এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রায় পৌনে ৪ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জুন মাসের বেতন-ভাতা আগমী সপ্তাহে ব্যাংকে পাঠানো হতে পারে। ইতোমধ্যে বেতনের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।
আজ বুধবার (০২ জুলাই) মাউশির উপ-পরিচালক (সাধারণ প্রশাসন) মো. শাহজাহান এ তথ্য জানিয়েছেন।
মাউশির এ কর্মকর্তা বলেন, ‘শিক্ষক-কর্মচারীদের জুন মাসের বেতনের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এখন এটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন শেষে চিফ অ্যাকাউন্টস অফিসের মাধ্যমে বেতনের অর্থ ব্যাংকে পাঠানো হবে। এ কাজগুলো সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লাগবে। আশা করছি আগামী সপ্তাহের শেষ দিকে অর্থ্যাৎ ১০ তারিখের মধ্যে শিক্ষক-কর্মচারীরা জুন মাসের বেতনের অর্থ ব্যাংকের মাধ্যমে পেয়ে যাবে।’
পৌনে চার লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর জুন মাসের প্রথম ধাপের বেতন-ভাতার প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এ ধাপের মোট ৩ লাখ ৭৯ হাজার ২৪১ জন শিক্ষক- কর্মচারী রয়েছেন। এর মধ্যে স্কুলের ২ লাখ ৯১ হাজার ৮০৫ জন ও কলেজের রয়েছেন ৮৭ হাজার ৪৩৬ জন শিক্ষক-কর্মচারী
মাউশি থেকে জানানো হয়েছে যে, খুব জলদি এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের বেতনের তালিকা প্রতিষ্ঠানের ইএফটি ড্যাশবোর্ডে দৃশ্যমান করা হবে।
এর আগে মে মাসের বেতন ও বৈশাখী ভাতা শিক্ষক-কর্মচারীরা পেয়েছেন। ঈদুল আজহার পূর্বে ৫০ শতাংশ হারে উৎসব ভাতাও প্রদান করা হয়েছে। মে মাসে আরও কয়েকটি ধাপে বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হয়।
এর মধ্যে রয়েছে:
উল্লেখ্য, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ইএফটি (ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার) ব্যবস্থায় বেতন-ভাতা পেয়ে থাকলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রায়ত্ত চারটি ব্যাংকের মাধ্যমে ‘অ্যানালগ’ পদ্ধতিতে অর্থ উত্তোলন করতেন, যা তাদের জন্য ভোগান্তির কারণ ছিল। এখন ধীরে ধীরে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও ইএফটি সুবিধার আওতায় আসছেন।
তবে অনেক ক্ষেত্রেই ইএমআইএস সেলের অস্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবহেলা এবং উপজেলা ও জেলা শিক্ষা অফিসারদের গাফিলতির কারণে শিক্ষকরা এখনো নানা সমস্যার মুখে পড়ছেন। যে সমস্যা থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীরা এখন পুরোপুরি মুক্ত হতে পারেনি। এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মকচারীদের বেতন প্রদানের এই সমস্যা যতটা কারিগরি তার চেয়ে বেশি মাউশি তথা বেতন প্রদানের সাথে জড়িত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের গাফিলতি। মাউশি যে ইচ্ছা করলেই মাসের শুরুতেই এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন প্রদান করতে পারে তা গত মে মাসের বেতন প্রদানেই বোঝা গিয়েছে। বেতন প্রদানে এই যে, অনাকাঙ্খিত সময় ব্যয় এটি মাউশির কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ইচ্ছাকৃত গাফিলতি।
Leave a Reply