সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি ও বেসরকারি সব ধরনের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নিজস্ব ওয়েবসাইট তৈরি এবং তা হালনাগাদের নির্দেশনা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। ১৪ জুলাই জারি করা এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে ওয়েবসাইট হালনাগাদ করে তা মাউশির এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (EMIS) মডিউলে আপলোড করতে হবে। এই সিদ্ধান্ত মূলত ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে শিক্ষা খাতে স্বচ্ছতা, তথ্যপ্রবাহ এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার একটি যুগোপযোগী পদক্ষেপ।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেরই এখনও নিজস্ব ওয়েবসাইট নেই বা থাকলেও তা হালনাগাদ করা হয়নি। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনার আলোকে জাতীয় তথ্য বাতায়নের আওতায় ওয়েবসাইট তৈরি এবং নিয়মিত হালনাগাদের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এতে আর্থিক ব্যয় সাশ্রয়ের পাশাপাশি সরকারি তথ্য ব্যবস্থাপনায় একটি সমন্বিত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে।
নির্দেশনায় যে তথ্যসমূহ ওয়েবসাইটে হালনাগাদ করতে বলা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে—প্রতিষ্ঠানের সাধারণ পরিচিতি, পাঠদানের অনুমতি ও স্বীকৃতি, শ্রেণি ও লিঙ্গভিত্তিক শিক্ষার্থীর পরিসংখ্যান, অনুমোদিত শাখাসমূহের তালিকা, শিক্ষক-কর্মচারীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা ও যোগাযোগের তথ্য, পাঠদানের সময়সূচি, পাঠ্যক্রম, এমপিওসংক্রান্ত তথ্য, ব্যবস্থাপনা কমিটির বিবরণ, অভিযোগ নিষ্পত্তি কর্মকর্তার পরিচিতিসহ প্রয়োজনীয় সব তথ্য।
এই উদ্যোগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর, তথ্যভিত্তিক ও দায়িত্বশীল করার পাশাপাশি শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের সঙ্গে তথ্য সংযোগ স্থাপনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজটি বাস্তবায়নে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং নজরদারি জোরদার করা না হলে অনেক প্রতিষ্ঠান হয়তো কার্যকরভাবে এই নির্দেশনা মানতে ব্যর্থ হবে। কাজেই শুধু নির্দেশনা নয়, এর সঙ্গে প্রয়োজন যথাযথ প্রশিক্ষণ, তদারকি ও সহায়ক ব্যবস্থাপনা কাঠামোর উন্নয়ন।
Leave a Reply