সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, কতিপয় প্রতিষ্ঠান প্রধানগণ সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে ক্ষমতা প্রয়োগ করে বিগত সময়ে বিদ্যালয় পরিচালনা করেছেন যা এখনো বিদ্যমান। যা প্রাতিষ্ঠানিক শৃংখলা পরিপন্থী হিসেবে বিবেচিত। বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও পাঠদান কার্যক্রমকে গতিশীল করতে নিম্নোক্ত নির্দেশনা অনুসরন করে বিদ্যালয় পরিচালনা করতে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।
১। প্রতিষ্ঠান প্রধানগণ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটরের মাধ্যমে যাবতীয় লেখালেখির কাজ, অনলাইন ভর্তি, রেজিষ্ট্রেশন, ফরম ফিলাপ, বৃত্তি, উপবৃত্তির তথ্য আপলোড, প্রেরণ, রেজাল্ট সংরক্ষন, প্রেরণ, অনলাইন টিসি আদান প্রদান সহ সকল প্রশাসনিক কাজ সম্পন্ন করবেন।
২। প্রতিষ্ঠান প্রধান শিক্ষক দুজন অভিজ্ঞ শিক্ষকের সমন্বয়ে একটি কমিটির মাধ্যমে বিদ্যালয়ের হালনাগাদ তথ্য আপলোড করবেন।
৩। প্রতিষ্ঠান প্রধান বিদ্যালয় লাইব্রেরীর গ্রন্থ সম্পর্কীয় যাবতীয় কাজ গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান শিক্ষকের মাধ্যমে সম্পন্ন করবেন।
৪। অভ্যন্তরীন পরীক্ষার প্রশ্ন প্রনয়ণ বিষয় শিক্ষক নিজে করবেন। পরীক্ষার বিষয় ভিত্তিক নম্বর বিষয় শিক্ষক ও শ্রেণী শিক্ষক আপলোড করবেন।। অভ্যন্তরীন পরীক্ষার প্রশ্ন ডাউনলোড প্রতিষ্ঠান প্রধান/ সহঃ প্রতিষ্ঠান প্রধানের উপস্থিতিতে স্ব স্ব বিষয় শিক্ষকের মাধ্যমে সম্পন্ন করবেন।
৫। বিদ্যালয়ে কম্পিউটার ল্যাব থাকলে বিধি মোতাবেক ল্যাব অপারেটর নিয়োগ করবেন। কম্পিউটার ল্যাব পরিচালনা, রক্ষনাবেক্ষন, ল্যাব সংক্রান্ত সকল তথ্য প্রেরণ সহ সকল কাজ ল্যাব অপারেটরের মাধ্যমে সম্পন্ন করবেন।
৬। বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম থাকলে প্রত্যেক শিক্ষক পাঠদানের প্রয়োজন অনুযায়ী নিজে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস নিবেন ও প্রযুক্তি সংক্রান্ত সকল নিজ
নিজ কাজ নিজেই সম্পন্ন করবেন।
৭। বিদ্যালয়ের তথ্য সংগ্রহ, প্রেরণ সংক্রান্ত কাজ প্রধান শিক্ষক/ সহঃ প্রধান শিক্ষক করবেন। প্রয়োজনে অফিস সহকারীর সহায়তা নিতে পারেন।
৮। পরিলক্ষিত হয়েছে যে, কতিপয় প্রতিষ্ঠান প্রধানগণ পূর্বের নির্দেশনা অমান্য করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির শিক্ষককে দিয়ে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজ করাতে বাধ্য করছেন। যাহা ক্ষমতার অপব্যবহারের সামিল। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির শিক্ষক পদমর্যাদায় অন্য শিক্ষকের সমকক্ষ। তিনিও শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করেন। তিনি অফিস সহকারী কিংবা কম্পিউটার অপারেটর নন। কম্পিউটার শিক্ষককে দিয়ে কোন অবস্থায় বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজ করাতে বাধ্য করা যাবে না। কম্পিউটার শিক্ষক তার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে কারিগরি পরামর্শ প্রদান করবেন।
১০। প্রধান শিক্ষকগণ বিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মচারী হাজিরা খাতায় জ্যেষ্ঠতা অনুসরণ করবেন। প্রত্যেক শিক্ষকের অবশ্যই জ্যেষ্ঠতা ভিত্তিক নির্ধারিত আসন বিন্যাসের ব্যবস্থা করবেন। কোনো অবস্থায় কাজের আসনের সাথে নির্ধারিত আসনের সমন্বয় করা যাবে না।
৯। বিদ্যালয়ের প্রত্যেক শিক্ষক কর্মচারী সকল ক্ষেত্রে তার নিজের দায়িত্ব নিজে পালন করতে সচেষ্ট থাকবেন।
এমতাবস্থায় উপরোক্ত নির্দেশনার যথাযথ বাস্তবায়ন বাধ্যতামূলক। এর ব্যত্যয় ঘটানো প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমপিও স্থগিত সহ বিধি মোতাবেক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Leave a Reply