1. admin@kp-nat.com : admin : Ayub Ali
  2. ayub.bhs@gmail.com : Ayub ali : Ayub ali
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩২ পূর্বাহ্ন
Title :
৯ম শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি নিয়ে যা জানাল শিক্ষা মন্ত্রণালয় নিজ দল থেকে বহিস্কৃত হলেন জামায়াতে ইসলামের আলোচিত সমালোচিত সেই এমপি এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের জুলাই মাসের বেতনের প্রস্তাব কোনদিন যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জানাল মাউশি বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে বিদ্যালয়ের বাহিরে যেতে পারবেন না শিক্ষক এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ কোনদিন জানাল আন্তঃশিক্ষা বোর্ড এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জুলাইয়ের বেতন নিয়ে যা জানাল মন্ত্রণালয় MPO মাদ্রাসা শিক্ষকদের বদলি নিয়ে তৈরি হয়েছে যে কারণে অনিশ্চয়তা এমপিও শিক্ষকদের বদলি আবেদনের অনুমতি চেয়ে চিঠি কবে, জানালেন মাউশি বেসরকারী এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের নিয়োগের ক্ষমতা আবারও ম্যানেজিং কমিটির হাতে এনটিআরসিএ-র নবম নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হবে যে সকল বিষয়ে

বেতনের বিলম্ব ঘটানোর মুল কারণ কি? ইএফটি বাতিল করণ চক্রান্ত

  • Update Time : বুধবার, ১৬ জুলাই, ২০২৫
  • ৪০৮ Time View
বেতনের বিলম্ব ঘটানোর মুল কারণ কি? ইএফটি বাতিল করণ চক্রান্ত

ইএফটি কার্যক্রম বাতিলের মূল কারণ ও বেতন বিলম্বের অন্তর্নিহিত জটিলতা

দেশের বেসরকারি এমপিওভুক্ত চার লাখেরও বেশি শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন প্রদানে ইলেক্ট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) পদ্ধতি একসময় আশার আলো হিসেবে দেখা হলেও বাস্তবে তা এখন একপ্রকার অকার্যকর হয়ে পড়েছে। শিক্ষকদের বেতন-ভাতা দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরাসরি তাদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানোর উদ্দেশ্যে চালু হওয়া এই ব্যবস্থা কাঠামোগত জটিলতা, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং মনোভাবগত অনীহার কারণে ধীরে ধীরে নিষ্ক্রিয় হয়ে যাচ্ছে। ফলে শিক্ষকদের বেতনপ্রাপ্তি যেমন বিলম্বিত হচ্ছে, তেমনি ইএফটির বাস্তব সুফল থেকেও তারা বঞ্চিত হচ্ছেন।

প্রথমত, বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ইএফটির আওতায় বেতন প্রদানের জন্য প্রতিমাসে নতুন করে অনুমোদন নিতে হয়। এটি একটি দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, যার মধ্যে রয়েছে মাউশির ইআইএমএস সেল থেকে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি শিক্ষক ও কর্মচারীর বিল তৈরি, পরবর্তীতে তা মাউশি হয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ, জিও জারি, এরপর অর্থ বিভাগ হয়ে হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের (এজি) দপ্তরে পাঠানো ইত্যাদি ধাপ রয়েছে। এই প্রতিটি ধাপে বিলম্ব হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়। বিশেষ করে সরকারি কর্মচারীদের মতো একবারে স্থায়ী অনুমোদন না থাকায়, বেসরকারিদের ক্ষেত্রে প্রতিবার একই ধাপ পেরোতে হয়, যা সময়ক্ষেপণ ও অনিশ্চয়তার জন্ম দেয়।

দ্বিতীয়ত, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়হীনতা এবং গাফিলতির অভিযোগ রয়েছে। ইএফটির প্রক্রিয়াটি ইলেকট্রনিক হলেও এর বাস্তবায়ন এখনো কাগুজে অনুমোদন ও বিলম্বিত নথিপত্রের ওপর নির্ভরশীল। যেমন, নির্ধারিত সময়ে জিও (গভর্নমেন্ট অর্ডার) জারি না হওয়া, জিও জারির পর সেটি যথাসময়ে এজি অফিসে না পাঠানো ইত্যাদি ঘটনা বারবার ঘটছে। এই দাফতরিক দায়িত্বহীনতা ইএফটির মূল উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করছে এবং অনেক ক্ষেত্রে মাসের মাঝামাঝি পেরিয়ে গেলেও শিক্ষক-কর্মচারীরা বেতন পান না।

