1. admin@kp-nat.com : admin : Ayub Ali
  2. ayub.bhs@gmail.com : Ayub ali : Ayub ali
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩২ পূর্বাহ্ন
Title :
৯ম শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি নিয়ে যা জানাল শিক্ষা মন্ত্রণালয় নিজ দল থেকে বহিস্কৃত হলেন জামায়াতে ইসলামের আলোচিত সমালোচিত সেই এমপি এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের জুলাই মাসের বেতনের প্রস্তাব কোনদিন যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জানাল মাউশি বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে বিদ্যালয়ের বাহিরে যেতে পারবেন না শিক্ষক এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ কোনদিন জানাল আন্তঃশিক্ষা বোর্ড এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জুলাইয়ের বেতন নিয়ে যা জানাল মন্ত্রণালয় MPO মাদ্রাসা শিক্ষকদের বদলি নিয়ে তৈরি হয়েছে যে কারণে অনিশ্চয়তা এমপিও শিক্ষকদের বদলি আবেদনের অনুমতি চেয়ে চিঠি কবে, জানালেন মাউশি বেসরকারী এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের নিয়োগের ক্ষমতা আবারও ম্যানেজিং কমিটির হাতে এনটিআরসিএ-র নবম নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হবে যে সকল বিষয়ে

আমলাদের রোষানলে MPO শিক্ষক কর্মচারীদের EFT

  • Update Time : সোমবার, ৭ জুলাই, ২০২৫
  • ৫৯১ Time View
আমলাদের রোষানলে MPO শিক্ষকদের EFT

আমলাদের রোষানলে MPO শিক্ষকদের EFT

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন পূর্বে প্রদান করা হতো সেই মান্ধাতা আমলের অ্যানালগ পদ্ধতিতে যে প্রক্রিয়ায় বেতন পেতে পেতে শিক্ষক কর্মচারীদের অধিকাংশ সময় মাসের অর্ধেক কখনও কখনও মাসের শেষ হয়ে যেত। এই সমস্যা থেকে বের হয়ে আসার জন্য বর্তমান সরকার গত ২০২৪ সালের ৫ অক্টোবর জাতীয় শিক্ষক দিবসে ঘোষনা দেন যে, আগামী জানুয়ারী থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন ইএফটি বা ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার পদ্ধতিতে প্রদান করা হবে। ইএফটি বা ইলেকট্রিক ফান্ড ট্রান্সফার (EFT) ছিল বেসরকারি এমপিওভুক্ত (MPO) শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এই পদ্ধতির মাধ্যমে শিক্ষকরা সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বেতন-ভাতা পাওয়ার কথা, যাতে দেরি, অনিয়ম ও তৃতীয় পক্ষের অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ এড়ানো যায়। কিন্তু বাস্তব চিত্র ঠিক উল্টো— যেদিন তৎকালীন শিক্ষা উপদেষ্ট মহোদয় এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন ইএফটিতে প্রদানের ঘোষণা দেন সেদিন হতে একশ্রেণীর আমলাদের রোষানলে পড়ে যায় এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন তারা মনে মনে পণ করে বসেন কি ভাবে এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীগণ তাদের বেতনের টাকা প্রতিমাসের শুরুতেই পায় তা আমরা দেখব। সেই প্রতিশ্রুতিরই ধারাবাহিকতায় তারা ইএফটির বাস্তবায়ন নিয়ে নানামুখী জটিলতা তৈরি করতে তৎপর হয়ে উঠল। যে ধারাবাহিকতায় এখনও চলমান। আজ প্রায় সাত মাস গত হয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত ইএফটির পুরোপুরি বা সঠিক বাস্তবায়ন এখন পর্যন্ত দেখেনি এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীগণ। EFT এখন অনেক শিক্ষক-কর্মচারীর কাছে এক প্রকার আতঙ্ক ও হয়রানির নাম।

