বহুদিনের অপেক্ষা, জল্পনা-কল্পনা আর প্রতিশ্রুতির পিঠে ভর করে অবশেষে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য এক টুকরো সুখবর আসতে চলেছে। আগামীকাল (১৮ মে) অথবা তার পরদিন (১৯ মে) জারি হতে পারে বহু প্রত্যাশিত বোনাস বৃদ্ধির প্রজ্ঞাপন। একপ্রকার নিশ্চিত হওয়া গেছে, শিক্ষকদের ঈদ বোনাস ২৫% থেকে বাড়িয়ে ৫০% করার সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে যাচ্ছে। তবে দুঃখজনকভাবে একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত কর্মচারীরা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকছেন। তাদের বোনাস পূর্বের ন্যায় ৫০ শতাংশেই অপরিবর্তিত থাকবে।
অনেকদিন ধরেই শিক্ষক সমাজের মধ্যে বোনাস বৃদ্ধির দাবি উঠছিল। সরকারি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে বোনাসের পরিমাণে যে বৈষম্য ছিল, তা লাঘব করার দাবি একাধিকবার আলোচিত হয়েছে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এবার সেই দাবি আংশিকভাবে হলেও পূরণ হতে যাচ্ছে।
শিক্ষকরা ঈদুল আজহার আগেই এই বাড়তি বোনাস পেতে পারেন, এমনই ইঙ্গিত দিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
যেখানে শিক্ষকরা ২৫% থেকে উন্নীত হয়ে ৫০% বোনাস পাচ্ছেন, সেখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেরই আরেক গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ—কর্মচারীরা থেকে যাচ্ছেন উপেক্ষিত।
তাদের বোনাসের হার পরিবর্তন না হওয়াটা নির্মম বৈষম্য ও হতাশাজনক সিদ্ধান্ত হিসেবেই দেখছেন অনেকেই।
একজন সিনিয়র অফিস সহকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“একই প্রতিষ্ঠানে আমরা শিক্ষক-সহকর্মীদের সঙ্গে দিনরাত কাজ করি, কিন্তু বোনাস বাড়ছে কেবল তাদের, আমাদের নয়। এটি কীসের ন্যায়বিচার?”
বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা সরকারি শিক্ষকদের তুলনায় অনেকটাই কম। সেই সঙ্গে ঈদ বোনাস, উৎসব ভাতা, পেনশন—সব ক্ষেত্রেই ছিল বৈষম্য।
বোনাস বৃদ্ধির দাবি ছিল একটি পুরনো দাবি, যা বারবার উপেক্ষিত হয়েছে বাজেট ও প্রশাসনিক জটিলতার অজুহাতে। এবার অবশেষে শিক্ষক সমাজের ধারাবাহিক আন্দোলন, গণমাধ্যমের প্রচার ও সামাজিক চাপের ফলে তা কার্যকর হতে চলেছে।
একদিকে শিক্ষকদের দাবি আংশিক পূরণ হলেও, অন্যদিকে কর্মচারীদের উপেক্ষা শিক্ষা ব্যবস্থার এক অস্বচ্ছ ও বৈষম্যমূলক চিত্র তুলে ধরছে।
একই কাঠামোতে কাজ করেও দুই ধরনের আচরণ—এমন বৈষম্য কতদিন চলবে? প্রশ্ন তুলছেন সচেতন নাগরিকেরা।
গত ১৪ মে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব শাহরিয়ার জামিল স্বাক্ষরিত চিঠিটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের নিকট পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের ২১ এপ্রিল ২০২৫ তারিখের ৩৭,০০,০০০০.০৬৪,২০,০০৩,২৫-৪০৭ নং আধা-সরকারি পত্র অনুযায়ী, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অধীন মাধ্যমিক উচ্চ ও শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সংশোধিত পরিচালন বাজেট হতে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকগণের ভাতাদি বাবদ সহায়তা প্রদানের নিমিত্ত ২২৯.০০ কোটি (দুইশত ঊনত্রিশ কোটি) টাকা পুনঃউপযোজনে নির্দেশক্রমে অর্থ বিভাগের সম্মতি জ্ঞাপন করা হলো।
আগামীকাল অথবা পরশু এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য ৫০% ঈদ বোনাসের ঘোষণা একপ্রকার নিশ্চিত। এটি নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে কর্মচারীদের জন্য কোনো ঘোষণা না থাকায় আনন্দের সাথে মিলেছে হতাশার ছায়া।
বিচার ও ন্যায়ের প্রশ্নে শিক্ষক ও কর্মচারী—উভয়ের পাশে দাঁড়ানো জরুরি। একপাক্ষিক উন্নয়ন নয়, সম্পূর্ণ শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক কল্যাণে সকলের প্রতি সমান দৃষ্টি প্রয়োজন।
Leave a Reply