বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের উৎসব ভাতা বাড়ানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে শিক্ষকদের উৎসব ভাতা ৫০ শতাংশ করার প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে কর্মচারীদের উৎসব ভাতা বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়নি।
এই ধরনের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের আমলা বা এদেশের সরকারের পক্ষেই একমাত্র নেওয়া সম্ভব। এই ধরনের সিদ্ধান্ত কোন যুক্তিতে নেওয়া হল তার বোধগম্যতা রয়েছে শুধুমাত্র আমাদের আমলাদের নিকট। আশা করি পরবর্তীতে তারা এ-র যৌক্তিকতা পরিস্কার করে বলবেন।
মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখার এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।
নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে ওই কর্মকর্তা জানান, ‘শিক্ষকদের উৎসব ভাতা ২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। কর্মচারীরা আগে থেকেই ৫০ শতাংশ উৎসব ভাতা পাচ্ছেন। কাজেই তাদের উৎসব ভাতা বৃদ্ধির কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এ সংক্রান্ত কোনো প্রস্তাবও অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়নি।’
এর আগে গত ৫ মার্চ বিদায়ী শিক্ষা উপদেষ্টা ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ শিক্ষকদের উৎসব ভাতা, বিনোদন ভাতা, বাড়ি ভাড়াসহ অন্যান্য ভাতা বাড়ছে বলে জানান।্
আরও পড়ুন……এমপিও শিক্ষদের বোনাস বৃদ্ধির পরিমাণ সমন্ধে যা জানাল মন্ত্রণালয়।
তিনি বলেন, ‘কয়েকমাস আগেই আমি সবাইকে আশ্বাস দিয়েছিলাম, সাধ্যমত এ বছর এবং আগামী বছরের বাজেটে যতটুকু অর্থ সংকুলন করা যায়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বসে আমরা যতদূর পারি চেষ্টা করব দাবিগুলো মেটাতে।’
উপদেষ্টা বলেন, ‘কিন্তু, ১৫/২০ বছরের বঞ্চনা ১/২ বছরের বাজেট দিয়ে তো মেটানো যায় না। এটা বোঝানো খুব কঠিন। আজকেই বেসরকারি বেতন সরকারি বেতনের সমান করে দিতে হবে- এটা ন্যায্য দাবি বুঝলাম, কিন্তু এক বছরের বাজেট দিয়ে কীভাবে ১৫ বছরের বৈষম্য ঠিক করা যায়? কিন্তু শুরুটা করা দরকার। সেই শুরুটা আমরা করে দিয়ে যাচ্ছি।’
ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘তাদের (এমপিওভুক্ত শিক্ষক) উৎসব ভাতা, বিনোদন ভাতা, বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা- এ বছরের ঈদুল আজহা থেকে শুরু করে আগামী বছরের বাজেট থেকে অন্তত কিছু বাড়াতে পারবো, এখানেও আমি ঘোষণা দিচ্ছি না কত বাড়াবো। আমি জানি সেটুকু বাজেটের মধ্যে এ বছর এবং আগামী বছরের বাজেটের মধ্যে প্রভিশন রাখা হচ্ছে।’
Leave a Reply