বর্তমানে দেশের প্রায় পৌনে ৪ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক EFT-এর মাধ্যমে বেতন গ্রহণ করে থাকেন। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের কিছু আমলা ও বিভাগীয় কর্মকর্তাদের দায়িত্বে অবহেলা, অসহযোগিতা এবং ক্ষমতার অপব্যবহার EFT ব্যবস্থাকে একপ্রকার অকার্যকর করে তুলেছে। শিক্ষকরা নিয়মিত অভিযোগ করছেন—সময়মতো বেতন না আসা, অ্যাকাউন্ট নম্বর সঠিক থাকা সত্ত্বেও ‘তথ্য ভুল’ দেখিয়ে ফাইল রিজেক্ট করা, অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া, মাস শেষ হওয়ার পরও বেতন প্রদানে নানাবিধ কারণে অহেতুক দেরি। এমনকি এখনও প্রায় ৫ হাজারের অধিক শিক্ষক কর্মচারীর বেতন তথ্য জটিলতার নামে আটেকে রেখেছে মাউশি। প্রশ্ন হলো এই শিক্ষক ও কর্মচারীরাতো দীর্ঘদিন বৈধ্য কাগজপত্র সাবমিট করেই চাকুরী করে আসছিল। তাহলে এখন তাদের তথ্যের অসংগতি ধরা পড়ে কিভাবে। তাহলে এতদিন কে ভুল ছিল সিষ্টেমের ভুল, নাকি সিষ্টেম যারা পরিচালিত করে তাদের ভুল। তাহলে সিষ্টেমের ও সিষ্টেম পরিচালকের ভুলের মাশুল কেন শিক্ষক ও কর্মচারীরা দিবে। তারপরও ধরে নিলাম শিক্ষক কর্মচারীদের তথ্যগত জটিলতা রয়েছে তাহলে এতদিন তারা কিভাবে এই ভুল ও মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করে চাকুরী করে গেল। এই অপরাধকে মেনে নিল কারা। যারা এই অপরাধকে দিনের পর দিন বছরের পর বছর ধরে লালন পালন করেছে তাদের কি কোন প্রকার দায় নেই। অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে, সহ্য করে দুজনই কিন্তু সম অপরাধী। আজ যদি ঐ শিক্ষক কর্মচারীরা তাদের অপরাধের সাজা পায় তাহলে যে বা যারা তাদের সহযোগীতা করেছে অন্যায় ভাবে এতদিন চাকুরী করতে তাদেরও তো সাজা হওয়া উচিত।

আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, EFT সংক্রান্ত জটিলতায় শিক্ষকরা যখন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করেন, তখন অনেক ক্ষেত্রে তাদের সঙ্গে অশোভন ও অবজ্ঞাসূচক আচরণ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, কোনো কোনো উপজেলা ও জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ঘুষ না দিলে বা পরিচিতির জোর না থাকলে ইএফটির তথ্য সংশোধনের ফাইল ফরোয়ার্ড করে না। জাতীয় শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন, পাঠদানের গুণগত মান উন্নয়ন কিংবা ডিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থার বিস্তারে শিক্ষকরা যখন অগ্রণী ভূমিকা রাখছেন, তখন তাঁদের বেতনের জন্য মাসের পর মাস দৌড়ঝাঁপ করা চরম অবমাননার বিষয়। শিক্ষকরা যদি দিনের পর দিন এভাবে বেতনের টেনশনে থাকে তাহলে শ্রেণীকক্ষে মনোযোগ কিভাবে দিবে।

এছাড়া, তথ্য হালনাগাদ করার নামে বারবার জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, জন্মতারিখ ইত্যাদির নতুন কপি জমা দেওয়ার যে আমলাতান্ত্রিক নির্দেশ দেওয়া হয়, তা একদিকে ডিজিটাল সিস্টেমের ব্যর্থতা, অন্যদিকে কর্মকর্তাদের অদক্ষতা ও অনিচ্ছার পরিচয়। উল্লেখ্য, EFT সিস্টেম বাস্তবায়নের জন্য সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে সফটওয়্যার উন্নয়ন ও ইন্টারফেস চালু করেছে, কিন্তু মাঠ পর্যায়ে সেই প্রযুক্তির সুফল শিক্ষকেরা পাচ্ছেন না। মাউশির ইআইএমএস সেলের ব্যর্থতার কারণে আজ অবধি ইএফটির বিল সাবমিট অপশন চালু হয়নি। বিল সাবমিট অপশন চালু হলে কিন্তু জটিলতা কিছুটা হলেও কমবে।