তৃতীয়ত, মাউশি এখনও প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ইএফটি প্যানেলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারীদের বিল সাবমিট অপশন চালু করেনি যার কারণে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি শিক্ষক কর্মচারীর বেতন বিল আপডেট সহ নানা ধরনের কাজ গুলো ইএমআইএসসেলকেই করতে হচ্ছে। এতে করে যে জটিলতায় পড়তে হচ্ছে তা হলো সারা দেশের সকল প্রতিষ্ঠানের কাজ মাউশির ইএমআইএসসেলকে একাই করতে হচ্ছে। যার কারণে বেতন বিল তৈরিতে একটি আলাদা জটিলতা তৈরি হচ্ছে। মাউশি ইচ্ছা করলেই কিন্তু প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের ইএফটি প্যানেলে বিল সাবমিট অপশন চালু করলেই অনেকটা কাজের চাপ কমে যায় এবং সময়মতো বিল প্রস্তুত করার যে চ্যালেঞ্জ সেটাও মোকাবিলা করা যায়। মাউশি যে কেন এই বিষয়গুলো ভেবে দেখে না। তার উত্তর একমাত্র মাউশির নিকট রয়েছে। এই সমস্যাগুলো কি মাউশি ইচ্ছা করেই তৈরি করছে কিনা সেটা নিয়েও কিন্তু অনেকেই প্রশ্ন করে। তাদের প্রশ্ন যে একেবারে অমুলক নয় তা কিন্তু মাউশি এখন অবধি প্রমাণ দিতে পারে নি। কারণ নিকট অতীতে মাউশির অনেক কর্মকান্ডের কারণে যে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন প্রদানে বিলম্ব ঘটেছে তা অনেকক্ষেত্রেই প্রমাণিত। ইএমআইএস প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে অদক্ষতার কারণে প্রাথমিক স্তরেই অনেক বিল আটকে যায়। এর ফলে পরবর্তী ধাপে যাওয়া বিলগুলোও দেরিতে পৌঁছায়, যার প্রভাব পুরো ইএফটি চক্রে পড়ে।

চতুর্থত, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ইএফটি ব্যবস্থার স্থায়িত্ব ও অটোমেশন নিয়ে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ না থাকায় এটি কেবল নামমাত্র ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে। ফলে অনেকক্ষেত্রে বিকল্প বা পুরনো পদ্ধতিতেই ফিরে যেতে হয়, যেখানে ইএফটির পরিবর্তন বলতে আমরা যা পেয়েছি তা হলো ইএফটি যুগের পূর্বে বেতন বিলে অশিক্ষিত, আধাশিক্ষিত স্কুল ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভাপতির স্বাক্ষর প্রয়োজন হতো এখন আর সেটা লাগছে না। কিন্তু তার বিনিময়ে আবার এখন আমরা বেতন পাচ্ছি মাসের শেষ নাগাদ।—যা ইএফটির স্বচ্ছতা ও গতিশীলতার ধারণার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

পঞ্চমতঃ আমরা অনেকেই এখনও এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের ইএফটি নিয়ে এখনও যে আশঙ্কা করি তাহলো এই যে, এভাবে ইএফটিকে প্রতিনিয়ত প্রশ্নের সম্মুখীন করে মাউশি আবারও পূর্বের নিয়মে ফিরতে চাইবে এবং এটা মাউশি চক্রান্তের একটি ধাপ। তাই যদি না হবে গত মাসে তো মাউশি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় তো সময়মতো মাসের শুরুতেই প্রদান করেছিল তাহলে এই মাসে কেন এই ভোগান্তি।

সার্বিকভাবে বলা যায়, বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন প্রদানে ইএফটি চালু থাকলেও এটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না। বরং প্রতিমাসেই নতুন করে অনুমোদন ও বিল তৈরির ধারাবাহিকতা, প্রশাসনিক গাফিলতি এবং প্রযুক্তিগত দুর্বলতার কারণে এটি এখন একপ্রকার অসহনী পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। ফলস্বরূপ শিক্ষক সমাজের ভোগান্তি বাড়ছে, আর ইএফটির মতো সম্ভাবনাময় একটি ডিজিটাল পদ্ধতি হারাচ্ছে তার কার্যকারিতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা। এই কাঠামোগত সমস্যা নিরসন ও প্রক্রিয়া অটোমেশন না হলে বেতন বিলম্ব একটি নিয়মিত সমস্যা হিসেবেই রয়ে যাবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আমার খবর
© All rights reserved © 2025 Kisukhoner Pathshala
Customized By BlogTheme