বেসরকারি কলেজের অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষকদের এমপিওভুক্তিতে নীতিগত সিদ্ধান্ত
বেসরকারি কলেজে অনার্স ও মাস্টার্স স্তরের শিক্ষকরা অবশেষে এমপিওভুক্তির সম্ভাবনা দেখছেন। বুধবার (২ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ বক্তব্য দিতে রাজি হননি। কারণ এ বিষয়ে আগামী সপ্তাহে আরও একটি মিটিং হবে তারপর এ বিষয়ে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহিত হবে যে, কিভাবে এসকল শিক্ষককে এমপিওভুক্ত করা যায়।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (মাধ্যমিক-২) মো. মিজানুর রহমান বলেন, “সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে সভার রেজ্যুলেশন প্রকাশের আগে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কিছু বলা যাবে না। আরও কিছুদিন অপেক্ষা করুন।”
বাংলাদেশ বেসরকারি কলেজ অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মো. জামির হোসেন বলেন, “দীর্ঘ আন্দোলনের পর আমরা ফল পেতে যাচ্ছি। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন দ্রুত দেখতে চাই।”
উল্লেখ্য, দেশের ৩১৫টি বেসরকারি কলেজে অনার্স-মাস্টার্স স্তরের প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার শিক্ষক তিন দশক ধরে এমপিওভুক্তির দাবি জানিয়ে আসছেন। তবে জনবল কাঠামোয় পদ না থাকায় এতদিন তারা এমপিও সুবিধার বাইরে ছিলেন।
জানা গেছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৯৩ সাল থেকে এসব কলেজে অনার্স-মাস্টার্স কোর্স চালুর অনুমোদন দেয়। শর্ত ছিল, কলেজ কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত স্কেলে শিক্ষকদের বেতন দেবে এবং টিউশন ফি থেকেই ব্যয় নির্বাহ করবে। এর ফলে শিক্ষকদের পদ কলেজের জনবল কাঠামোয় যুক্ত হয়নি এবং তারা এমপিওভুক্তির আওতায় আসতে পারেননি।
এমপিও নীতিমালা ২০১৮ সালে সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তখন সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি। তবে এবার নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘ ৩২ বছরের বঞ্চনার অবসান ঘটবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন শিক্ষকরা।
Leave a Reply