ: অর্থ স্থানান্তরের পর, ব্যাংক থেকে একটি নিশ্চিতকরণ বার্তা পাঠানো হয়, যা থেকে বোঝা যায় যে অর্থ সফলভাবে স্থানান্তরিত হয়েছে।
এই EFT পদ্ধতির মাধ্যমে শিক্ষকদের বেতন প্রদানে স্বচ্ছতা ও দ্রুততা নিশ্চিত হয়। পূর্বে বেতন পেতে যে সময় লাগতো, এখন আর সেই সমস্যা হয় না। এছাড়া, এই পদ্ধতিতে দুর্নীতি হওয়ার সম্ভবনাও কম থাকে।
পরিশেষে যে কথাটা বলব তা হলো উপরের আলোচনার মুল পার্থক্যের জায়গায় ভাল করে দেখুন ৩ ও ৪ নং পয়েন্ট। যেখানে সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইএফটি যে একটি স্বাতন্ত্র সিষ্টেম তা ঐ পয়েন্ট দুটি দেখলেই বুঝতে পারবেন। যে বিষয়গুলো কিন্তু এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের বেলায় একদম অনুপস্থিত। আর এ কারণেই এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ইএফটি একটি মুখাপেক্ষি সিষ্টেম। যেটি টোটালই নির্ভর করে মাউশির সিদ্ধান্তের উপর। যে সিষ্টেমের উপর এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীর কোন কর্তৃত্ব নেই।
Leave a Reply