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এবং মাউশির উচিত ছিল যে সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করা তা আজ অবধি তারা গ্রহণ করেননি। না করার পিছনে একমাত্র কারণ হলো শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাউশি কখনও চায়নি যে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন ইএফটিতে প্রদান করা হউক। একমাত্র সরকারের কঠোর নির্দেশনার কারণে তারা তা অনিচ্ছা সত্ত্বেও বাস্তবায়নে অগ্রসর হয়। কারণ হিসাবে যে বিষয় গুলো প্রথম সামনে আসে তা হলো মাউশি ও ইআইএমএসসেলের একাধিক কর্মকর্তা নাকি এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের এই বেতনের টাকা নিয়ে সুদ বাণিজ্যের মত অনৈতিক কার্যক্রমের সহিত জড়িত। এছাড়াও রয়েছে মনস্তাত্বিক সমস্যা যে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীরা কেন আমাদের মতো করে বেতন পাবে। এই সকল বিষয়ের কারণে এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের ইএফটি আজ অবধি সঠিক ভাবে বাস্তবায়ন হয়নি। আজ কাল পরশু করে করে দিনের পর দিন মাসের পর মাস অতিবাহিত হয়ে গেলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীগণ এখনও ইএফটির সুফল ভোগ করতে পারেনি। এখনও এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীরা তাদের বেতনের টাকা পেতে পেতে মাসের ১৫ থেকে ২০ তারিখ পার হয়ে যায়।

আপনার যদি কোনো কাজ করতে ইচ্ছা না করে বা আপনাকে যদি কোনো সিদ্ধান্ত আপনার মনের বিরুদ্ধে বাস্তবায়নের ভার আপনাকে প্রদান করা হয় তাহলে আপনিতো সকল সময় চাইবেন কিভাবে সেই সিদ্ধান্ত বানচাল করা যায়। এমপিভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের ইএফটি বিষয়টিও ঠিক তাই। মাউশির কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কখনও বা এখনও চায়না যে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন ইএফটিতে প্রদান করা হউক বিধায় তারা নানাবিধ জটিলতা সৃষ্টি করছে যে যদি কোন ভাবে কোন কারণ দেখিয়ে পূর্বের নিয়মে ফিরে আসা যায়। তাহলেতো তাদে লাভের উপর লাভ।

এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের ইএফটি বাস্তবায়নে যে বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল তা হলো জোরদার প্রশাসনিক সংস্কার ও জবাবদিহিতামূলক ব্যবস্থাপনা। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মহাপরিচালকের দপ্তর থেকে একটি নিরপেক্ষ মনিটরিং টিম গঠন করে EFT বিষয়ক অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা। ট্রেজারি, ব্যাংক ও শিক্ষা অধিদপ্তরের মধ্যে ডিজিটাল ইন্টিগ্রেশন বাড়ানো, যাতে শিক্ষক-কর্মচারীদের কষ্ট না হয়। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, যারা ইচ্ছাকৃতভাবে শিক্ষকদের বেতন আটকে রাখেন বা হয়রানি করেন, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা। যদি শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাউশি যৌথভাবে এই সকল বিষয়গুলো মনিটরিং করত তাহলে এতদিন এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের ইএফটি সঠিক ইএফটির মতোই কাজ করত। এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীরা মাসের শুরুতেই বেতনের টাকা তাদের ব্যাংক হিসাব নম্বরে পোষ্টিং হওয়ার মেসেজে পেত।

শিক্ষকের মর্যাদা রাষ্ট্রীয় নীতিতে স্বীকৃত। সেই মর্যাদা EFT-এর মতো একটি আধুনিক ব্যবস্থার ভেতরেও যেন বজায় থাকে—এটাই আজ সময়ের দাবি। না হলে শিক্ষকদের ন্যায্য প্রাপ্তি আটকে গিয়ে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাই পড়বে এক গভীর সংকটে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আমার খবর
© All rights reserved © 2025 Kisukhoner Pathshala
Customized By BlogTheme